অপরাধ ঢাকতে দল বদলান খালেদ-শামীম

53
gb

মো:নাসির, বিশেষ প্রতিনিধি জিবি নিউজ ২৪ ||

রাজধানী ঢাকায় ক্যাসিনো বাণিজ্যসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্থের পাহাড় গড়েছেন দুই প্রভাবশালী নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া ও জিকে শামীম। নিজেদের এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঢাকতে এবং অবৈধ অর্থের পাহাড় গড়তে ক্ষমতার পালা বদলে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন এই দুই প্রভাবশালী। সম্প্রতি এই দুই প্রভাবশালী নেতা গ্রেফতারের পর তাদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা সমালোচনা। তবে এসবের মধ্যেও মূলত তাদের আসল পরিচয় কি এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন?

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, এই খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া ও জিকে শামীম বর্তমানে যুবলীগ কিংবা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করলেও এরা দুই জনই পূর্বে বিএনপির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাসাবো ও সবুজবাগ এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, যুবদলের ওয়ার্ড পর্যায়ে রাজনীতির মাধ্যমে শামীমের উত্থান। মির্জা আব্বাসের ভাই মির্জা কালু ও মির্জা খোকনের ঘনিষ্ঠতা অর্জন করেন শামীম। তাদের হাত ধরে তিনি গণপূর্ত ভবনের ঠিকাদারি ব্যবসা শুরু ও পরে নিয়ন্ত্রক বনে যান। এক পর্যায়ে ঢাকা মহানগর যুবদলের সহ-সম্পাদকের পদ তিনি লাভ করেন। বর্তমান সময়ের মতো বিএনপি আমলেও গণপূর্ত ভবন ছিল তার নিয়ন্ত্রণে।

অন্যদিকে একই চিত্র খালেদেরও। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কুমিল্লার বরুড়া থানাধীন সরাফতি গ্রামে বাড়ি খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার। তার বাবার নাম আব্দুল মান্নান ভুঁইয়া। অবশ্য কুমিল্লায় জন্ম হলেও তার বেড়ে ওঠা ঢাকার শাজাহানপুরে। ১৯৮৯ সালে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে শেখ হাসিনার ওপর হামলা চালানো ফ্রিডম মানিক ও ফ্রিডম রাসুর হাত ধরে উত্থান হয় তার। সেসময় ফ্রিডম পার্টির কর্মী ছিলেন খালেদ।

পরবর্তীতে ২০০১ সাল পরবর্তী চারদলীয় জোট সরকারের সময় তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। সেসময় তিনি বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের ভাই মির্জা খোকনের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। খিলগাঁও-শাজাহানপুর এলাকায় সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিতি ছিল তার। শীর্ষ সন্ত্রাসী জাফর আহমেদ মানিকের হয়ে সে এলাকায় চাঁদাবাজি করতো। হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে পড়াশোনা করার সময় তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে পুলিশের সঙ্গে তার সংঘর্ষ বাধে। এসময় পুলিশের গুলিতে তার একটি পা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তখন থেকেই তাকে ল্যাংড়া খালেদ নামে অনেকে চেনে।

তবে এটাই শেষ নয়, ক্ষমতার পালা বদলের সাথে সাথে রাজনৈতিক পরিচয় বদলাতেও পটু এই দুই প্রভাবশালী নেতা।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে ভিড়ে যান যুবলীগে। শুরু করেন যুবলীগের রাজনীতি। খুব দ্রুতই দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন তিনি। এরপর যুবলীগে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে খুব একটা সময় লাগে নি খালেদের।

২০১২ সালে ঢাকা মহানগর যুবলীগের শীর্ষ এক নেতার ছত্রছায়ায় ঢাকার একটি অংশের পুরো নিয়ন্ত্রণ চলে আসে খালেদের হাতে। আর এলাকায় নিজের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সর্বোচ্চ শক্তির ব্যবহার শুরু করেন তিনি।

