আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ : শোষন মুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা সংগ্রাম করেছেন মওলানা ভাসানী

98
gb

শোষন-শাসন-নিপীড়ন-নির্যাতন-সম্প্রদায়িকতা মুক্ত একটি আধুনিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্যই আজীবন সংগ্রাম করেছেন মওলানা ভাসানী বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ প্রেসিডেন্ট ও সাবেক সংসদ সদস্য এস.এম আবুল কালাম আজাদ।

তিনি বলেন, উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে বিশেষ ভূমিকা রাখেন মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা ও পরবর্তীতে পাকিস্তানী শাসণ-শোষণ থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় তার অবদান অবিস্মরণীয়। পাকিস্তানের শাসক গোষ্টির বিরুদ্ধে তার লড়াইয়ের চূড়ান্ত পরিনতিই হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।

শনিবার (১৬ নভেম্বর) তোপখানার সাংবাদিক নির্মল সেন মিলনায়তনে মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী মুজিব নগর সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানকে তাদের উপনিবেশিক দেশ সৃষ্টি করার পাঁয়তারা করতে চেয়েছিল, সেই মূহুর্তেই মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী পাকিস্তানের  শোষন শাসন নির্যাতন নিপীড়ন সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে ১৯৪৯ সনে ২৩ জুন আওয়ামী লীগ  জন্ম দিয়েছিলেন এবং পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। এই আওয়ামী লীগে মাধ্যমেই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, আজীবন সামনের কাতারে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, সমগ্র জাতিকে দিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন চির বিপ্লবী ও বিদ্রোহী মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী। বৃটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলন, পাকিস্তানের শোষণ-নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা আন্দোলন, স্বাধীনতা পরবর্তী গণতান্ত্রিক আন্দোলন, ভারতীয় আধিপত্যবাদী-আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রাম, প্রবীণ বয়সে ১৯৭৬ সালের ফারাক্কা লংমার্চ-সহ ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে তিনি আছেন।

সভাপতি ভাষনে এম এ জলিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শেরে বাংলা, সোহরাওয়ার্দী, মওলানা ভাসানী ও তাজউদ্দিন আহমেদের এই পাঁচ নেতার নামানুসারে ঢাকাতে শেরে বাংলা মাজার প্রাঙ্গণে একটি গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট।

জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগের সভাপতি এম এ জলিলের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশগ্রহন করেন বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূইয়া. এনডিপি’র মহাসচিব মঞ্জুর হোসেন ঈসা, জয়বাংলা মঞ্চের সভাপতি মুফতি মাসুম বিল্লাহ নাফিয়ী, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ নেতা আ স ম মোস্তফা কামাল, বাংলাদেশ ন্যাপের ভাইস চেয়ারম্যান স্বপন কুমার সাহা, ঢাকা মহানগর সভাপতি মো. শহীদুননবী ডাবলু, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক মুক্তি আন্দোলনের চেয়ারম্যান আশরাফ আলী হাওলাদার, বাংলাদেশ উন্নয়ন পার্টির সভাপতি মাহববুর রহমান খোকন, জনতা ফ্রন্টের চেয়ারম্যান আবুল আহাদ দিপুমীর, বাংলাদেশ জাসদ নেতা হুমায়ুন কবির, নারী নেত্রী লিজা রহমান, বাংলাদেশ জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগের সহ-সভাপতি জাহানারা বেগম, সাধারণ সম্পাদক সমীর রঞ্জন দাস, দপ্তর সম্পাদক কামাল হোসেন প্রমুখ।