লালবাগে সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে বাসায় ক্রেতার সমাগম, হাতেনাতে ধরল সেনা সদস্যরা

151
gb
5

সৈয়দ নাজমুল হাসান, ঢাকা || 

করোনা একটি আতঙ্কের নাম, বিশ্ববাসী কাঁপছে। প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে  জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার ইতিমধ্যে  সারাদেশে সব দোকানপাট, মার্কেট , শপিং মল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে । শুধুমাত্র ওষুধ ও খাবার সামগ্রী বিক্রি হয় এমন দোকানপাট আওতামুক্ত  থাকবে।এছাড়া করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য  দেশের প্রতিটি বিভাগ-জেলায় স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা করছে সেনাবাহিনী।পাশাপাশি মাঠে রয়েছেন  নৌ এবং বিমানবাহিনীর সদস্যরাও।

এদিকে লালবাগে সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে সাদাত পেইন্ট এন্ড হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী মোহাম্মাদ কামাল বাসার নীচতলায় ক্রেতাদের কাছে অবাধে মালামাল বিক্রি করে যাচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় অত্র এলাকায় সেনাবাহিনীর একটি ইউনিট করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছিল এবং বিষয়টি  সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট হাসিবের দৃষ্টিতে পড়ে। তিনি  কালবিলম্ব না করে চলে যান ঐ বাড়ীতে এবং হাতেনাতে ধরে ফেলেন ব্যবসায়ীকে। এই ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ছুটে আসেন ২৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলহাজ হাসিবুর রহমান মানিক। পরে ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও কর্তব্যরত সেনা কর্মকর্তা কঠোর হাতে বিষয়টি তদন্ত করে এই ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য অপরাধীদেরকে নির্দেশ দেন।

লেফটেন্যান্ট হাসিব বলেন, সারা দেশবাসী ও সরকার যেখানে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছে সেখানে বাসায় ক্রেতাদের সমাগম ঘটানো একটি ঘৃণিত ও অপরাধমূলক কাজ। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশ ও জাতির জন্য অকল্যাণ বয়ে নিয়ে আসতে পারে। তাই এক্ষেত্রে এলাকাবাসীকে আরো সচেতন ও সজাগ থাকতে হবে।

কাউন্সিলর আলহাজ হাসিবুর রহমান মানিক বলেন, আমিতো এক সপ্তাহ যাবৎ করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ২৬ নং ওয়ার্ডের প্রতিটি রাস্তা-অলিগলিতে মাইকিং করে সচেতন থাকার জন্য আহবান করে যাচ্ছি। আমি তো এলাকাবাসীদেরকে বার বার বলছি কোন কিছুর প্রয়োজন হলে আমার হট লাইন নাম্বারে কল দিবেন। আমি আপনাদের সেবক। তাই যে কোন প্রয়োজনে আমি আপনাদের পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকব। তিনি আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক ঘরে থাকুন। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হবেনা।

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকানোর একটা পদক্ষেপ হিসাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং স্বেচ্ছায় নিজেকে আলাদা করে রাখার অর্থাৎ সেলফ আইসোলেশনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

বিশ্বের যেসব দেশে এই ভাইরাসের দ্রুত বিস্তার ঘটছে, সেখানে নিত্য প্র্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির দোকান ছাড়া আর সব দোকানপাট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। লাইব্রেরি, বাচ্চাদের খেলার মাঠ, বাইরে ব্যায়াম করার জিম এবং অনেক ক্ষেত্রে উপসনালয়গুলোও বন্ধ রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশনাও রয়েছে।

 

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন Accept আরও পড়ুন