মীর মশাররফের নবজাগরণের প্রতিবিম্ব : ন্যাপ মহাসচিব

155
gb

মীর মশাররফ হোসেনকে বাংলা গদ্য সাহিত্যের অন্যতম অগ্রনায়ক ও নবজাগরণের প্রতিবিম্ব হিসাবে আখ্যায়িত করে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, পলাশীর যুদ্ধে পরাজয়ের এক শতাব্দী পর বিপন্ন বঞ্চিত মুসলমানরা যখন নতুন করে সাহসে বুক বেঁধে সামনে চলার চেষ্টা করছে, ঠিক সেই সময় বাংলা গদ্যসাহিত্যে হঠাৎ আলোর ঝলকানির মতো মীর মশাররফ হোসেনের আগমন।

তিনি বলেন, মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। তিনি উপন্যাস, গল্প, কবিতা, নাটক প্রহসন, প্রবন্ধ রচনা করেছেন। সাংবাদিকতাও করেছেন। সে সময় কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত হতো ‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’ নামে একটি পত্রিকা। এ পত্রিকার সম্পাদক কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদার মশাররফকে খুব স্নেহ করতেন। তার প্রেরণায় মশাররফ ‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’য় লিখতেন। তিনি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সম্পাদিত কলকাতার ‘সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকার কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ছিলেন। তৎকালীন কলকাতার বাবুদের ভিড়ে মীর মশাররফ হোসেন প্রথম বাংলা গদ্য সাহিত্যিক হিসেবে সুধীজনের দৃষ্টি আর্কষণে সক্ষম হন। বাবুরা বলাবলি শুরু করেন, মুসলমানদের মধ্যে মীর মশাররফ হোসেন হলেন প্রথম ব্যক্তি, যিনি বিশুদ্ধ বাংলা চর্চা করেছেন। তিনি তার প্রথম স্ত্রী আজিজুন নেহার নামের সাথে মিল রেখে মাসিক ‘আজিজন নেহার’ (১৮৭৪) নামে একটি পত্রিকা এবং পাক্ষিক ‘হিতকরী’ (১৮৯০) একটি পত্রিকা নিজ উদ্যোগে প্রকাশ করতেন। তিনি পত্রিকার দু’টি সম্পাদনার দায়িত্বও পালন করেছেন।

বুধবার সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাংলা সাহিত্যের অহংকার মীর মোশাররফ হোসেনের ১৭২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ আয়োজিত স্মরণ সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, মীর মোশাররফ হোসেন মুসলিম রচিত বাংলা সাহিত্যের সমন্বয়ধর্মী সমাজের অর্ন্তভুক্ত। মুসলিম সমাজের প্রতিনিধিত্বহীন সময়ে বাংলা সাহিত্যে তাঁর আবির্ভাব ও প্রতিষ্ঠা একটি বিষ্ময়কর ঘটনা। এ সময়ে মুসলমান লেখকগণ ছিলেন স্বেচ্ছানির্বাসিত। তারা পাশ্চাত্য শিক্ষা-সংস্কৃতিকে বর্জন করছিলেন। ফলে, তারা মধ্যযুগের একঘেয়ে সাহিত্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকে দো-ভাষী পুঁথি রচনা করেই ছিলেন তৃপ্ত। তাদের মধ্যে নবজাগরণের বিশ্বপ্রতীম মানবিক বোধবুদ্ধি ও জিজ্ঞাসা ছিল না। এই সর্বপ্লাবী সাহিত্যশিল্পের জয়যাত্রার জোয়ারের মুখে মীর মশাররফ হোসেন বাংলা সাহিত্যে পদার্পণ করেন ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। তিনি অবনমিত মুসলিম সমাজকে আত্মপ্রত্যয়ী ও সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রতি অনুরাগী করে তোলেন।

তিনি বলেন, এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, একটি বিশেষ যুগসন্ধিক্ষণে মীর মশাররফ হোসেন উপন্যাস রচনায় শিল্পী-চৈতন্যে যে নতুন মাত্রা যোগ করেছিলেন তার প্রেক্ষিতেই পুঁথি সাহিত্যের গন্ডি পেরিয়ে আধুনিক জীবন-সাহিত্যে পদার্পণের দরজা উম্মুক্ত করতে পেরেছিলেন। তিনি ইতিহাসকে তার শিল্প কুশলতার মাধ্যমে নবরূপদানে সক্ষম হয়েছেন। তিনি উপন্যাস রচনার মধ্য দিয়ে ভাষা-বৈশিষ্ট্যের সর্বাধিক সিদ্ধি ও সাফল্যের পরিচয় দিয়েছেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা বলেন, মীর মশাররফ হোসেন বাংলার মুসলমান সমাজে আধুনিক যুগের বাংলা সাহিত্যে ধারার সূচনা করেন। আধুনিক যুগের বাংলা সাহিত্যে মুসলিম সাহিত্যদের অগ্রদূত ও বাংলা গদ্যের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে তাকে গণ্য করা হয়। তার বহুমুখী প্রতিভার মাধ্যমে উপন্যাস, নাটক, প্রহসন, কাব্য ও প্রবন্ধ রচনা করে আধুনিক যুগে মুসলিম রচিত বাংলা সাহিত্যে সমৃদ্ধ ধারার প্রবর্তন করেন। জীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতাকে তিনি তার রচনাবলির বৈচিত্র্যময় আঙ্গিকে রূপদান করেছেন।

সংগঠনের সদস্য সচিব সোলায়মান সোহেলের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশগ্রহন করেন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এনডিপি মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, বাংলাদেশ ন্যাপ ঢাকা মহানগর সভাপতি মো. শহীদুননবী ডাবলু, যুব ন্যাপ সমন্বয়কারী বাহাদুর শামিম আহমেদ পিন্টু, সংগঠনের নির্বাহী সদস্য বিশিষ্ট লেখক আলাউদ্দিন আলী, ছাড়াকার হাবিব রায়হান, আবদুল আলিম, হাসিবুল হাসান শান্ত প্রমুখ।