গতরাত থেকেই গ্রাহককে মোবাইল সেবায় খরচ করতে হচ্ছে বাড়তি টাকা

73
gb

জিবিনিউজ 24 ডেস্ক //

বাজেট ঘোষণার পর গতরাত (শুক্রবার) থেকেই গ্রাহককে মোবাইল সেবায় খরচ করতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। এর প্রভাব শুধু ফোনে কথা বলাতে নয়, পড়েছে ইন্টারনেট ব্যবহারেও। এতে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন প্রান্তিক মানুষও। গত কয়েক বছরে ফ্রিল্যান্সিং ও অনলাইন ব্যবসায় যারা দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে আসছিলেন মোবাইল কলের এই বাড়তি হার, তাদের জন্য এখন বিষফোঁড়া।

বাংলাদেশের উন্নয়নে বড় ধরনের অবদান রাখতে শুরু করেছে ‘ডিজিটাল অর্থনীতি’। ২০১৯ সালে অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, অনলাইন শ্রমশক্তির সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী হচ্ছে ভারত, যাদের প্রায় ২৪ শতাংশ গ্লোবাল ফ্রিল্যান্সার ওয়ার্কার আছে। এর পরের অবস্থানটিই বাংলাদেশের। করোনাকালে দেশের সীমানা বন্ধ থাকলেও অনলাইনে তারা কাজ করেছেন বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে।

আউটসোর্সিং ছাড়াও শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি নারীদের কর্মসংস্থানেও এই ইন্টারনেটভিত্তিক ফ্রিল্যান্সিং ও ব্যবসা অবদান রাখছে এই সময়ে। কিন্তু অনলাইন কেনাকাটায় বাড়তি অর্থ গোনা ও তার ওপর যোগাযোগের খরচ বেড়ে যাওয়া সেবাকেন্দ্রিক সবগুলো খাত হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা তাদের।

ফ্রিল্যান্সিং এর সঙ্গে জড়িত একজন বলেন, ‘যারা ফ্রিল্যান্সিং করে তাদের সারাক্ষণই ইন্টারনেটের সাথে থাকতে হয়। সুতরাং সেই খরচটা আগের তুলনায় বাড়বে।

এছাড়া গ্রামে যারা মুঠোফোনে কৃষি সেবা নিতেন তারাও এই বাড়তি মূল্য নির্ধারণে বিপাকে পড়বেন।

দূরে থেকেও কাছে থাকুন অথবা ইন্টারনেটে মানুষের প্রয়োজন মেটাতে ফেইসবুক টুইটার ইউটিউবের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভিত্তিক অনলাইন প্রতিষ্ঠান যখন নানা সুযোগ সৃষ্টি করছে তখন মোবাইল সেবার উপর বাড়তি হার বন্ধ করবে শিক্ষার্থী ও তরুণদের নতুনকে জানার পথটিও।

এদিকে টেলি যোগাযোগে উচ্চ কর নির্ধারণ বাধার মুখে ফেলবে ডিজিটাল সেক্টরকে উল্লেখ করে বাড়তি ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে অপারেটররা। তাইমুর রহমান সময় নিউজ ডট টিভিকে বলেন, ‘সরকার ইতিমধ্যে উচ্চ করের বোঝা
দিয়ে টেলিকম সেবা গ্রহণ করছেন। এই পরিস্থিতিতে সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধিতে স্বল্প আয়ের মানুষদের উপর প্রভাব ফেলবে।’

২০২০ -২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মোবাইলে সিম ও রিম ব্যবহার সেবার বিপরীতে সম্পূরক শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়। এরপরই বৃহস্পতিবার রাত থেকে বাড়তি এই অর্থ গুণতে হচ্ছে গ্রাহকদের।