দুই বছর পূর্বে হোটেলে বসা নিয়ে বিরোধ মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে খুন

5,704

মুকিত মুহাম্মদ, বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি ||
বিয়ানীবাজার পৌরশহরে শনিবার সকালে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত সুপাতলা গ্রামের আনোয়ার হোসেনকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। জানাযার নামাজের পূর্বে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান খান এ তথ্য দেন।
তিনি বলেন, আমরা যতটুকু জেনেছি, তাকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে হামলা করে হত্যা করা হয়েছে। আশা করি পুলিশ প্রশাসন দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘাতকদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হবে।
এদিকে নিহত আনোয়ার হোসেন (২৪) নামের ওই যুবক সুপাতলা গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি দর্জির দোকানের কর্মচারী ছিলেন। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে দক্ষিণ বাজারের মোকাম মসজিদের সামনে এ হত্যাকান্ড সংগঠিত হয়।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, আনোয়ারকে পূর্ব বিরোধের জের ধরে বাড়ি থেকে ডেকে এনে ছুরিকাঘাতে খুন করা হয়েছে। তার বড় ভাই দেলোয়ার হোসেন জানান, ‘গত কয়েকদিন থেকে ঘাতকরা আনোয়ারকে ঘিরে নজরদারী করছিল। এ বিষয়টি আনোয়ার তার পরিবারের সদস্যদের অবহিত করে।’ তিনি আরো জানান, ‘প্রায় বছর দেড়েক আগে আনোয়ারের সাথে বিরোধ হয় একটি পক্ষের। যা আপোষ মীমাংসায় নিষ্পত্তি হয়। এরাই কয়েকদিন থেকে তাকে নজরদারীর মধ্যে রাখে।’
পুলিশ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আজাদ উদ্দিন (৪৫) এবং পাভেল আহমদ (২২) নামের দু’জনকে আটক করেছে। তাদের দু’জনের বাড়ি পৌর শহরের খাসা গ্রামে।
বিভিন্ন সূত্র জানায়, প্রায় দেড় বছর পূর্বে শহরের মোকাম রোড এলাকায় একটি চায়ের স্টলে চা পান করতে যান আনোয়ার হোসেন। সেখানে পূর্ব থেকে বসা খাসা গ্রামের সায়েল আহমদ (২৩) এর সাথে কথা কাটাকাটি হয় তার। সাময়িক বিষয়টি নিষ্পত্তি করে দেন স্টল মালিক ও অন্যান্যরা। অবশ্য পরে আনোয়ার ও সায়েলের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন সায়েল। তিনি দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেন সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে। এ ঘটনায় বিয়ানীবাজার থানায় মামলা হলে পরে তা সামাজিকভাবে নিষ্পত্তি হয়। মূলত এসব কারণে আনোয়ারকে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশেরও ধারণা।
বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহজালাল মুন্সী জানান, ‘হত্যাকান্ডের ঘটনায় আমরা দু’জনকে আটক করেছি। তবে মূল অভিযুক্ত সায়েল আহমদ ও তার পিতা পংকি মিয়া পলাতক রয়েছেন। আটককৃতরা সায়েলের পরিবারের সদস্য।’
এদিকে ঘটনা পরবর্তী নিহতের স্বজনরা প্রায় ঘন্টাব্যাপী সিলেট-বারইগ্রাম সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। তারা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে হত্যাকান্ডের বিচারের দাবী জানান। এ সময় শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ, উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান খান, ইউএনও মুহা. আসাদুজ্জামান, পৌর মেয়র মো: আব্দুস শুকুর ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের শান্ত করেন।