গাইবান্ধায় বন্যা কমতে থাকায় ব্যাপক ভাঙ্গন শুরু

গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি
গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীর পানি কমতে শুরু করলেও বন্যা পরিস্থিতি এখনও অপরিবির্তত রয়েছে। এছাড়া বন্যার পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নদী ভাঙনও তীব্র আকার ধারণ করেছে। শনিবার ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপৎসীমার ৬৬ সে.মি. ও ঘাঘট নদীর পানি বিপৎসীমার ৩১ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এদিকে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ বা উঁচু স্থানে আশ্রিত বানভাসি মানুষ এবং বন্যা কবলিত এলাকার বসতবাড়িতে অবস্থানকারি পানিবন্দী মানুষদের শুকনা খাবার, বিশুব্ধ পানি, পয়:নিস্কাশন সমস্যা ও গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে । জেলার সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা, ফুলছড়ি ও সদর উপজেলার ২৬টি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত হয়ে পড়ায় ১ লাখ ২২ হাজার ৩২০ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যা দুর্গত মানুষের জন্য এ পর্যন্ত ২শ’ মে. টন চাল ও ১৩ লাখ টাকা সরকারি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বন্যা দুর্গত ৪টি উপজেলায় ৬১টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। এদিকে কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত ফসলসহ প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এতে চিনা বাদাম, আউশ ধান ও পাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ইতোমধ্যে কৃষি বিভাগ ১শ’ ৫ একর উঁচু জমিতে বীজতলা তৈরী করেছে। যা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে। অন্যদিকে সাঘাটার হলদিয়ার ৪৪ বছরের পুরান স্কুলটি নদীগর্ভে বিলীন গাইবান্ধায় সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলায় ব্যাপক নদী ভাঙনে বিপন্ন মানুষ নদী ভাঙনে ॥ সাড়ে ৫ হাজার পরিবার নতুন করে ভাঙন কবলিত হয়েছে। টানা বর্ষণ আর উজানের ঢলে সৃষ্ট বন্যার পানি কমতে থাকায় গাইবান্ধার সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার নদী ভাঙন তীব্র ভাঙন আকার ধারণ করেছে। এতে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার পরিবার ভাঙন কবলিত হওয়ায় মানবেতর জীবন যাপন করছে। ইতোমধ্যে যমুনা নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবনটি। এছাড়া ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে আশেপাশের দু’শতাধিক বসতবাড়ী। ফলে ভাঙন কবলিত মানুষ দ্রুত তাদের বাড়িঘর সরিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত ২৪ ঘন্টায় গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠসহ দু ৩৯ টি শ্রেণি কক্ষ নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে। যে কোন সময় সম্পূর্ণ ভবনটি নদীতে বিলিন হতে পারে আশংকায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাকি শ্রেণি কক্ষগুলোর টিনের চাল, চেয়ার, টেবিল ও বেঞ্চসহ অন্যান্য সরঞ্জাম দ্রুত অন্যত্র সরে নিয়ে যাচ্ছে। এদিকে ফুলছড়ি উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে ব্যাপক নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙনে চরম হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের জিগাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি বাজার, নুরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসা, ঈদগা মাঠ, একটি বিএস কোয়াটার, এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র, দুটি জামে মসজিদ, ৩টি মোবাইল টাওয়ার ও একটি বাজার এখন মারাত্মকভাবে ভাঙন কবলিত। এছাড়া সাঘাটা উপজেলার সাঘাটা ইউনিয়নের দক্ষিণ সাথালিয়া, উত্তর সাথালিয়ার ফ্লাড সেন্টার, গোবিন্দী, হাটবাড়ি, বাঁশহাটা, হাসিলকান্দি মৌজার প্রায় ২শ’ পরিবারের ঘরবাড়ী নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙ্গনের শিকার এসব পরিবার অন্যত্র গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে।

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন Accept আরও পড়ুন