জলবায়ু পরিবর্তন মানবজাতিকে ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

63
gb
ঢাকা ||
অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করতে গিয়ে সমুদ্রের সুস্থ পরিবেশ যেন ঠিক থাকে সেদিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করতে গিয়ে যেন সমুদ্রের সুস্থ পরিবেশ বিঘ্নিত না হয় সেদিকে নজর দিয়ে সমুদ্র সংরক্ষণমূলক নীতি-নির্ধারণ ও সে অনুযায়ী কর্মকান্ড পরিচালনা করতে হবে।’.                              বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর শাহবাগে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে সুনীল অর্থনীতি নিয়ে মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ভারত মহাসাগর অঞ্চলকে কেন্দ্র করে উপকূলীয় ২১ রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সংগঠন ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোশিয়েশন (আইওআরএ)-এর মন্ত্রী পর্যায়ের তৃতীয় সম্মেলন বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হল। বিশ্বের ৩১ দেশের মন্ত্রী-উপমন্ত্রী, সচিবসহ উচ্চ পর্যায়ের শতাধিক প্রতিনিধি এই সম্মেলনে অংশ নিতে এরই মধ্যে ঢাকায় অবস্থান করছেন।

এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সকল সম্ভাবনার সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে টেকসই সমুদ্র অর্থনীতিকে উৎসাহিত করা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুনীল সমুদ্র সম্পদ ব্যবহার করে আমরা দারিদ্র্য বিমোচন, খাদ্য জ্বালানি নিরাপত্তাসহ বিদ্যুৎ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারি। একীভূত টেকসই সুনীল অর্থনীতির সর্বোচ্চ সুফল পেতে অংশীজনদের মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয়ের কোনো বিকল্প নাই।        তাই আপনাদের প্রতি আহ্বান, সম্মেলনে আমরা যেন সম্মিলিতভাবে সমুদ্র সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে পারি। তবে খেয়াল রাখতে হবে সমুদ্র সম্পদ অর্জন করতে গিয়ে যেন সমুদ্রের সুস্থ পরিবেশ বিঘ্নিত না হয়।’ যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ৯ বিলিয়ন মানুষের জীবনধারণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এই সুনীল অর্থনীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পালন করতে পারবে বলেও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

তিনি আরও বলেন, ‘বঙ্গোপসাগরে মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ, আহরণ ও ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের জন্য আমাদের সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে। আমরা বছরে ছয় মাস মা ইলিশ ও মাছের পোনা ধরা এবং সমুদ্রের নির্দিষ্ট অঞ্চলে ৬৫ দিন সকল প্রকার মৎস্য সম্পদ আহরণ আমরা নিষিদ্ধ করেছি। মৎস্য আহরণের এই নিষেধাজ্ঞা আরোপে আমাদের জন্য বিশেষ সুফল বয়ে এনেছে।

বাংলাদেশ ২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো মৎস্য উৎপাদনের নিজস্ব সক্ষমতা অর্জন করতে পেরেছে। ২০২১ বাস্তবায়নের শেষ প্রান্তে সামনের দিনগুলোতে আমরা উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য রুপকল্প ২০৪১ প্রণয়ন করেছি এবং জলবায়ু পরিবর্তন জনিত ক্ষতি মোকাবেলার জন্য বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ নামে একটি দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলেও বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে অবহিত করেন প্রধানমন্ত্রী।

পাশাপাশি আইওআরএ মেরিটাইম নিরাপত্তা সুরক্ষা, বাণিজ্য বিনিয়োগ সহায়তা ও মৎস্য ব্যবস্থাপনা, দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সহায়তা, পর্যটন ও সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং স্বল্প পরিসরে অর্থনীতির সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে বলেও দাবি করেন শেখ হাসিনা।

‘তবে নানাবিধ সীমাবদ্ধতার কারণে অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় বেশ কিছুটা পিছিয়ে পড়েছি। আমি আশা করি, আইওআরএ সদস্যদের মধ্যে যে কর্মতৎপরতা ও উদ্যোগ সৃষ্টি হয়েছে তা নিকট ভবিষ্যতে আরও সমৃদ্ধ হবে।’ বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

২০১৭ সালে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় অনুষ্ঠিত আইওআরএ সামিটে প্রধানমন্ত্রী অংশগ্রহণ করেছিলেন জানিয়ে বলেন, ওই বৈঠকে আইওআরএ’র নেতৃত্বে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সুনীল অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ করা এবং সমুদ্র যান চলাচলের স্বাধীনতায় সম্মান দেখানোর অঙ্গীকার করেছিল। বাংলাদেশ আগামী ১ অক্টোবর ২০২১ পরবর্তী দুই বছরের জন্য সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করবে বলে জানান এবং এই গুরুদায়িত্ব পালনে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রসঙ্গত, দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে গত বছর অনুষ্ঠিত আইওআরএ এর উচ্চ পর্যায়ের বার্ষিক বৈঠকে আন্তর্জাতিক এই সংস্থার ২০১৯-২১ বর্ষের জন্য ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ২০২১-২৩ বর্ষের জন্য চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ। সংস্থাটির সচিবালয়কে আরও শক্তিশালী করতে ৫ হাজার ৭৫০ ডলারের আর্থিক সহায়তা দিয়েছে ঢাকা। এবারই প্রথমবারের মতো আইওআরএ-এর মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের স্বাগতিক দেশ হচ্ছে ঢাকা।

gb
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More