কাজে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় হুমকি,জুড়ীর গৌরীপুর সড়কের কাজে অনিয়মের অভিযোগ

94
gb

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি ॥

কোন রকম জোড়া তালি দিয়ে শেষ হয়েছে ওই সড়কের নির্মাণ কাজ। আর কাজ শেষ হতে না হতেই ঘটেছে বিপত্তি। হাত দিয়ে টান দিলেই উঠে যাচ্ছে সড়কটির কার্পেটিং। দৃশ্যটি দেখে স্থানীয় উপকার ভোগীরা হতবিহবল। এমন নিন্মমানের কাজের খবর চাউর হলে বিভিন্ন এলাকার লোকজন ও সড়কটির কাজ দেখতে ভিড় করছেন। এবং কাজ দেখে এমন অনিয়মের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের গৌরীপুর গ্রামের সড়ক নির্মাণ কাজের অনিয়মের এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় উপকারভোগীরা অভিযোগ করে জানান এই সড়কটির শুরু থেকেই নি¤œমানের কাজ হচ্ছিল। কাজের অনিয়মের বিষয়ে তারা প্রতিবাদ জানালে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার পুলিশের এক এস,আইকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে ভয় ভীতি প্রদর্শন করান।
স্থানীয় এলজিইডি সূত্র জানায় ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জায়ফরনগর ইউনিয়নের ভোগতেরা বিশ্বনাথপুর সড়ক এবং পাশের গৌরীপুর এলাকার এক কিলোমিটার কাঁচা সড়ক পাকাকরনের উদ্যোগ নেয় এলজিইডি। প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে কাজটি পান নোমান আহমদ নামের এক ঠিকাদার। ২০১৭ সালের ২৯ নভেম্বর কাজ শুরু হয়। কাজ শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময় ছিল ২০১৮ সালের ২৮ মে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে ঠিকাদার কাজ শেষ করতে পারেননি। এরপর সড়কের শেষের দিকের কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয় বড়লেখার ঠিকাদার কামাল হোসেনকে। ১০ অক্টোবর গৌরীপুর এলাকায় ১৯৬ মিটার সড়কের পাকার কাজ শুরু হয়।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন বলেন সড়কের কার্পেটিংয়ের পুরুত্ব ২৫ মিলিমিটার হওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদার সেখানে তা ১০ থেকে ১৫ মিলিমিটার পুরুত্ব দিয়েছেন। বিটুমিনসহ অন্যান্য উপাদানও কম দেওয়া হয়েছে। তাই নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পরে বিভিন্ন স্থানে হাত দিয়ে টান দিলেই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে জায়ফরনগর ইউপি চেয়ারম্যান হাজী মাছুম রেজা বলেন অভিযোগের বিষয়ে জানতে পেরে তিনি ইতিপূর্বে সরজমিন গৌরীপুরে যান। এ বিষয়ে ঠিকাদারের লোকজনদের কাজ করতে বারণ করেন এবং বিষয়টি আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় তুলে ধরেন। অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে একাধিকবার যোগযোগের চেষ্টা করলে ঠিকাদার কামাল হোসেনের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে সড়কের শ্রমিকদের কাজের সুপারভাইজার জহির মিয়ার নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঠিকাদারের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা কাজ করেছেন। এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাকির হোসেন খান বলেন কার্যাদেশ অনুযায়ীই কাজ হয়েছে। কার্পেটিংয়ের পুরুত্ব ২৫ মিলিমিটার সিডিউলে ছিল। তবে স্থানাভেদে এক-দুই কিলোমিটার এদিক-সেদিক হতে পারে। জুড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ মোঈদ ফারুক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অসীম চন্দ্র বনিক অভিযোগ পেয়ে রাস্তাটি সরজমিন পরিদর্শনে গেলে এলাকাবাসী কাজের অনিয়মের বিষয়টি তুলে ধরেন এবং বিষয়টি তারা তদন্ত করে দেখছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More