পবিত্র মসজিদে জুমুয়া-জামায়াতে নামায আদায় সীমিত করা নিয়ে ইফা’র বিতর্কিত বিবৃতিকে শরীয়তবিরোধী প্রমাণ করে মুহম্মদীয়া গবেষণা কেন্দ্র-এর পক্ষ থেকে পাল্টা বিবৃতি

‘করোনা’ নিয়ে কথিত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটে গত ২৯শে মার্চ ইফা’র তথাকথিত মুফতীদের স্বাক্ষর সম্বলিত ‘করোনা ভাইরাস মহামারী আকার ধারণ করার প্রেক্ষাপটে ইসলামের বিধি-বিধান অনুসরণের বিষয়ে দেশের বিশিষ্ট আলেমগণের আহ্বান’ এবং ‘করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে বিরাজমান পরিস্থিতিতে জনগণের সুরক্ষা বিষয়ে দেশের বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরামের আহ্বান’ শীর্ষক দুইটি বিবৃতিকে পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের খিলাফ, আপত্তিকর, বিভ্রান্তিকর, মনগড়া ও দলীলবিহীন উল্লেখ করে পাল্টা বিবৃতি পাঠিয়েছে মুহম্মদীয়া জামিয়া শরীফ গবেষণাকেন্দ্র।
বিবৃতিতে মুহম্মদীয়া জামিয়া শরীফ গবেষণা কেন্দ্রের মুফতী ও আলেমগণ বলেন, করোনাকে সংক্রামক বা ছোঁয়াচে বলে বিশ্বাস করা ও প্রচার করা। অর্থাৎ ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত উল্লেখিত করোনা সংক্রান্ত বৈঠকদ্বয়ে গৃহিত সিদ্ধান্তপত্রে স্বাক্ষরকারী ও সমর্থনকারী তথাকথিত মুফতীরা করোনাকে ছোঁয়াচে বলে নিজেরা বিশ্বাস করে এবং জনগণকে বিশ্বাস করাতে চায়। অথচ পবিত্র শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে ‘ছোঁয়াচে বা সংক্রামক বলে কোনো রোগ নেই’। তাহলে তারা কোন্ দলীলের ভিত্তিতে করোনাকে ছোঁয়াচে বা সংক্রামক বলে বিশ্বাস করছে এবং জনগণকে বিশ্বাস করাতে চাচ্ছে? তা মুসলমানগণ জানতে চায়। অর্থাৎ উল্লেখিত বিষয়ে অবশ্যই তাদেরকে পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস শরীফ থেকে নির্ভরযোগ্য দলীল-আদিল্লাহ পেশ করার জন্য দাবী জানানো হয়।
বিবৃতিতে জুমুয়া ও ওয়াক্তভিত্তিক জামায়াতে ইফা কর্তৃক মুসল্লিগণের সীমিত অংশগ্রহণের বিষয়ে তাদের নির্দেশনা নিয়ে তারা জানান, ‘জামায়াত ও জুমুয়া তরক বা ত্যাগ করা যে জায়িয বা বৈধ এবং পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র সুন্নাহ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ বাদ দিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সকল নির্দেশনা মেনে চলা যে আবশ্যক’ তাদের এই বক্তব্যের স্বপক্ষে অবশ্যই তাদেরকে পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ থেকে দলীল পেশ করতে হবে। তাদের প্রদত্ত বক্তব্যে বাংলাদেশে ব্যাপক মৃত্যুর ঝুঁকির কথা কিসের ভিত্তিতে বলা হয়েছে এবং তা পবিত্র শরীয়তে গ্রহণযোগ্য কিনা সেটাও পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ দ্বারা প্রমাণ করতে হবে। তাছাড়া পবিত্র শরীয়তে চিকিৎসা ও পরামর্শ গ্রহণের ক্ষেত্রে একজন চিকিৎসক বা পরামর্শকের যে গুণাবলী শর্তারোপ করা হয়েছে, সেই গুণাবলী বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আদৌ আছে কিনা তাও পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের ভিত্তিতে প্রমাণ করতে হবে। শুধু তাই নয়; পবিত্র দ্বীন ইসলাম পরিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও চিকিৎসার ক্ষেত্রে পবিত্র শরয়ী ফায়সালা না দিয়ে ইহুদী, নাছারা, বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দ্বারা পরিচালিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (যার দিক নিদর্দেশনা হারামে ভরপুর) পবিত্র শরীয়ত বিরোধী নির্দেশনাসমূহ মেনে চলতে বলা- কতোটুকু গ্রহণযোগ্য সেটাও পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে প্রমাণ করতে হবে।
