ঝিনাইদহে ভাঙা ঘরে চাঁদের আলো

32
gb
2

ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধিঃ

প্রাইভেট পড়া তো দূরের কথা অভাবের সংসারে ঠিকমতো দুবেলা দুমুঠো খাবারই জোটেনি মেধাবী আসমানীর। জোটেনি ভালো পোশাকও। সহপাঠীরা সবাই ইঞ্জিনচালিত গাড়িতে স্কুলে আসা-যাওয়া করলেও দিনমজুর বাবার পক্ষে টাকা দেয়া সম্ভব ছিল না।তাই সারা বছর বাড়ি থেকে প্রায় চার কিলো রাস্তা পায়ে হেঁটে স্কুলে ক্লাস করতে হয়েছে তাকে। এসব অভাবকে মাড়িয়ে সে এ বছর এসএসসিতে মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছে।আসমানী খাতুন ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের ডাউটি গ্রামের ওলিয়ার মোল্যার মেয়ে ও কোলাবাজার ইউনাইটেড হাইস্কুলের ছাত্রী।মেয়ের এমন ভালো ফলে হতদরিদ্র বাবা-মা খুশি হলেও অন্যদিকে কীভাবে তার কলেজে পড়ানোর খরচ জোগাবেন তা নিয়ে পড়েছেন মহাচিন্তায়।সরেজমিন হতদরিদ্র মেধাবী আসমানীর বাড়িতে গেলে দেখা যায়, একটুখানি জমির ওপর ভাঙাচোরা মাটির দেয়াল ও বেড়ার একটি ঘর। এর পাশেই রয়েছে ছনের ছাউনি ও পাটকাঠি দিয়ে ঘেরা আরেকটি ঝুপড়িঘর। সেখানে আসমানীদের বাস।মেধাবী আসমানী জানায়, আমার বাবা-মা লেখাপড়া জানেন না। তার পরও তারা আমার লেখাপড়া শেখাতে যে কষ্ট করেন তা দেখে আমার নিজেরই খারাপ লাগে। বাবা-মায়ের এমন চেষ্টায় আমার নিজের ভেতরেও সবসময় ভালো ফলের জন্য জিদ কাজ করত। তাই বেশি করে পড়াশোনা করতাম। এখন কলেজে ভর্তি হয়ে কীভাবে লেখাপড়ার খরচ আসবে সে চিন্তায় পড়েছি পরিবারে সবাই মিলে। আসমানীর বাবা ওলিয়ার রহমান মোল্যা জানান, প্লাস কি আমি বুঝি না; তবে মানুষে বলছে আমার মেয়ে ভালো ফল করেছে।তিনি বলেন, দুই মেয়ে ও এক ছেলে মধ্যে বড় মেয়ে রিক্তা খাতুনকে বিয়ে দিয়েছি। আর ছেলে সাব্বির হোসেন তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। বসতবাড়ির ৫ শতক ছাড়া মাঠে কোনো চাষযোগ্য জমি নেই। সারা বছর পরের ক্ষেতে কামলার কাজ করে সংসার চালাতে হয়। তার পরও সবসময় কাজ থাকে না। অভাবের সংসারে মেয়ের লেখাপড়ার খরচ ঠিকমতো জোগাতে পারিনি। টাকার অভাবে তার ভালো পোশাক ও স্কুলে যাওয়া-আসার খরচ দিতে পারেনি। এখন শুনছি মেয়ে পরীক্ষায় ভালো করেছে। কিন্তু কীভাবে কলেজের খরচ আসবে এখন বসে বসে সে চিন্তাই করছি।বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মোজাফ্ফর হোসেন জানান, আমার পাশের গ্রামে আসমানীদের গ্রাম। মেয়েটির বাবাও অত্যন্ত নিরীহ প্রকৃতির সাদামাটা ও খেটে খাওয়া একজন মানুষ। কোলাবাজার ইউনাইটেড হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুল ওহাব জোয়ার্দার জানান, হতদরিদ্র বাবার মেয়ে আসমানী অত্যন্ত ভদ্র। বিদ্যালয়ে এসে সে সবসময় চুপচাপ থাকত। ক্লাসে সবসময় থাকত মনোযোগী। আসমানী জিপিএ-৫ পাওয়ায় বিদ্যালয়ের সব শিক্ষক-কর্মচারী খুশি।

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন Accept আরও পড়ুন