অন্যদিকে জিকে শামীম ঠিক কত সালে আওয়ামী লীগ বা যুবলীগে যোগ দেন এমন তথ্য পাওয়া না গেলেও যুবলীগের সমবায় সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই পরিচয় দিয়ে আসছেন জি কে শামীম। তার পূর্ণ নাম এসএম গোলাম কিবরিয়া শামীম। নারায়ণগঞ্জ শাখা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতিও তিনি।

তবে যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে জি কে শামীম পরিচয় দিলেও শুক্রবার উভয় সংগঠন থেকে তা অস্বীকার করা হয়েছে। যুবলীগের দফতর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমান বলেন, জি কে শামীম যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কোনো পদে নেই। তবে তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পদে থাকতে পারেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুল হাই জানান, ৭১ সদস্যের জেলা আওয়ামী লীগের কমিটির কোনো পদে জি কে শামীম নামে কেউ নেই। সহ-সভাপতিসহ ছয়টি পদ নানা কারণে শূন্য আছে। ওইসব পদে কারও নাম প্রস্তাব করে অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রে পাঠানো হয়নি। সুতরাং এ নামের কেউ দলীয় পদে থাকার কথা নয়।

যুবলীগ সূত্রে জানা গেছে, সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দেন শামীম। ওই পদে এর আগে ছিলেন এসএম মেজবাহ হোসেন বুরুজ। ২০১৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর মারা যান।

যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ বাবলু বলেন, ‘যুবলীগে জিকে শামীমের কোনো পদ নেই। সে নিজেই নিজেকে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সমবায় বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিতেন। এ নিয়ে কেন্দ্রীয় যুবলীগে কয়েকবার আলোচনাও হয়েছে।’

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে দলের উপ-দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া জানান, আওয়ামী লীগের কোনো কমিটিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে আটক হওয়া জিকে শামীমের অস্তিত্ব নেই।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংরক্ষিত তথ্য অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ জেলা বা মহানগর আওয়ামী লীগের তালিকায় জিকে শামীম নামের কোনো ব্যক্তির অস্তিত্ব নেই।

নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির অনুমোদন হয় ২০১৭ সালের ১০ আগস্ট। ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া ওই কমিটির একটি অনুলিপি দেখিয়ে বলেন, এখানে জিকে শামীম নামের কোনো ব্যক্তির নাম নেই। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই।

অন্যদিকে এই জিকে শামীমের প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, জি কে শামীম শাহজাহানপুর এলাকার টোকাই ছিলেন। এসব টোকাইদের সঙ্গে মির্জা আব্বাস পরিবারের লোকজনের কখনোই যোগাযোগ বা কথা হয়নি। আর এরা কখনো আমাদের বাড়িতেও প্রবেশ করতে পারেনি।

জি কে শামীমকে চিনি না দাবি করে মির্জা আব্বাস বলেন, আমি আর তিনি যদি আমার লোক হতেন, তাহলে এত দিন তাকে ধরা হয়নি কেন। তিনি যুবলীগে গেলেন কীভাবে। তাহলে যারা আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ করে সবাই আমার লোক! তাদের সবাইকে ধরতে বলেন।

তবে এই দুই প্রভাবশালী নেতার রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন মূলত ঠিকাদারি ব্যবসা, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও ক্যাসিনো ব্যবসার মতো নানা অবৈধ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডই খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া ও জিকে শামীমের আসল পরিচয়। আর এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জেরে বিভিন্ন সময় ক্ষমতার পালাবদলে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে নিজেদের অবৈধ ব্যবসাগুলো চলমান রাখাই এদের আসল পরিচয়।

জানা যায়, প্রভাবশালী ঠিকাদার জি কে শামীম রাজধানীর সবুজবাগ, বাসাবো, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকার সরকারি কাজ নিয়ন্ত্রণ করেন। গণপূর্ত ভবনের বেশির ভাগ ঠিকাদারি কাজ তার নিয়ন্ত্রণে। বিএনপি-জামায়াত শাসনামলে গণপূর্ত বিভাগে ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তি হিসেবে তিনি পরিচিত ছিলেন। রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্র পর্যন্ত শামীমের ঠিকাদারি হাত বিস্তৃত।