পাশাপাশি জামাত সংক্ষিপ্ত করা, জুমার বয়ান, খুতবা ও দোয়া সংক্ষিপ্ত করা, বর্তমান সংকটকালে দরসে হাদীস, তাফসির ও তা’লীম স্থগিত রাখা ও বর্তমান পরিস্থিতিতে জামাতের কাতারে ফাঁক ফাঁক হয়ে দাঁড়ানোর বিষয়ে ইফার সিদ্ধান্ত নিয়ে তারা বলেন, জামায়াত, জুমুয়া, খুতবাহ, দোয়া সংক্ষিপ্ত করা, তা’লীম স্থগিত রাখা, জামায়াতের কাতারে ফাঁক ফাঁক হয়ে দাঁড়ানো যে জায়িয বা বৈধ এ ব্যাপারে অবশ্যই তাদেরকে পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ থেকে দলীল পেশ করতে হবে।
বিবৃতিতে তারা বলেন, আশ্চর্যের বিষয় হলো- তারা তাদের বক্তব্যের স্বপক্ষে কোনো দলীল পেশ করেনি বা করতে পারেনি। এতদপ্রেক্ষিতে আমরা তাদেরকে প্রকাশ্য বাহাসের চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি। যদি তারা সত্যবাদী হয়ে থাকে, তাহলে শর্ত সাপেক্ষে প্রকাশ্যে বাহাছে এসে তাদের বক্তব্যের স্বপক্ষে পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ থেকে দলীল পেশ করুক এবং ছোঁয়াচে বিশ্বাস করলে ও মসজিদে জামায়াত-জুমুয়া নিয়ে বিভ্রান্তিকর বিবৃতি দিলে যে মুশরিক ও মুরতাদে পরিণত হবে না, তা তারা প্রমাণ করুক। যদি তারা প্রকাশ্যে বাহাছে না আসে অথবা তাদের বক্তব্যের স্বপক্ষে পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ থেকে দলীল পেশ না করে, তবে অবশ্যই তাদের ব্যাপারে পবিত্র শরয়ী আইন মুতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইনশাআল্লাহ!
মুহম্মদীয়া জামিয়া শরীফ গবেষণাকেন্দ্র থেকে প্রকাশিত উক্ত বিবৃতিতে দেশবরেণ্য যে সকল আলেম-মুফতীগণ স্বাক্ষর করেছেন, এখানে তাঁদের নাম উল্লেখ করা হলো-
১.মুফতীয়ে আযম আবুল খায়ের মুহম্মদ আযীযুল্লাহ, খতীব: তাজ জামে মসজিদ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।
২.মুফতী সাইয়্যিদ শুয়াইব আহমদ, সিনিয়র গবেষক: গবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ, ঢাকা।
৩.হাফিযুল হাদীছ মুফতী মুহম্মদ ফযলুল হক, শাইখুল হাদীছ: মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ মাদরাসা, ঢাকা।
৪.মুফতী মুহম্মদ আলমগীর হুসাইন, খতীব: কদমতলা জামে মসজিদ, ঢাকা।
৫.মুফতী মুহম্মদ জাহাঙ্গীর হুসাইন, প্রধান ফকীহ: মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ মাদরাসা, ঢাকা।
৬.মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম, প্রধান মুফাসসির: মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ মাদরাসা, ঢাকা।
৭.মুফতী মুহাদ্দিছ মুহম্মদ আল আমীন, গবেষক: গবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ, ঢাকা।
৮.মাওলানা মুহম্মদ মুফীজুর রহমান, মুহতামিম: ফালইয়াফরহূ তাহযীবুস সুন্নাহ মাদরাসা, কুমিল্লা।
৯.মুফতী সাইয়্যিদ শাবীব আহমদ, মুয়াল্লিম ও গবেষক: মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ।
১০.মুফতী মুহম্মদ নাজমুল হুদা ফরাজী, খতীব: মাচ্চর হিজবুল্লাহ জামে মসজিদ, রাজৈর, মাদারীপুর।
