সরকারকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখতে হবে : টিআইবি

351
gb

জিবিনিউজ24 ডেস্ক:

‘দুর্নীতি খারাপ কাজ, সমাজের জন্য একটি মারাত্মক ব্যাধী’ – তাই এর বিরুদ্ধে তরুণদের দৃপ্ত শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে আজ মঙ্গলবার ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস উদযাপন কর্মসূচির শুভ সুচনা করেছে।

এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের চার শতাধিক তরুণ সদস্যা দুর্নীতিবিরোধী এই শপথ গ্রহণ করেছেন।

টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপার্সন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) চত্বরে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই শপথ বাক্য পাঠ করান।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের তরুণ সদস্যরা বুকে হাত রেখে দুর্নীতিবিরোধী শপথ গ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, ৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস। চলতি বছর সরকার ৯ ডিসেম্বর ‘দুর্নীতি বিরোধী দিবস’ হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

টিআইবির নির্বাহি পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, টিআইবি ২০০৪ সাল থেকে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। চলতি বছর সরকার প্রথমবারের মতো জাতীয়ভাবে আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরকার রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রমাণ রাখলো। এখন সরকারকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখতে হবে।

তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করছে। দুর্নীতি করে প্রশ্রয় পেলে তার ব্যপকতা বাড়ে এবং তা ভয়াবহ রুপ ধারণ করে।

তিনি দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদক, প্রশাসন ও আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে দেয়ার ওপর সর্বাধিক জোর দেন।

টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপার্সন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল শপথ বাক্য পাঠ করানোর আগে তরুণদের উদ্দেশ্যে এক সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় বলেন, ‘দুর্নীতি করবো না, মানবো না, প্রশ্রয় দেবো না, এই মানসিকতা হৃদয়ের মধ্যে প্রথিত করতে হবে। ’

তিনি সমাজ থেকে দুর্নীতি দূর করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য উল্লেখ করে বলেন, এই কাজের সাথে তরুণদেরকে বেশি বেশি সম্পৃক্ত করতে হবে। কারণ আজকের তরুণরাই ভবিষ্যতে জাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নেবে। কারণ তরুণরাই পারে সমাজের মৌলিক ও ইতিবাচক ভুমিকা পালন করতে। আজকে বেশকিছু তরুণ এখানে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিচ্ছেন।

তিনি সারা দেশের তরুণদের দুনীতির বিরুদ্ধে আরও দৃপ্ত শপথ ও পদক্ষেপ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।

দুর্নীতি বিরোধী শপথ হলো- 
“বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের উত্তরসূরী হিসেবে
সশ্রদ্ধ চিত্তে শপথ করছি যে,
বাংলাদেশে দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলন
গড়ে তোলার লক্ষে সকল উদ্যোগে
আমি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে সচেষ্ট হব। ”