জি কে শামীমের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সন্মানদী ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামে। তার বাবা মো. আফসার উদ্দিন হরিহরদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। সন্মানদী ইউনিয়নে বাড়ি হলেও শামীম ১০ম শ্রেণি পাসের পর ঢাকায় চলে আসেন।

ঢাকার বাসাবো আর সবুজবাগ এলাকায় তিনি বড় হয়েছেন। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি মেজ। বড় ভাই গোলাম হাবিব নাসিম ঢাকায় জাতীয় পার্টির রাজনীতি করেন। অপর ভাইয়ের সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায়নি।

বনানীতে বসবাসকারী জি কে শামীমের অফিস নিকেতনে। নিকেতনের অফিস থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বাসাবো এলাকায় তিনি দীর্ঘদিন বসবাস করেছেন।

জানা গেছে, বাসাবোর কদমতলার ১৭ নম্বরের পাঁচতলা বাড়ি জি কে শামীমের। বাড়িটি ম্যানেজার হিসেবে দেখাশোনা করেন স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের একজন সহ-সভাপতি। বাসাবোতে তার আরও তিনটি ভবন আছে। ডেমরা ও দক্ষিণগাঁও ছাড়াও সোনারগাঁ উপজেলা, বান্দরবান ও গাজীপুরে কয়েকশ’ বিঘা জমি কিনেছেন তিনি।

রাজনীতি ও ঠিকাদারি করার কারণে বেশ প্রতাপ আর প্রভাবের অধিকারী শামীম। অস্ত্রধারী দেহরক্ষী পরিবেষ্টিত হয়ে তিনি চলাফেরা করেন। তিনি গাড়িবহর নিয়ে চলাফেরা করেন। তার গাড়ির আগে-পরে থাকে একাধিক গাড়ি।

তিনি নিজেই অনেকটা ভিআইপি মর্যাদার পরিস্থিতি তৈরি করেন। রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে শুরু করে সামাজিক অনুষ্ঠান যেখানেই তিনি যান সঙ্গে থাকে দেহরক্ষী।

সবুজবাগ-বাসাবো এলাকায় জি কে শামীম বেশ পরিচিত। তার ক্ষমতা ও অর্থের দাপট সম্পর্কে এলাকাবাসী ওয়াকিবহাল। তাই কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে চান না।

সরেজমিন শামীমের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে খোঁজ নিতে গিয়ে দেখ যায়, তার অভয়ারণ্য গণপূর্ত বিভাগের পরিচিত ঠিকাদাররাও তার কথা শুনলে আঁতকে ওঠেন। কথার জবাব না দিয়ে তারা চলে যান।

অন্যদিকে খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধেও রয়েছে একাধিক অভিযোগ। শুধু অবৈধ ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগই নয়- খালেদের ছত্রছায়ায় রয়েছে বেশ বড় একটি চাঁদাবাজ গ্রুপ। যারা খালেদের নামে প্রতিদিনিই তোলে কোটি কোটি টাকার চাঁদা। রাজধানীর মতিঝিল-ফকিরাপুল ক্লাবপাড়ায় ক্যাসিনো থেকে শুরু করে কমপক্ষে সাতটি সরকারি ভবনে ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ ও সরকারি জমি দখলের মতো নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। রয়েছে একাধিক মামলাও।

মতিঝিল, শাহজাহানপুর, রামপুরা, সবুজবাগ, খিলগাঁও, মুগদা এলাকা নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি। এসব এলাকায় থাকা সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যথাক্রমে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), রেলভবন, ক্রীড়া পরিষদ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, যুব ভবন, কৃষি ভবন, ওয়াসার ফকিরাপুল জোনসহ বেশিরভাগ সংস্থার টেন্ডারের নিয়ন্ত্রণও ছিল তার হাতে। ‘ভূঁইয়া অ্যান্ড ভূঁইয়া’ নামের প্রতিষ্ঠানটি দিয়ে তিনি তার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