১১.মুফতী মুহম্মদ আখী সিরাজুদ্দীন, মুয়াল্লিম ও গবেষক: মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ, ঢাকা।
এছাড়াও নি¤েœাক্ত হক্কানী ওলামায়ে কিরাম ও বিশেষজ্ঞগণসহ দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উনারা উপরোক্ত বিষয়ের সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন-
১. হাফিয মাওলানা মুহম্মদ নূরুল আবছার। খতীব: আরেফীননগর, কেন্দ্রীয় কবরস্থান জামে মসজিদ, সিটি কর্পোরেশন, চট্টগ্রাম।
২. মুফতী মুহম্মদ রিদওয়ানুল্লাহ পাটোয়ারী। ভাইস প্রিন্সিপাল: পূর্ব কদমতলী ইসলামিয়া সিনিয়র আলিম মাদরাসা, ঢাকা।
৩. মাওলানা মুহম্মদ আফযালুল হক। সাবেক অধ্যক্ষ: বাছরা সিনিয়র মাদরাসা, রাজারহাট কুড়িগ্রাম।
৪. মাওলানা মুহম্মদ রুহুল আমীন তানভীর। খতীব: যুন নূরাইন জামে মসজিদ, বসুন্ধরা ঢাকা।
৫. মাওলানা মুফতী মুহম্মদ ইবরাহীম খলীল। খতীব: ছাপড়া জামে মসজিদ, গোড়ান, ঢাকা।
৬. মাওলানা মুহম্মদ আব্দুল আউয়াল। ভাইস প্রিন্সিপাল: নাগেশ্বরী কামিল মাদরাসা, কুড়িগ্রাম।
৭. মাওলানা মুহম্মদ আবুল হায়াত। সাবেক অধ্যক্ষ: গোহালবাড়ি দারুল উলুম ফাযিল (ডিগ্রী) মাদরাসা, ভোলাহাট, চাপাইনবাবগঞ্জ।
৮. মাওলানা মুহম্মদ ফারুক হুসাইন। ভোলা, বরিশাল।
৯. মাওলানা মুহম্মদ ফারুক খাঁন। মুহতামিম; মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ মাদরাসা, কক্সবাজার।
১০. মাওলানা মুহম্মদ হারুনুর রশীদ। খতীব: সরদারটারী জামে মসজিদ, মাহিগঞ্জ, সদর, রংপুর।
১১. মাওলানা মুহম্মদ আখলাকুর রহমান। খতীব: উপজেলা জামে মসজিদ, রাজারহাট, কুড়িগ্রাম।
১২. এ বি এম রুহুল হাসান, ফার্মাসিস্ট, ঢাকা।
১৩. ডা. মুহম্মদ মারুফ আলী। এমডি: আল মুত্বমাইন্নাহ মা ও শিশু হাসপাতাল, রাজারবাগ ঢাকা।
১৪. ডা. মুহম্মদ রাশেদুল আবেদীন। নিউইয়র্ক, আমেরিকা।
১৫. মুফতী মুহম্মদ নূরুদ্দীন ইবনে আব্দুল ওয়াদূদ। গবেষক: গবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ, ঢাকা।
১৬. মাওলানা মুহম্মদ নিছারুদ্দীন। খতীব: গাউছুল আযম জামে মসজিদ, পলাশ, নরসিংদী।
১৭. মুফতী মুহম্মদ তোফাজ্জল হুসাইন। অধ্যক্ষ: মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ মাদরাসা, বামৈ, লাখাই, হবিগঞ্জ।
১৮. মাওলানা মুহম্মদ আব্দুল বাছিত খান। খতীব: রাঙ্গামাটি ঝুলন্ত ব্রিজ জামে মসজিদ, রাঙ্গামাটি।
১৯. মাওলানা মুহম্মদ হাবীবুর রহমান। খতীব: বুলনপুর জামে মসজিদ, রাজশাহী।
২০. হাফিজ মাওলানা মুহম্মদ আব্দুল কবীর। খতীব: গাউছুল আযম জামে মসজিদ, মুন্সীগঞ্জ।
২১. হাফিজ মাওলানা মুহম্মদ আবূ শাকের। খতীব: ট্রাক-টার্মিনাল জামে মসজিদ, ঝিনাইদহ।
২২. মাওলানা মুহম্মদ সুলাইমান আলী। সুপার: পূর্বদাখোর দাখিল মাদরাসা, আটোয়ারী, পঞ্চগড়।
২৩. মাওলানা মুহম্মদ আযহারুল ইসলাম। খতীব: ভুরুঙ্গামারী সুন্নতী জামে মসজিদ, নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রাম।
এছাড়াও দেশ-বিদেশের আরো অনেক উলামায়ে কিরাম ও বিশেষজ্ঞগণ ঐকমত্য পোষণ করেন। যা কলেবর বৃদ্ধির আশঙ্কায় নাম উল্লেখ করা হলোনা।
উক্ত বিবৃতির অনুলিপি ইফা সংশ্লিষ্টসহ ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অনেকের নিকটও প্রেরণ করা হয়েছে।

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন Accept আরও পড়ুন