ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমের সুদ কমানো হঠকারিতা : কৃষক-শ্রমিক মুক্তি আন্দোলন 

24
gb

ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমের সুদের হার অর্ধেকে নামিয়ে আনার সরকারি সিদ্ধান্তকে ‘হঠকারি’ ও ‘সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিরোধী’ হিসাবে আখ্যায়িত করে জাতীয় কৃষক-শ্রমিক মুক্তি আন্দোলন অভিমত প্রকাশ করেছে যে, সরকারের এই হঠকারি সিদ্ধান্তের ফলে স্বল্প আয়ের সাধারণ মানুষ বিপর্যয়ে পড়বে। ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমে সুদের হার অর্ধেকে নামিয়ে আনার সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে দুর্ভোগে পড়বে লক্ষ লক্ষ মানুষ।মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের আহ্বায়ক এম. গোলাম মোস্তফাভুইয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, সমন্বয়ক মো. মহসিন ভুইয়া এসব কথা বলেন।

নেতৃবৃন্দ বলেন, মূলত কৃষক-শ্রমিক মেহনতি সাধারণ মানুষই ডাকঘরের মাধ্যমে অর্থ সঞ্চয় করে। আর এই সঞ্চয় কর্মসূচি শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলেই বেশি জনপ্রিয়। মূলত স্বল্প আয়ের মানুষেরাই ডাকঘরে টাকা রাখতে যায় বেশি। আর সরকার এই মানুষগুলোরই সঞ্চয়ের জায়গা সীমিত করতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে।তারা বলেন, বর্তমানে দেশে এখন ৫৯টি ব্যাংক তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। অনেক ব্যাংক হলেও দেশের বড় অংশ এখনো ব্যাংকিংয়ের আওতার বাইরে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে এই সংখ্যা অনেক কম। বাংলাদেশ ব্যাংক একপ্রকার জোর করেই বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোকে পল্লি অঞ্চলে শাখা খুলতে বাধ্য করেছে। তারপরও ব্যাংকে আদৌ যায় না এমন মানুষের সংখ্যা অসংখ্য। আর এসব মানুষের কাছে ডাকঘর জনপ্রিয়। এখানে ব্যাংকের মতোই বিভিন্ন মেয়াদে টাকা রাখা যায়। মেয়াদ শেষে পাওয়া যায় সুদ। আর এই সকল কারণেই সাধারণ মানুষ, অবসর নিয়েছেন যারা, গৃহিণী, কিছুটা অসহায় মানুষের জন্য দেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে এই স্কিম। কারণ, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কিছুটা বেশি এবং নিরাপদ। যারা ঝুকি নিতে চান না, তারাই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করেন বেশি।নেতৃত্রয় বলেন, ইতপূর্বে পারিবারিক সঞ্চয়পত্রে সরকার বাড়তি কর আরোপ করায় সেখানেও লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এই স্কিমের সুদের হার হঠাৎ অর্ধেক কমিয়ে আনায় সবচেয়ে বিপদে পড়বেন গ্রামাঞ্চলের স্বল্প আয়ের অসহায়, অবসরে যাওয়া এবং একেবারে নিম্নবিত্তের  মানুষগুলো।তারা বলেন, সরকারের এই সব তৎপরতাই আর্থিক খাতে তাদের চরম অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও নৈরাজ্যের বহিঃপ্রকাশ। সরকারের অকার্যকরি ভূমিকার কারণে প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকা দেশের বাইরে পাচার হয়ে যাচ্ছে। এই পাচার রোধে সরকার কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করতে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। অথচ সাধারণ মানুষের বিষয়ে হঠকারি সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে দ্ধিধা করছে না। নেতৃবৃন্দ অনতিবিলম্বে ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমের সুদের হার পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে আর্থিক খাতে ‘অব্যবস্থাপনা ও নৈরাজ্য’ ঠেকাতেও তৎপর হতে ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন Accept আরও পড়ুন