রাজধানীর মতিঝিল, ফকিরাপুল এলাকায় কমপক্ষে ১৭টি ক্লাব নিয়ন্ত্রণ করেন খালেদ। এর মধ্যে ১৬টি ক্লাব নিজের লোকজন দিয়ে আর ফকিরাপুল ইয়ংমেনস নামের ক্লাবটি সরাসরি তিনি পরিচালনা করেন। প্রতিটি ক্লাব থেকে প্রতিদিন কমপক্ষে ১ লাখ টাকা নেন তিনি। এসব ক্লাবে সকাল ১০টা থেকে ভোর পর্যন্ত চলে ক্যাসিনো।

এছাড়া খিলগাঁও-শাহজাহানপুর হয়ে চলাচলকারী লেগুনা ও গণপরিবহন থেকে নিয়মিত টাকা দিতে হয় খালেদকে। প্রতি কোরবানির ঈদে শাহজাহানপুর কলোনি মাঠ, মেরাদিয়া ও কমলাপুর পশুর হাট নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি।

খিলগাঁও রেল ক্রসিংয়ে প্রতিদিন রাতে মাছের হাট বসান খালেদ। সেখান থেকে মাসে কমপক্ষে ১ কোটি টাকা আদায় করেন তিনি। শাহজাহানপুরে রেলওয়ের জমি দখল করে দোকান ও ক্লাব নির্মাণেরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

খালেদের চাঁদাবাজির হাত থেকে রক্ষা পেতেন না কেউ। কারণ কোনো ব্যবসায়ী বা অন্য কেউ যদি খালেদের চাঁদা দাবি প্রত্যাখ্যান করতেন তবে তাদের নির্যাতনের জন্য ছিল এই যুবলীগ নেতার আলাদা টর্চার সেল।

টর্চার সেলে রয়েছে নির্যাতনের অনেক ধরনের যন্ত্রপাতি। কেউ চাঁদা দিতে না করলেই টর্চার সেলে নিয়ে নির্মম নির্যাতন চালানো হতো। উচ্চ মাত্রায় সুদসহ পাওনা টাকা আদায়সহ সব ধরনের কাজে ব্যবহার করা হতো এই টর্চার সেল। বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর কমলাপুর রেল স্টেশনের উল্টো দিকে ইস্টার্ন কমলাপুর টাওয়ারে এই টর্চার সেলের সন্ধান পায় র‌্যাব-৩ এর একটি দল।

অন্যদিকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, দুবাইয়ে আত্মগোপন করা শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। দুবাই ও সিঙ্গাপুরে জিসানের সঙ্গে যুবলীগ দক্ষিণের একজন শীর্ষ নেতাসহ খালেদকে চলাফেরা করতেও দেখেছে অনেকে। তবে জিসানের সঙ্গে গত কয়েক বছর একসঙ্গে কাজ করলেও সম্প্রতি তার সঙ্গেও বিরোধ শুরু হয়। একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করতে নিজের পূর্ণাঙ্গ বাহিনী গড়ে তোলেন তিনি।

সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সিঙ্গাপুরে হোটেল মেরিনা বে’তে জিসান, খালেদ ও যুবলীগের ওই শীর্ষ নেতার মধ্যে ক্যাসিনো এবং ঢাকার বিভিন্ন চাঁদার ভাগবাঁটোয়ারা নিয়ে বৈঠক হয়। সেখানে জিসান তাদের কাছ থেকে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন।

এ নিয়েই খালেদ ও যুবলীগের ঐ শীর্ষ নেতার মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতেই যুবলীগের ওই শীর্ষ নেতাকে সরিয়ে দিতে একে-২২ রাইফেলসহ ভারী আগ্নেয়াস্ত্রও আনেন খালেদ। এসব অস্ত্র পরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ উদ্ধার করে।

gb
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More