সাতক্ষীরার আশাশুনিতে এক নারীকে মোবাইলে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ ও ধর্ষণের ভিডিও চিত্র ধারণ করার অভিযোগে গ্রেপ্তার-১

79

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার আশাশুনিতে এক নারীকে কৌশলে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ ও ধর্ষণের ভিডিও চিত্র ধারণ করে ব্লাক মেইলিং করার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উপজেলার কচুয়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে শুক্রবার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে শনিবার আদালতে মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে পাঠায়। গ্রেপ্তারকৃত ধর্ষকের নাম আমানুল¬াহ ওরফে সবুজ (৪০)। তিনি কচুয়া গ্রামের আনারুল ইসলামের ছেলে। আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কবীর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এক সন্তানের জননী ওই নারী (২৫) জানান, উপজেলার নাকনা গ্রামের এক দিনমজুরের সঙ্গে পাঁচ বছর আগে তার বিয়ে হয়। বর্তমানে চার বছরের এক ছেলে রয়েছে তাদের। অভাবের তাড়নায় স্বামী ভারতে কাজ করতে গিয়ে করোনার কারণে আর বাড়ি ফিরতে পারেন নি। এর ফলে তিনি বাপের বাড়ি কচুয়ায় তার ছেলেকে নিয়ে অবস্থান করছেন। সেখানে লেবানন ফেরৎ আমানুল্লাহ ওরফে সবুজ তাকে বাড়ির বাইরে এলেই কু’প্রস্তাব দিতো। তিন মাস আগে সবুজ তাকে তার বন্ধুর মেয়ের মুখে ভাত অনুষ্ঠানে তাকে যেতে বলে। সেখানে যাওয়ার পর তার বন্ধুর বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণের চিত্র সবুজ মোবাইলে ভিডিও করে। তার কথামত না চললে ওই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়া হয়। একপর্যায়ে দেড় মাস আগে আঙুরের দোকানে ক্যারাম বোর্ড খেলা শেষে সে একই গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে বাপ্পি, মিয়ারাজ সরদারের ছেলে আজাহারুল ও আব্দুল গফুরের ছেলে আব্দুল কাদেরকে সঙ্গে নিয়ে তাদের বাড়িতে যায়। ওই নারী জানান,দরজা জানালা বন্ধ থানায় মোবাইলে সবুজ বলে যে এখনই তোর ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেব। সকালে তোকে গলায় দড়ি দিয়ে মরতে হবে। মরতে হবে তোর বাড়ির লোকজনদের। এক পর্যায়ে দরজা খুলে দিলে ওই চারজন তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এরপর মোবাইল ফোন থেকে ছবি ডিলেট করলেও গুগলে থাকা ছবি তারা ইমোর মাধ্যমে তার কাছে আবারো পাঠায়। ওই নারী আরও জানান,একপর্যায়ে ওই চারজনের কাছে তিনি জিম্মি হয়ে পড়েন। বাধ্য হয়ে বৃহষ্পতিবার বিষয়টি তিনি তার বাবা, মা ও ভ্যান চালক ভাইকে জানান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আজাহারুল বৃহষ্পতিবার রাতে তার বাবা ও ভাইকে বাড়িতে ডেকে চারজন মিলে ব্যাপক মারপিট করেন। বেশি বাড়াবাড়ি করলে বা থানা পুলিশ করলে খুন করার হুমকিও দেন। কোন উপায় না পেয়ে শুক্রবার সকালে আশাশুনি থানায় গিয়ে এজাহার জমা দিলে পুলিশ আমানুল্লাহ ওরফে সবুজকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আমানুল¬াহ ওরফে সবুজ ওই নারীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন ও ভিডিও ফুটেজ ডিলেট করে দিয়েছেন বলেন জানান। ওসি গোলাম কবীর আরও জানান, এ ঘটনায় ধর্ষিতা ওই নারী বাদি হয়ে ধর্ষণ ও ধর্ষণে সহায়তা করার অভিযোগে চার জনকে আসামী করে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (১) ধারায় একটি মামলা দায়ের করলে প্রধান অভিযুক্ত আমানুল্লাাহ ওরফে সবুজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, শনিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। একই সাথে ওই নারীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য সাতক্ষীরা সদর হপাসপাতালে ও ২২ ধারায় জবানবন্দির জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে।##