আজ রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লির কাজ উদ্বোধন

259
gb

জিবিনিউজ24 ডেস্ক:

আজ বৃহস্পতিবার পাবনার রূপপুরে দেশের প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল পর্বের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ১১টায় প্রথম এ কংক্রিট ঢালাই কাজ উদ্বোধন করবেন তিনি।

এর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির পরমাণু চুল্লি বসানোর কাজ শুরু হবে।

প্রকল্পের উৎপাদন কেন্দ্রের এই নির্মাণকাজ শুরুর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে রূপপুরসহ প্রকল্পের আশপাশের এলাকা নতুন রূপে সাজানো হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রতিনিধি এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশনের (রোসাটম) মহাপরিচালক আলেক্স লিখাচেভ উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণে সরকার ২০১১ সালে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি করে। পরে ২০১৩ সালে ঋণচুক্তি সই হয়। কেন্দ্রটির প্রথম ধাপের কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। এখন মূল নির্মাণকাজ শুরু হচ্ছে।

মোট দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট উৎপাদনে আসবে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে।

আর দ্বিতীয় ইউনিট আসবে পরের বছর। এর মাধ্যমে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে ৩২তম দেশ হিসেবে নিউক্লিয়ার ক্লাবে যুক্ত হতে যাচ্ছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে রাশিয়ার কাছ থেকে সরকার ১১ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিচ্ছে।

মূল পর্বের কাজ শুরুর বিষয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির পরমাণু চুল্লি বসানোর কাজ (ফাস্ট কংক্রিট পোরিং ডেট বা এফসিডি) শুরু হবে। এর আগে রূপপুরে আবাসন ছাড়াও অন্য অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বিএইসি) চেয়ারম্যান ড. দিলীপ কুমার সাহার কাছে প্রকল্পের নকশা ও নির্মাণ লাইসেন্স হস্তান্তর করেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বিএইআরএ) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নঈম চৌধুরী। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি কমিশনের সম্মতি পাওয়ার পর এ লাইসেন্স দেওয়া হয়। এর আগে গত বছরের জুনে কেন্দ্রটির নির্মাণস্থল উপযোগী ও নিরাপদ বলে সাইট লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল।

প্রথম পর্যায়ের কাজের এখন পর্যন্ত চারটি চুক্তি হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় বিদ্যুৎকেন্দ্রর নানা ধরনের সমীক্ষা থেকে শুরু করে প্রাথমিক অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত নির্মাণ করা অবকাঠামোর মধ্যে কংক্রিট মিক্সিংয়ের দুটি ইউনিট ছাড়াও রয়েছে অ্যামিনিটি বিল্ডিং, ক্যান্টিন, ওয়ার্কশপ, মালামাল ওঠানো-নামানোর জন্য নদী তীরবর্তী স্থাপনা, বহিস্থ সংরক্ষণাগার, কংক্রিট মিক্সিং ট্যাংক ও গাড়ি ধোয়ার এলাকা, বহিস্থ বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা। বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকায় দুটি ২০ তলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, আরো এমন ১৯টি ভবনের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির যন্ত্রাংশ সরবরাহের জন্য রেল ও নৌপথ উন্নয়ন করতে হবে। মোংলা বা চট্টগ্রামের সঙ্গে সরাসরি রেল যোগাযোগ ও নৌপথ খনন করতে হবে।

রাশিয়ান ফেডারেশনের সঙ্গে রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের চুক্তিতে ভিভিইআর রিঅ্যাক্টর পরিবারের সর্বশেষ সংস্করণ স্থাপনের সিদ্ধান্ত রয়েছে। কেন্দ্রটিতে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা বলয় থাকছে। কেন্দ্রটির স্পেন্ট ফুয়েল বা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে শুরুতে উদ্বেগ থাকলে শেষ পর্যন্ত সরকার রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি করেছে এই চুক্তির আওতায় কেন্দ্রটির সব বর্জ্য রাশিয়া ফেরত নেবে।

প্রথমে ১৯৬১ সালে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে ১৯৬২-১৯৬৮ সালে পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা পাড়ে রূপপুরকে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্থান হিসেবে নির্বাচন করা হয়। তখন কেন্দ্রটির জন্য ২৬০ একর এবং আবাসিক এলাকার জন্য ৩২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। ভূমি উন্নয়ন, অফিস, রেস্ট হাউস, বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন ও কিছু আবাসিক ইউনিটের নির্মাণকাজ আংশিক শেষ করা হয়।

শুরুতে ২০০ মেগাওয়াটের কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করা হলেও পরে ১৯৭০ সালে পাকিস্তান সরকার তা বাতিল করে দেয়। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেন। পরে বিষয়টি আর আলোর মুখ দেখেনি। ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেন। ২০১৩ সালের ২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সেজে উঠেছে রূপপুরসহ প্রকল্পের আশপাশের এলাকা। দাশুরিয়া মোড় থেকে রূপপুর পাকার মোড় হয়ে লালন শাহ সেতু দিকের রাস্তায় রাস্তায় তোরণ ও বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। এর আগে প্রকল্পে যাওয়ার আশপাশের ভাঙাচোরা সব রাস্তা সংস্কার করা হয়েছে।

আজকের অনুষ্ঠান ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে। পাবনার পুলিশ সুপার জিহাদুল কবীর জানিয়েছেন, এসএসএফ, পিজিআর, পুলিশ, র‌্যাবের পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সব বাহিনীর সদস্যরা নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছেন।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক শওকত আকবর জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের সব কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আজ প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নিউক্লিয়ার ক্লাবে প্রবেশ করবে।

gb

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More