সাগরে জেলেদের নির্যাতন করে ২ জেলেকে অপহরণের অভিযোগ

258
gb

 জিবিনিউজ24 ডেস্ক:বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় বরগুনার পাথরঘাটার এফবি মনোয়ারা ট্রলারের ১৫ জেলেকে নির্যাতন করে দুই জেলেকে অপহরণ করার খবর পাওয়া গেছে। গভীর সমুদ্রে এফভি শাহ বদর-১ নামের  ট্রলিং জাহাজের (বড় আকারের মাছ ধরার জাহাজ) নাবিকদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করে গতকাল সোমবার রাতে পাথরঘাটা থানায় সাধারণ ডায়রি করা হয়েছে।

এ ঘটনাটি ঘটেছে পাথরঘাটা থেকে ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে।

এ ব্যাপারে আজ মঙ্গলবার বরগুনা জেলা মৎস্যজীবি ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী ও  ট্রলার মালিক মো. নুর আলম জানান, পাথরঘাটা উপজেলার মঠেরখাল গ্রামের ট্রলার মালিক ১৫ জেলেকে নিয়ে সাত দিন আগে (১৩ ডিসেম্বর) সাগরে মাছ ধরতে যায়। রাতে মাছ ধরা রত অবস্থায় একটি ট্রলিং জাহাজ (বড় আকারের মাছ ধরার জাহাজ) তাদের ট্রলারে কাছে গিয়ে পাথর, ইটের টুকরা ও লৌহ খণ্ড এলোপাথারি ভাবে ছুড়তে থাকে। এফবি মনোয়ারা ট্রলারের জেলেরা প্রাণপণ বাচাঁর চেষ্টা করেও তাদের ধরে ফেলা হয়। নিক্ষিপ্ত  পাথর ও লোহার টুকরা গায়ে লেগে ১০ জেলে আহত হয়। জাহাজের নাবিকরা ট্রলারের জাল, টাকা পয়সা ও মোবাইল ফোন লুট করে এবং  ট্রলারে থাকা জেলেদের মধ্য থেকে মো. আবু তৈয়ব (৩৫) ও মো. ছোবাহান(১৮) নামে ২ জেলেকে ট্রলিং জাহাজে তুলে নিয়ে গভীর সাগরে চলে যায়।

তারা আরো জানান, তিন দিনেও তাদের ফেরত দেওয়ার জন্য যোগাযোগ করেনি বলে জেলে পরিবার থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

ওই ট্রলার মালিকের বরাত দিয়ে গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, ১৩ ডিসেম্বর এফবি মনোয়ারা ট্রলারে ১৫ জন জেলে সাগরে মাছ ধরতে যায়। পরে এফভি শাহ বদর ট্রলিং জাহাজ ট্রলারের পাশে গিয়ে এলোপাথারি ইটপাটকেল ও শিকলের অংশবিশেষ তাদের গায়ে নিক্ষেপ করে।

এতে ওই ট্রলারের ১৫ জনের মধ্যে অন্তত ১০ জন জেলে আহত হয়। এ সময় জাহাজের নাবিকরা ট্রলারে ওঠে দুই জেলেসহ ট্রলারের মাছ, জাল ও সকল রসদ সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়।

এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে চট্টগ্রামের সামুদ্রিক মৎস্য অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. জহিরুল ইসলাম   বলেন, ট্রলিং জাহাজের স্টাফদের সাথে কথা হয়েছে, জেলেরা জাহাজে অবস্থান করছে।

২১ ডিসেম্বর ওই ট্রলিং জাহাজ চট্টগ্রাম ঘাটে ফিরলে আটক জেলেদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে এবং বিষয়টির ব্যাপারে উভয় পক্ষের কথা শুনে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে পাথরঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা মো. খবীর আহমেদ বলেন, ট্রলার মালিক থানায় জিডি করেছে। আমি সামুদ্রিক মৎস্য অধিদপ্তরের পরিদর্শকের সাথে কথা বলেছি।