উত্তপ্ত ক্যাম্পাস: ডাকসুতে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

85
gb

জিবি নিউজ ২৪

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ কার্যালয়ে ঢুকে ডাকসু ভিপিসহ অন্যদের ওপর হামলার ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সরকার সমর্থিত ছাত্রসংগঠন এবং মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নামের সংগঠনের কিছু অতি উৎসাহী কর্মী এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

উদ্বেগের বিষয় হল, এবারই প্রথম নয়, এর আগেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডাকসু ভিপি নূরুল হক নূরসহ তাদের সহপাঠীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। নিজেদেরই সহপাঠীদের হাতে তাদের নির্বাচিত ভিপির ওপর বারবার বর্বর হামলা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

বারবার হামলা হওয়ার পরও হামলাকারীদের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য কোনো ব্যবস্থা না নেয়ার কারণেই যে এমনটি ঘটছে, তা বলাই বাহুল্য। এটি কোনোভাবেই সুষ্ঠু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ইঙ্গিতবাহী নয়।

তবে আগের হামলাগুলোর চেয়ে এবারের হামলাটি বেশি সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ এবার খোদ ডাকসু কার্যালয়ের ভেতরে বাতি নিভিয়ে অন্ধকারে হামলা করা হয়েছে ভিপি ও তার সঙ্গীদের ওপর। হামলা এতটাই নৃশংস ছিল যে একজনকে লাইফ সাপোর্টে পর্যন্ত রাখতে হয়েছে।

যদি এ হামলায় কারও মৃত্যুর ঘটনা ঘটত তাহলে পরিস্থিতি কী হতো ভাবা যায়! খোদ ডাকসু সভাপতি ও ভিসি বলেছেন, হামলাকারীরা একটি লাশ চাচ্ছিল। হামলার পরপর সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব করে ফেলা থেকে এর সত্যতা প্রতীয়মান হয়।

এ দেশে লাশের রাজনীতি পুরনো হলেও সাম্প্রতিককালে এ হামলা যেন সেটিই মনে করিয়ে দিচ্ছে। এ অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং দেশজুড়ে উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর লেখাপড়া ও অন্যান্য কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনা দরকার অবিলম্বে।

আশার কথা, কথিত মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কয়েকজনকে এরই মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। সাবেক ডাকসু ভিপি তোফায়েল আহমেদসহ অনেক রাজনৈতিক নেতা এরই মধ্যে ডাকসুতে হামলার নিন্দা জানিয়েছেন এবং জড়িতদের বিচারের দাবি করেছেন।

বস্তুত প্রধানমন্ত্রী হামলার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার নির্দেশ দেয়ার পরই অন্যরা এ বিষয়ে মুখ খুলছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি থেকে নিয়ে ক্যাম্পাসে হামলার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়েও যদি প্রধানমন্ত্রীকে নির্দেশনা দিতে হয়, তাহলে প্রশাসনসহ দায়িত্বশীলদের কাজ কী, এমন প্রশ্ন তোলা অসমীচীন নয়।

সবাই যার যার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছেন না বলেই প্রধানমন্ত্রীকে সব বিষয়ে নির্দেশনা দিতে হচ্ছে, যা কোনোভাবেই ভালো প্রশাসনের লক্ষণ নয়। ভিপি নূরের নিরাপত্তাসহ প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে নিরাপদ পরিবেশ, সর্বোপরি সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক রাখার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের সজাগ থাকতে হবে।

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন Accept আরও পড়ুন