গাইবান্ধার সাঘাটায় ২৫ টি পরিবারকে জোড় পূর্বক উচ্ছেদ

1,676
gb

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা  ||

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ভরতখালি ইউনিয়নের স্থানীয় কিছু যুবকরা রেলওয়ে পরিত্যক্ত বিল্ডিং ওয়াকশনে ভাংগার নামে দীর্ঘদিন বসবাস করা ২৫টি পরিবারকে উচ্ছেদ করে টিন দিয়ে ঘেড়াও করে কয়েক একর ভুমি দখলের পায়তারা করা হচ্ছে ।
সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, চলতি বছরের শেষের দিকে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ও ভরতখালি রেলষ্টেশনের ১৫ টি ডেমেজ কোয়াটার চলতি বছরের শেষের দিকে ৪ লক্ষ ৪০ হাজার টাকায় নিলামে দেয়া হয় । তার মধ্যে ভরতখালি রেল্ওয়ে ষ্টেশনের ৭টি ওয়াকশনে নেন গাইবান্ধা ঠিকাদার লিখন মিয়া ।
সংশ্লিষ্ট কাজটি সাব ঠিকাদার হিসাবে হাতে নেন স্থানীয় রোমান মিয়া। কাজ শুরুর পরে কোয়াটারে থাকা ব্যক্তিদের কোয়াটার ছাড়ার নোটিশ দিলে তারা কোয়াটা ছেরে পাশের জায়গায় ছাপরা একচালা টিন সেট তুলে বসবাস করার সপ্তাহ যেতে না যেতেই তাদের জোর পুর্বক স্থানান্তর করা হয় । পর্যায়ক্রমে দীর্ঘদিন থেকে বসবাস করা পরিবার গুলোকেও জোর করে উচ্ছেদ করে টিনের বেড়া দিয়ে রেলের কয়েক একর জমি দখল করা হচ্ছে ।
গত ৭ দিনে ২৫ টি পরিবারকে রেলের জায়গা থেকে উচ্ছেদ করতে বাধ্য করেছে সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদার ও পাটনাররা । অনেক পরিবারের ঘরবাড়ী অবৈধ ভাবে ভেঙ্গে দিয়ে অন্যত্রে সরানো হয়েছে । নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক একাধিক ব্যাক্তি জানান, ঘর না সরানোর কারনে প্রতিদিন তাদের উপর নানা ভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে ।
ঘর-বাড়ী না সড়ালে তাদের আগুনে পুরে মারা হবে বলে হুমকিও দেয়া হয়েছে । বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ এমনকি টিউবওয়েল ও টয়লেট সড়িয়ে তাদের কে সামাজিক ভাবে বয়কট করা হয়েছে । ঘরবাড়ী সরাতে ব্যবহার করা হচ্ছে দেশীয় অস্ত্র ভিত হয়ে অনেকেই বধ্য হয়ে নিজেদের টিনের ছাপরা ও একচালা টিন সেড ঘরগুলো সড়িয়ে অন্যের জায়গায় গিয়ে খোলা আকাশের নিছে মানবেতর জীবন জাপন করছে ।
এ বিষয়ে বোনারপাড়া রেওয়ে থানায় এক ঘন্টা অপেক্ষা করে, একাধিক বার মোবাইেলে যোগাযোগ করার চেষ্টা কররেও বোনারপাড়া রেওয়ে থানায় অফিসার্স ইনচার্জ আতাউর রহমান এর সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি ।
তবে ভরখালি ইউপি চেয়ারম্যান শামছুল আজাদ শীতল অবৈধ ভাবে উচ্ছেদের ঘটনার নিন্দা জানান এবং মায়ানমার থেকে আসা রোহেঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়া হয়েছে অথচ আমার ইউনিয়নের হতদরিদ্র মানুষরা রেলের জায়গায় স্থান পাচ্ছে না । অসহায় নদী ভাঙ্গন কবলিত বেশ কিছু পরিবারকে জোর করে উচ্ছেদ করা হয়েছে । বাকীদের উচ্ছেদের পায়তারা চলছে । যদি রেলের জায়গা লিজ দেয়াই হয় তাহলে সবার আগে দীঘদিন থেকে যারা দখর করে আছে ভুমিহীন নদী ভাঙ্গন মানুষদেরকেই লীজ দিতে হবে । তারাও চায় বৈধ ভাবে বসবাস করতে ।
বিষয়ে সংস্লিষ্ট কাজের ঠিকাদার লিখন মিয়ার সাথে কথা বলে তিনি বলেন কাজের স্বার্থে তাদের সরিয়ে দেয়া হয়েছে তবে উচ্ছেদের সাথে জরিত অভিযুক্ত সাব ঠিকাদার রোমান মিয়া জানান, মানুষ অভিযোগ করতেই পারে । কাজ করতে গেলে অভিযোগ আসবেই ।
এ বিষয়ে বোনারপাড়া রেলওয়ে উর্দ্ধতন উপ-সহকারি প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমরা ভরতখালি রেল ষ্টেশনের পরিত্যক্ত ৭টি ডেমেজ কোয়াটার বিল্ডিং ওয়াকশনে দেয়া হয়েছে । ওয়াকশনে নেয়া ঠিকাদার কাজ শেষ হলে জমি রেলওয়েকে বুজিয়ে দেবে । কোন জমি লিজ দেয়া হয়নি । বিল্ডিং ওয়াকশনের নামে জমি দখলে বিষয়ে তিনি একাধিক বার ঠিকাদারকে সতর্ক করেছেন । রেলের কোন স্থাপনা অবৈধ দলদারদের উচ্ছেদ করতে একমাত্র রেলওয়েই পরবে , কোন ঠিকাদার বা কোন ব্যাক্তি পারবে না ।