মহামান্নিত শবে কদরের উছিলায়, আল্লাহ আমাদের দুনিয়া এবং আখেরাতে শান্তি দান করুন

62
gb
1

মো: রেজাউল করিম মৃধা।|

লাইলাতুল কদর বা ‘শবেকদর’ হিসেবে পরিচিত। তাই এ রাতকে বিশ্বের মুসলমানরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পালন করেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা এ রাতকে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
‘কদর’ শব্দের অর্থ পরিমাণ নির্ধারণ ও হুকুম। যেহেতু এ রাতে সৃষ্টিকুলের ভাগ্যলিপিতে নির্ধারিত অংশের যেটুকু এ রমজান থেকে পরবর্তী রমজান পর্যন্ত বাস্তবায়নযোগ্য, তা ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আদিষ্ট ফেরেশতাদের কাছে স্থানান্তর করা হয়। তাই এ রাতের নামকরণ করা হয় ‘লাইলাতুল কদর’।
শবে কদরের ফীজলত সম্পর্কে আল্লাহর নবী ও আমাদের প্রিয় বলেন: যে ব্যাক্তি শবে কদরের রাত্রে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখে সওয়াবের আশায় এবাদত করে আল্লাহ তার পূর্বকৃত সকল পাপ ক্ষমা করে দিবেন (বোখারী ও মুসলিম)।
রমজান মাস কোরআন নাজিলের মাস, শবে কদর কোরআন নাজিলের রাত। এ রাতেই প্রথম পবিত্র মক্কা মুকাররমার জাবালে নূর, তথা হেরা পর্বতের গুহায় মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে ফেরেশতাদের সরদার হজরত জিবরাইল (আ.)–এর মাধ্যমে বিশ্ব নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর প্রতি মহাগ্রন্থ আল–কোরআন অবতীর্ণ হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘রমজান মাস! যে মাসে কোরআন নাজিল হয়েছে মানবের দিশারিরূপে ও হিদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শন হিসেবে’ (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ১৮৫)।
শবে কদরের বিশেষ আমলসমূহ হলো নফল নামাজ-তাহিয়্যাতুল অজু, দুখুলিল মাসজিদ, আউওয়াবিন, তাহাজ্জুদ, ছলাতুত তাসবিহ, তাওবার নামাজ, সলাতুল হাজাত, সলাতুশ শোকর ও অন্যান্য নফল ইত্যাদি পড়া। সুরা কদর, সুরা দুখান, সুরা মুজ্যাম্মিল, সুরা মুদ্দাচ্ছির, সুরা ইয়া-সিন, সুরা ত-হা, সুরা আর রহমান ও অন্যান্য ফজিলতের সুরা তিলাওয়াত করা; দরুদ শরিফ বেশি বেশি পড়া; তাওবা ইস্তিগফার অধিক পরিমাণে করা; দোয়া কালাম, তাসবিহ তাহলিল, জিকির আসকার করা।বেশী বেশী আল্লাহর কাছে দোওয়া করা এবং মাফ চাওয়া। এই মহামান্নিত রাতের উছিলায় আল্লাহ আমাদের কে মাফ করে দিবেন।
এবার করেনাভাইরাস মহামারি জন্য মসজিদে যেতে না পারলেও ঘরে বসেই বেশী বেশী দোওয়া করি।
নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে শবে কদর সন্ধান করো’ (মুসলিম)। এ রাতগুলো হলো ২১,২৩, ২৫,২৭ ও ২৯। আরবিতে দিনের আগে রাত গণনা করা হয়। অর্থাৎ ২০,২২, ২৪,২৬ ও ২৮ রমজান দিবাগত রাতসমূহ। ‘লাইলাতুল কদর’ শব্দদ্বয়ে ৯টি হরফ বা বর্ণ রয়েছে; আর সুরা কদরে ‘লাইলাতুল কদর’ শব্দদ্বয় তিন তিনবার রয়েছে; ৯–কে ৩ দিয়ে গুণ করলে বা ৯–কে ৩ বার যোগ করলে ২৭ হয়, তাই ২৭ রমজানের রাতে শবে কদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। লাইলাতুল কদরের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো—এ গৌরবময় রজনীতে মানবজাতির পথপ্রদর্শক ও মুক্তির সনদ ঐশীগ্রন্থ ‘আল কোরআন’ অবতীর্ণ হয়েছে। শবেকদর সম্পর্কে কোরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আমি কোরআন নাজিল করেছি লাইলাতুল কদরে। লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।’ (সুরা কদর, আয়াত : ১-৩)
কদরের রাতে অজস্র ধারায় আল্লাহর খাস রহমত বর্ষিত হয়। এ রাতে এত অধিকসংখ্যক রহমতের ফেরেশতা পৃথিবীতে অবতরণ করেন যে সকাল না হওয়া পর্যন্ত এক অনন্য শান্তি বিরাজ করতে থাকে। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, শবে কদরে হজরত জিবরাইল (আ.) ফেরেশতাদের বিরাট এক দল নিয়ে পৃথিবীতে অবতরণ করেন এবং যত নারী-পুরুষ নামাজরত অথবা জিকিরে মশগুল থাকে, তাদের জন্য ফেরেস্তাগন রহমতের দোয়া করেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন।” তোমরা বেশী বেশী করে পড়বে “আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া; ফাফু আন্নি”।
এই দেওয়া ও শবে কদরের উছিলায় আল্লাহ আমাদের জীবনের সমস্ত গুনাহ গুলিকে মাফ করে দিন।আল্লাহ আমাদের দুনিয়া এবং আখেরাতে শান্তি দান করুন। আমিন।

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন Accept আরও পড়ুন