ফিলিস্তিন প্রশ্নে সরকারের অবস্থান জাতি জানতে চায় : বাংলাদেশ ন্যাপ

34
gb

ফিলিস্তিন নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি একটি পরিকল্পনা করেছেন যা ফিলিস্তিনিদের ওপর আঘাত আসতে পারে বলে মন্তব্য করে গভীর উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ।

শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে পার্টির চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া উদ্বেগ প্রকাশ করে ফিলিস্তিন প্রশ্নে সরকারের অবস্থান জাতির কাছে পরিষ্কারের আহ্বান জানান।

তারা বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ফিলিস্তিনির পক্ষে কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্টের পরিকল্পনার পরেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীরবতা নিয়ে বাংলাদেশের জনগন গভীর উদ্বিগ্ন। শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে তার সম্প্রীতি ফিলিস্তিন ভূখন্ডে অবৈধ ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারনের নতুন যে পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে তা নতুন করে ঐ অঞ্চলে অশান্তির জন্ম দিতে বাধ্য।

বিবৃতিতে ন্যাপ নেতৃদ্বয় বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার কথা বলে মার্কিন প্রশাসন তাদের এ নতুন পরিকল্পনার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র থেকে ফিলিস্তিনের অস্তিত্ব মুছে দেওয়ার পুরনো সেই চক্রান্তই বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। ট্রাম্পের তথাকথিত ‘শতাব্দীর সেরা চুক্তির’ মধ্য দিয়ে মার্কিন প্রশাসন ইসরাইলকে তার অবৈধ বসতি স্থাপন প্রক্রিয়াকে জোরদার করতে উস্কে দিচ্ছে।

তারা বলেন, ফিলিস্তিনি সমস্যা দীর্ঘদিনের এবং ফিলিস্তিনি সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে বাংলাদেশের নীতি হচ্ছে ফিলিস্তিনিদের সংগ্রামে সমর্থন করা। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট যেদিন তার অভিসংশনের প্রক্রিয়া চলছে সেই দিনই তিনি নেতানিয়াহুকে (ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী) সামনে নিয়ে এবং আরেকজন বিরোধী নেতাকে সামনে নিয়ে একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করলেন ফিলিস্তিন সম্পর্কে যেখানে ফিলিস্তিন সম্পর্কে দুই রাষ্ট্রের সমাধান যেটা জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক বিশ্ব কর্তৃক স্বীকৃত। সেই সামাধান চুক্তি সম্পূর্ণভাবে নস্যাৎ করে পুরো ফিলিস্তিনকে ইসরায়েলের হাতে তুলে দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নেতৃদ্বয় আরো বলেন, পরিকল্পনার মধ্যে যেটুক ফিলিস্তিনের জমি রয়েছে সেটি হচ্ছে পুরোনো ফিলিস্তিনের মাত্র ১২ শতাংশ। তা-ও এটাকে বিক্ষিপ্তভাবে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ থেকে তাদের যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে হবে। ওই পরিকল্পনায় বলা হচ্ছে, ফিলিস্তিনের সমাধানের ক্ষেত্রে ফিলিস্তিনের কোনো আর্মি থাকতে পারবে না। মুক্তিযোদ্ধাদের নিরস্ত্র করতে হবে।

তারা বলেন, এই ফিলিস্তিনের পক্ষে বাংলাদেশ সবসময় দাঁড়িয়েছে। মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানহ দেশের সকল জাতিয় নেতৃত্বই ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে ছিলেন।

নেতৃদ্বয় বলেন, ইসরাইলি জায়নবাদী সরকার এবং মার্কিন সা¤্রাজ্যবাদের এ যৌথ অপরাধমূলক তৎপরতা সমস্ত আন্তর্জাতিক আইন, চুক্তি এবং কূটনীতিক রীতিনীতিকে লঙ্ঘন করেছে এবং তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার নাৎসি সেনাদের সম্প্রসারণবাদী অপরাধের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।

বিবৃতিতে বাংলাদেশ ন্যাপ নেতারা মার্কিন প্রেসিডেন্টর এ পরিকল্পনার আনুষ্ঠানিক নিন্দা জানানোর পাশাপাশি এর বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী জনমত গড়ে তোলার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন Accept আরও পড়ুন