পাড়া-মহল্লাকে তামাক ও ভেজাল খাদ্যমুক্ত এলাকা ঘোষনায় তৃনমূল পর্যায়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান-ক্যাব

41
gb

“কিছু অসাধু লোকের কারনে সমাজ নষ্ঠ হয় না, সমাজ নষ্ঠ হয় ভালো মানুষের নিরবতায়” এই ম্লোগানের মতোই খাদ্য ভেজাল হোক, মাদক, ধুমপান, ইভটিজিং এ ভরপুর হলেও একশ্রেনীর মানুষ বলে থাকেন, আমি ভাল আছি, আমি সেখানে নাই এবং আমার সন্তান বিদেশে পড়ে। আর তাদের নিজে ভাল থাকার মতো আত্মতুষ্ঠির কারনে আজ আমাদের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। সমাজ ক্রমাগত অনিরাপদ ও বসবাস অনুপযোগী হয়ে উঠছে। মানুষ প্রতিনিয়তই ঠকছে ও প্রতারিত হচ্ছে খাদ্যে ভেজাল মিশ্রণ, সিন্ডিকেট করে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্যের বৃদ্ধি, বিভিন্ন সেবা সার্ভিস ভোগ করতে। আর ফাস্ট ফুডের নামে জাঙ্ক ফুেডর ব্যাপক প্রসারের কারনে কোমলমতি শিশুরা নেশাগ্রস্থ হচ্ছে, যার কারনে শিশুর মেধা বিকাশ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। অতিমাত্রায় টেস্টিং সল্ট ও বিভিন্ন ক্যামিকেল ব্যবহারের কারনে খাদ্য এখন আর নিরাপদ নাই, অনেক খাদ্য বিষে পরিনত হচ্ছে। ফলে শিশুরা এখন বাড়ীতে তৈরী খাবারের চেয়ে ফাস্ট ফুডের দোকান, রেস্টুরেন্টে তৈরী খাবারে আসক্তি বেড়েছে। আর এ সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা নিজেদের পকেট ভারী করছে। আর ভোক্তারা অসংগঠিত ও অসচেতন থাকার কারনে জীবন ও জীবিকার সাথে সম্পর্কযুক্ত অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসার অধিকার ভোগে প্রতিনিয়তই হয়রানি, প্রতারনা ও ঠকতে বাধ্য হতে হচ্ছেন। ক্যাবসহ নানা প্রতিষ্ঠানের নানামুখী প্রচারনা ও সরকারী অনেক উদ্যোগ সত্বেও জনগনের কাছে এ তথ্য পৌঁছানো যাচ্ছে না। অনেকেই বিষয়গুলিকে আমলে নিচ্ছে না। আর সেকারনে খাদ্যে ভেজাল, তামাক সেবনের মতো সামাজিক ব্যাধিগুলি সংক্রমন আকারে দেখা দিয়েছে। যার চুড়ান্ত পরিনতি ক্যাসিনোর মতো জুয়া, অবৈধ ব্যবসার প্রসার ও বুয়েটের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাবী ছাত্রের নির্মম হত্যাকান্ড। অন্যদিকে যত্রতত্র ধুমপানের বিজ্ঞাপন প্রচারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও নগরজুড়ে ধুমপানের বিজ্ঞাপন, এমনকি প্রশাসন, আদালত, হাসপাতাল, ক্লিনিকগুলি, নগরীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিও ধুমপানের বিজ্ঞাপন ও বিক্রি মুক্ত নয়। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১০০ গজের মধ্যে ধুমপান বিক্রি নিষিদ্ধে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলেও তার সুফল এখনও আসেনি। তাই পাড়া-মহল্লাকে তামাক ও ভেজাল খাদ্যমুক্ত এলাকা ঘোষনায় তৃনমূল পর্যায়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা ছাড়া বিকল্প নাই বলে মত প্রকাশ করেছেন। আর একাজে সর্বাগ্রে এগিয়ে আসতে হবে স্থানীয় সমাজ সচেতন মানুষগুলোকে। নতুবা এর পরিনতি কাউকে রেহাই দিবে না। ০৮ অক্টোবর ২০১৯ইং নগরীর হামজারবাগ অর্নিবান ক্লাব মিলনায়তনে ক্যাব ০৭নং পশ্চিম ষোল শহর ওয়ার্ড কমিটির ওরিয়েন্টেশনে বিভিন্ন বক্তাগন উপরোক্ত মন্তব্য করেন। ক্যাম্পইন ফর টোবাকো ফ্রি কিডস’র সহায়তায় পিপলস জুবিল্যান্ট এনগেজমেন্ট ফর টোবাকো ফ্রি চিটাগাং সিটি প্রকল্প, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রামের আয়োজনে ওরিয়েন্টেশনে সভাপতিত্ব করেন ক্যাব ০৭ নং পশ্চিশ ষোলশহর ওয়ার্ড সভাপতি এবিএম হুমায়ুন কবির। প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিভাগের শিক্ষক ডঃ মাহফুজ পারভেজ, মুখ্য আলোচক ছিলেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন। অনির্বান ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পদক মহিন উদ্দীনের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশনেন ডিঙ্গীর সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম বাপ্পি, বঙ্গবন্ধু পাঠশালার সাধারন সম্পাদক সাহেদুল ইসলাম চৌধুরী সুজন, ক্যাব পাচলাইশ থানা যুগ্ন সম্পাদক সেলিম জাহাঙ্গীর, চান্দগাঁও থানা সভাপতি জানে আলম, সহ-সভাপতি আবু ইউনুচ, সাধারন সম্পাদক ইসমাইল ফারুকী, ক্যাব ডিপিও জহুরুল ইসলাম প্রমুখ। ওরিয়েন্টেশনে বলা হয় সরকার আগামি ২০৪০ সালের মধ্যে দেশে তামাক নিমূর্লে উদ্যোগ নিয়েছে। চট্টগ্রাম সিটিকর্পোরেশন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১০০ গজের মধ্যে তামাক বিক্রি ও বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করেছেন। কিন্তু ধুমপান হলো মাদক সেবন শুরুর প্রথম সোপান। তামাকের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ হলেও প্রকাশ্যে বিড়ি-সিপারেট, পান জর্দার বিজ্ঞাপন ও বিক্রি বন্ধ হচ্ছে না।

gb

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More