সরকার জনগনকে অনিশ্চিত গন্তব্যে ঠেলে দিচ্ছে : কৃষক-শ্রমিক মুক্তি আন্দোলন

48
gb
5

দেশে করোনা সংক্রমণের হার যখন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আতঙ্কজনক, সেই পর্যায়ে অফিস, প্রতিষ্ঠান, গণপরিবহণ চালুর সরকারি সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা প্রকাশ করে জাতীয় কৃষক-শ্রমিক মুক্তি আন্দোলন অভিমত প্রকাশ করেছেন যে, করোনা নিয়ন্ত্রনে সরকারের চরম ব্যর্থতা আর খামখেয়ালিপনার কারণে দেশের জনগনের জীবন এখন চরম হুমকির মুখে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ এবং স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞদের মতামতকে উপেক্ষা করে সরকার সব কিছু খুলে দেয়া ও গণপরিবহণ চালুর সিদ্ধান্ত বিস্ময়কর ও আত্মঘাতী।

শুক্রবার (২৯ মে) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে সংগঠনের আহ্বায়ক এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা ও সমন্বয়ক মো. মহসিন ভুইয়া এসব কথা বলেন।

তারা বলেন. করোনা সংক্রমণ যে ভাবে বৃদ্ধি হচ্ছে তাতে যখন কার্যকর লকডাউন প্রয়োজন, তখন সরকার তার উল্টো পথে হাঁটছে। মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। সরকার জনগনকে অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। করোনা-সংক্রমণের শুরু থেকেই সরকার দায়িত্বহীনতা, সমন্বয়হীনতার পরিচয় দিয়ে আসছে।

নেতৃত্রয় বলেন, সাধারন মানুষের জীবন আর জীবিকাকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টার অংশ হিসাবেই সরকার এই ধরনের আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছে। অবস্থাদৃষ্টে প্রতিয়মান হচ্ছে সরকার তার ব্যর্থতার দায় জনগণের ওপর চাপিয়ে দিতে চাইছে। যেখানে জনস্বাস্থ্য-বিশেষজ্ঞরা কারফিউ জারির মতো পরামর্শ দিচ্ছেন, সেখানে সরকার তা আমলে নিচ্ছে না। মালিক শ্রেণির স্বার্থ ও চাপে, আমলাতন্ত্রের দাবি-পরামর্শ ইত্যাদির ওপরে নির্ভর করে, সরকার একের পর এক আত্মঘাতী, স্ববিরোধী ও বিপজ্জনক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে।

বিশেষজ্ঞরা যেখানে মনে করছেন ‘সব কিছু খুলে দিলে সর্বনাশের চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছবে বাংলাদেশ। আর এ কারনেই ছুটি শেষ নয়, আর নতুন করে ছুটিও নয় বরং আগামি সাত থেকে দশদিন কারফ্যু প্রয়োজন।’ সেখানে কি মনে করে সরকার এই আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে প্রশ্ন করে তারা বলেন, যেখানে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন জুনের ১৫ তারিখের পর দেশে করোনা সংক্রমণ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানো এবং তারপর থেকে সংক্রমণ কমার সম্ভাবনা রয়েছে, তখন ৩১ মে থেকে সব খুলে দেয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত জনগণের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা এবং চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় বহন করে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, আসন্ন মহাদুর্যোগ মোকাবেলা করতে অফিস, প্রতিষ্ঠান ও গণপরিবহণ চালুর বিপজ্জনক সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে। শুধু ‘সাধারণ ছুটি’র নামে ঢিলেঢালা লকডাউন নয়, কঠোর ‘লকডাউন’ কার্যকর করতে হবে। তার জন্য সাধারণ জনগনের ঘরে ঘরে প্রয়োজনে সেনা-সহায়তায় খাবার পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। লুটপাটকারীদের পকেট ভারী না করে, অভুক্ত মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে। করোনা-সংকট মোকাবিলায় বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ও দেশের জনস্বাস্থ্য-বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ-সুপারিশ অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

 

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন Accept আরও পড়ুন