হাসপাতাল থেকে পালিয়ে করোনাভাইরাস ছড়াচ্ছিলেন আক্রান্ত রোগী

119
gb
4

জিবি নিউজ ডেস্ক ।।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল থেকে পালিয়ে করোনাভাইরাস ছড়াচ্ছিলেন আক্রান্ত রোগী। আক্রান্ত ঐ রোগীকে পুলিশ তাকে ধরে আবারও হাসপাতাল ফেরত পাঠিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার পর ওই ব্যক্তি পাগলের মতো আচরণ করতে থাকেন, যার তার সাথে মিশতে থাকেন। পুলিশ বুঝতে পেরে তাকে কৌশলে আটকে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে হাসপাতালে পাঠায়।

সোমবার (২৫ মে) রাতে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল থেকে আনুমানিক ১০০ গজ দূরে নগরীর আন্দরকিল্লায় ওই ব্যক্তিকে পাওয়া যায়। ওই এলাকা দিয়ে যাবার পথে কোতোয়ালী থানার দুজন উপ-পরিদর্শক (এসআই) সজল দাশ ও মো. তরিকুজ্জামান তাকে দেখতে পান।

কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ‘ঈদের আগের দিন আমরা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন করোনা আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের সিএমপি কমিশনার স্যারের পক্ষ থেকে উপহার দিতে গিয়েছিলাম। তখন আইসোলেশন ইউনিটে থাকা এই রোগী আমাদের সামনে অস্থির আচরণ করেন। সেজন্য তার চেহারা আমি এবং এসআই সজলের চেনা ছিল। গত (সোমবার) রাতে আন্দরকিল্লার মোড়ে আবারও তাকে অসংলগ্ন আচরণ করতে দেখে সজল তাকে চিনে ফেলেন।’

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে এসআই সজল দাশ বলেন, ‘রাত তখন পৌনে ১১টা। আমি ও তরিকুজ্জামান আন্দরকিল্লা মোড় দিয়ে যাচ্ছিলাম। দেখলাম এক লোক রাস্তায় বসে চিৎকার-চেঁচামেচি করছে। কিছু লোকজন রাস্তায় দাঁড়িয়ে তাকে দেখছেন। আমরা এগিয়ে গিয়ে তাকে চিনতে পেরে লোকজনকে প্রথমে সরিয়ে দিলাম। থানায় খবর পাঠিয়ে পুলিশের টিম আনা হল। তার পাশ দিয়ে যাতে কোনো গাড়ি যেতে না পারে, সেজন্য রাস্তায় ব্যারিকেড দেওয়া হল। কিন্তু একটি প্রাইভেট কার ব্যারিকেড উপেক্ষা করে তার পাশে গিয়ে হঠাৎ থেমে যায়। আমরা সেটিকে বারবার চলে যাবার জন্য সংকেত দিচ্ছিলাম। ততক্ষণে কারের খোলা জানালা ধরে ঝুলে পড়েন ওই রোগী।’

‘কারটি সিরাজউদ্দৌলা রোডের দিকে চলে যাবার সময় পেছন পেছন দৌড়ে ওই রোগী কিছুদূর যান। আমরা গিয়ে তাকে কর্ডন করে রাখি। পরে আলা মানাহিল নামে একটি সেবাসংস্থার একটি অ্যাম্বুলেন্স দেখে সেটিতে তুলে দিই তাকে। ওই অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া হয়। ওই রোগী বারবার মুন্সীগঞ্জে বাড়ি পৌঁছে দেবার জন্য চিৎকার করছিল এবং অসংলগ্ন আচরণ করছিল। তার বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর। ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন বলে জানিয়েছেন।’ বলেন এসআই সজল।

ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন,‘ওই ব্যক্তিকে পাওয়ার পরই আমি জেনারেল হাসপাতালে যোগাযোগ করি। তারা তাদের রোগীর তালিকা দেখে একজন মিসিং বলে আমাকে জানিয়েছিলেন। পরে ওই রোগীকে আবারও পৌঁছে দেওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের ধন্যবাদ জানান।’

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক অসীম কুমার নাথ বলেন, ‘আমাদের করোনা ইউনিট থেকে একজন রোগী রাতে বের হয়ে গিয়েছিলেন বলে শুনেছি। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে দিয়ে গেছেন।’

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন Accept আরও পড়ুন