সিলেট সিলেটের চেঙ্গরখালে বড়শিওয়ালাদের মিলনমেলা

452
gb

জিবিনিউজ24 ডেস্ক:

বড়শি পানিতে ফেলে মাছ ধরার মজা সেই জানেন, যিনি এভাবে মাছ ধরেছেন। কারও নেশা এতটাই যে, ছিপ ফেলে অপেক্ষা করেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। মাছ কখন টোপ গিলবে? কখন পড়বে ধরা?

তা ধরা যেমন মাছই পড়ুক শিকারির তখন আনন্দের শেষ থাকেনা। আর যদি সেই মাছটি হয় তিন কেজি বা তার চেয়েও বড়? তাহলে তো কথাই নেই। গ্রাম বা মফস্বলে ছিপ ফেলে মাছ ধরার নেশায় মত্তদের খুঁজে পাওয়া কঠিন না।

তবে এই সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের চেঙ্গরখাল নদীতে কেউ যদি দেখতে চান বড়শিতে মাছ শিকার,  তাহলে বেশিদূর যেতে হবে না।  জালালাবাদ ইউনিয়নের বাদাঘাট নদী, চেঙ্গরখাল, মড়াখাল, দুমখাল, সামাউড়াকান্দি নদীর পাড়, নোয়াগাও কাল, বড়শি ফেলার সুযোগ আছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি শিকারির দেখা মেলে চেঙ্গর খাল নদীর পাড়ে ।

শুক্র এবং শনিবার এখানে বসে বড়শি শিকারিদের মিলনমেলা। টিকিট কাটার পর সকাল সাতটা থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত পানিতে ফেলা যায় বড়শি। নভেম্বর মাসে শুরু হওয়া মাছ শিকার চলবে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

একেক মানুষের শখ একেক রকম। এই শহরে মানুষ চাইলেই একটা শখ অনায়াসে পূরণ করতে পারে না, সেটা হচ্ছে মাছ শিকার। এখানে নেই বিল, খাল থাকলেও মাছ নেই, পুকুর খুঁজতে গেলে হতোদ্যম হতে হবে। কিন্তু পানিতে ছিপ-বড়শি ফেলাতেই যাদের আনন্দ, তারা তো বসে থাকার পাত্র নন। টোপ আর মাছের ‘খেইলে’ যাদের নেশা তারা অবসর পেলেই ছুটে বেড়ান।

বড়শি শিকারী ও বাউল হেলাল খান বলেন, মাছ শিকারের সুযোগ এসেছে। তাই সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়ি মাছ শিকারে, তবে মাছ ধরতে এসে লাভ লোকসানের এমন হিসাব কষলে চলে? এগুলো কেউ চিন্তাও করে না।

যারা বড়শি বেশি ফেলেছেন তাদের বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়েছে এ প্রতিবেদকের সাথে। মাছ কেমন মিলছে?

এমন প্রশ্নের জবাবে অনেকেই বলেছেন,  না! উঠে না। তবে মজা পাই। লেকে ছিপ ফেলে যারা দিনভর বসে থাকেন, তাদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় যখন মাছ তাদের টোপ খায়। তখনি সুতায় পড়ে টান, টোন বা ফাতনা পানিতে ডোবে আর ভাসে। ছিপে টান দিয়ে গোড়ার হুইল দ্রুতলয়ে ঘুরাতে থাকেন শিকারি।

সেদিন খানকিটা হাঁটতেই দেখা গেল, একটি বড়শিকে ঘিরে ভিড়।  বড় একটা বড় গোয়াল মাছ উঠিয়েছেন শিকারি।

তার নাম করিম মিয়া। বললেন, খুব ভালো লাগছে। শূন্য হাতে বাসায় ফিরে যেতে হবে না-বললেন তিনি । মাছ বেশি পেলে বিক্রি করে দেন?-

-‌’না না, যা পাই বাসায় নিয়ে যাই।’

মাছ না পাওয়া এক শিকারি মামুন বলেন, ‘মাছ পাওয়া বড় বিষয় নয়, ছুটির দিনে ছিপ ফেলে বসে থাকলেও মনটা ফ্রেশ লাগে।’ শখের মাছ শিকারি ঘণ্টার পর ঘণ্টা  বড়শি ফেলে বসে থাকেন অপেক্ষায়। কখন মাছ টোপ গিলবে। এটাই তাদের মজা, এটাই তাদের আনন্দ।

এক্ষেত্রে তাদের শখের যোগান দেয় চেঙ্গরখাল এবং কাজিরবাড়ী নদীর পার। চেঙ্গেরখাল নদীতে দেখা মিলবে বেশ কিছু মৎস্য শিকারির। খুব নিরিবিলি, চুপচাপ শান্ত পরিবেশে মাছ ধরছেন তারা। এখানে যার ইচ্ছা সেই মাছ ধরতে পারে।

মোহাম্মাদ আলীর (৫২) পানিতে গভীর মনোযোগ। ২৫ বছর ধরে মাছ শিকার করেন। শুরু করেছিলেন শখের বসে, এখন মাছ ধরা তার নেশা হয়ে গেছে। সিলেটেসহ বিভিন্ন এলাকায় মাছ শিকার করেন তিনি। ২ দিন আগেই ১০ কেজি ওজনের একটি কাতলা মাছ বড়শিতে গেঁথেছিলেন এই শিকারি।