শীমের ক্ষেতে অজ্ঞাত রোগ, পঁচে যাচ্ছে ফুল পথে বসেছে কৃষকরা

415
gb

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল, গাইবান্ধা  ||

শীতকালীন সবজি শিম চাষ করে বিঘা প্রতি লাখ টাকা লাভের আশা করলেও মাঠের পর মাঠ ক্ষেতের ফুল পঁচে যাওয়ায় ধরছে না কোন শীম। লাভজনক এ সবজি চাষ করে এবার পলাশবাড়ীর কৃষকেরা পথে বসেছে।
তাদের অভিযোগ কোন খোজ রাখেনি কৃষি অফিস। কৃষকদের অভিযোগ স্বীকার করে কৃষি কর্মকর্তারা বলছে বিরুপ আবহাওয়ার করণে এবার শীম চাষে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে কৃষকেরা। শীতের শুরুতেই ভাল দামে ফসল বিক্রি করতে পারবে বলে আশা করেছিল কৃষকরা। ফুল আসার পর-পরই এক সপ্তহের মধ্যেই শীম তুলে বাজারে বিক্রি করা যায়।
কিন্তু এবার কোন শীম বাজারে নিতে পারছে না কৃষক। পলাশবাড়ীতে এবার ১৫০ হেকটরের বেশী জমিতে ফুলে ফুলে শীম গাছ ভরে উঠলেও অজ্ঞাত রোগে সব ফুলই ঝরে পড়ছে। মাঠে দেখে গেছে পচন ও ছত্রাকজনিত বালাইয়ে ফুল শুকিয়ে ঝরে পড়ছে। আবার শীম ক্ষেতের গোড়াতেও দেখা দিয়েছে পচন রোগ।
কোন বালইনাশক ব্যবহার করেও উপকার পচ্ছে না কৃষকরা। কৃষকরা বলেন, ১ বিঘা জমিতে শীম চাষ করতে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। এসব খরচের মদ্যে রয়েছে বাঁশ, পাটখড়ি, সুতলি কেনা, জন বা শ্রমিক খরচ । বৈশাখ-জৈষ্ঠ মাসে শুরু হয় শীমের চাষ, ৮ থেকে ৯ মাসের মাথায় শীতের শুরুতে শীমের ফুল-ফল ধরতে থাকে। ভাল ফলন হলে বিঘা প্রতি লাখ টাকার শীম বিক্রি করা যায়।
পলাশবাড়ীর সদরের গোয়ালপাড়া, নুরপুর, ময়েশপুর, জগরজানী, সহ দুটি ইউনিয়ন জুড়ে কৃষকেরা শিম চাষ করছে। কিশোরগাড়ী ইউনিয়ানের কৃষক শওকত মোল্লা, উজ্জøল হোসেন, ফিরোজ, মোস্ত মোল্লা, কৃষাণী জেসমিন সহ সবার অভিযোগ উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে আসেন না। তারা কোন খোঁজ রাখেন না, ফলে ভাল কোন নির্দেশনা পান না সবজি চাষে।
কৃষকদের অভিযোগ স্বীকার করে উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা আজিজুল ইসলাম জানান, মাঝে মধ্যে তীব্র গরম, অতিবৃষ্টি এসব কারণে শীমের ফুলে এবার পরাগায়ন হয়নি। ভালভাবে শীত পড়তে শুরু করলে শীমের ফলন ভালো হবে। তখন কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবে। তিনি বলছেন ইউনিয়নগুলোতে উপসহকারী কৃষিকর্মকর্তাদের তদারকি করতে বলা হয়েছে, কারো গাফিলতি থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।