ঈশ্বরের উপস্থিতি বিরাজ করছে রোহিঙ্গাদের মাঝে : পোপ ফ্রান্সিস

958
gb

জিবিনিউজ24 ডেস্ক:

আজ শুক্রবার প্রথমবারের মত রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করে পোপ ফ্রান্সিস বলেছেন, মিয়ানমারের এই নিপীড়িত মুসলিম জনগোষ্ঠীর মাঝেও ঈশ্বর আছেন। একই সাথে তিনি আহ্বান জানিয়েছে, শরণার্থী, নিপীড়িত সংখ্যালু, দরিদ্র আর বিপদগ্রস্ত মানুষকে বিশ্ব যেন ভুলে না যায়।

আজ শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলে আর্চ বিশপস আন্তধর্মীয় ও আন্তমাণ্ডলিক সমাবেশে নির্যাতিত রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ১৬ জনের সঙ্গে কথা বলে এমন মন্তব্য করেন পোপ ফ্রান্সিস।

এর আগে কক্সবাজারের কুতুপালং ও বালুখালী ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদের তিনটি পরিবারকে নিয়ে আসা হয়েছিল ঢাকায়। শুক্রবার বিকালে কাকরাইলের অনুষ্ঠানে তাদের সঙ্গে দেখা হয় পোপের। রয়টার্স লিখেছে, সর্বধর্মীয় সম্প্রীতি সভার শেষভাগে ওই তিন রোহিঙ্গা পরিবারের ১২ পুরুষ আর চার নারী সদস্য যখন দোভাষীর মাধ্যমে তাদের নিদারুণ অভিজ্ঞতার কথা জানাচ্ছিলেন, পোপের মুখে তখন খেলা করছিল বিষাদের ছায়া।

পোপ তাদের বলেন, যারা তোমাদের ওপর পীড়ন চালিয়েছে, যারা তোমাদের আঘাত করেছে, তাদের পক্ষ থেকে আমি ক্ষমা চাইছি। তোমাদের মহৎ হৃদয়ের কাছে আমার আবেদন, আমাদের ক্ষমা কর।

বাংলাদেশ সফরের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার সকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রায় আশি হাজার ভক্তের অংশগ্রহণে এক প্রার্থনাসভায় পৌরহিত্য করেন পোপ। সেখানে তিনি যিশুর বাণীর আলোকে সবাইকে শান্তি ও সম্প্রতির পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকায় ভ্যাটিকান দূতাবাসে গিয়ে পোপের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

সে সময় প্রায় ২০ মিনিট একান্তে কথা হয় তাদের মধ্যে।

এরপর বিকালে কাকরাইলের সেন্ট মেরিস ক্যাথেড্রালে যান পোপ ফ্রান্সিস। তিনি ক্যাথিড্রাল পরিদর্শন করেন এবং পরে বাংলাদেশের বিশপদের সঙ্গে বিশেষ সভা করেন। পরে বিকাল ৫টার পর রিকশায় চড়িয়ে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় আর্চবিশপ হাউজের মাঠে বিশাল তাবুর নিচে আয়োজিত ‘সম্প্রীতি ও শান্তি’ শীর্ষক আন্তঃধর্মীয় ও আত্মমাণ্ডলিক সমাবেশ।

এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, শোলাকিয়ার ইমাম মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ, আইনজীবী ড. কামাল হোসেন, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মঈন খান, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট, ভারতের রাষ্ট্রদূত হর্ষবর্ধন শ্রীংলা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েল উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান, কলামনিস্ট আবুল মকসুদসহ বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার প্রতিনিধিরা।