কুকুর ও দুই বান্ধবীর গল্প : আদালত থেকে নেয়া

579
gb

তারেক চৌধুরী ||

কে বেনস্টেড এবং এন ফিনি ।দুই বান্ধবী, প্রায়ই নিজ নিজ কুকুর নিয়ে বের হন , দু জনে চা কফি খান এক সঙ্গে। বয়স ষাটের উপরে । সম্পর্কটা কয়েক বছরের। এই ঘটনা ঘটেছে ট্রেন্ট পার্ক , এনফিল্ড, নর্থ লন্ডনে। ঘটনার দিন ও দুজন একসঙ্গে বের হয়েছেন. তারা দু জন পার্কে একসঙ্গে কুকুর হাঁটান। ২০১২ সালের ফেব্রূয়ারি মাস।ফিনি তার বান্ধবী বেনস্টেডের কাছে কুকুর ‘ফ্রেয়া’র দড়িটা দিয়ে বললেন ধরো, একটা ড্রিংক কিনে নিয়ে আসি। আর তখনই ঘটলো বিপত্তি. কুকুর দড়িতে এমন হেচ্কা টান দিলো, টানের চোটে বেনস্টেডের আঙ্গুল মচকে গেলো। টানের চোটে মহিলা মাটিতে পড়ে কোমর ভেঙে যায় । আর যায় কই, বন্ধুত্ব উঠলো লাঠে। বন্ধু মামলা টুকে দিলেন কোর্টে।মামলা হয়েছে সেন্ট্রাল লন্ডন কাউন্টি কোর্টে চলতি সপ্তাহে ।
মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলেন ফিনি । নিজের অবহেলার কারণে বান্ধবীর কোমরে আঘাত পাওয়া আর আঙ্গুল মচকে যাওয়ায় ক্ষতি পূরণ দিতে হলো এক লক্ষ ১৫ হাজার পাউন্ড ,সঙ্গে মামলা খরচ বাবদ আরো এক লক্ষ পাউন্ড দিতে হলো বান্ধবী কে.।
মামলায় যে সব যুক্তি উত্থাপন করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে :বান্ধবীর জানা উচিত ছিল কুকুরটি মোটা , তরুণ , টগবগে আর যে কোন সময় বান্ধবী কে আঘাত করতে পারে। কুকুরটি হস্তান্তরের সময় সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। বেনস্টেড বলেন, কুকুর এতো মোটা যে আমি কখনই এই কুকুরটি নিতে রাজি হতাম না।কোর্টে বেনস্টেড বলেন, তাকে তার বান্ধবী কোন কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই কুকুরের দড়িটা হাতে ধরিয়ে দেন । উত্তরে ফিনি বললেন, তার বান্ধবী তাকে ‘না’ বলতে পারতেন, তা তো বলেন নি ।উত্তরে জাজ বলেন কুকুরের দড়িটা ধরিয়ে দিয়ে কোন কিছু বলার সুযোগ দেয়া হয় নি । . এমন ভাবে বলা হয়েছে, যার অর্থ হচ্ছে ‘নেও’ অথবা ‘ধরো’। কুকুর তা বান্ধবীর কন্ট্রোলে আছে কি না, তা না জেনেই তার হাতে কুকুরের দড়ির লিড দেন কুকুরের মালিক বান্ধবী ফিনি।
ক্ষতি পূরণ দাবি করে বেনস্টেড বলেন, মিস ফিনি তাকে বলেন নি কুকুরটি ধরো. আর সে কথা বললে, তিনি সোজা ‘না’ করতেন ।. বিচারক বলেন কোন ধরণের পূর্ব আলোচনা না করেই সিম্পলি কুকুরটি মিস বেনস্টেডের কাছে দিয়ে দেয়া হয়েছে . কুকুরের মালিক ফিনি তার কুকুরকে বসতে বা অপেক্ষা করতে বলেন নি ।. মিস ফিনি তার বান্ধবী বেনস্টেডের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করেই ক্যাফের দিকে হাঁটা দেন ।. মিস ফিনি এটা চিন্তা ও করেন নি,যে ভাবে কুকুর হস্তান্তর করছেন, তাতে মিস বেনস্টেড আহত হতে পারেন.। বিচারক বলেন,তার এটা করা উচিত ছিল।আদালতের মন্তব্য তার এটা করা উচিত ছিল। আদালতের মন্তব্য হচ্ছে মিস ফিনি তার দায়িত্বে অবহেলা করেছেন কুকুরের দড়িটির মাথা (লিড) দেয়ার আগে তার নিশ্চিত হওয়া উচিত ছিল মিস বেনস্টেড কুকুরটি ধরে রাখতে আরামবোধ ( কমফোর্টেবল) করেন কি না , এটা না করে তিনি তার দায়িত্বে অবহেলা করেছেন এবং সেজন্য তাকে এই ক্ষতি পূরণ দিতে হবে.। মিস বেনস্টেডের আহত হওয়ার জন্য মিস ফিনি সর্বোত ভাবে দায়ী। সাথে সাথে আদালত আরো বলেন যে, কুকুরের দড়ির মাথাটি সাথে সাথে ছেড়ে না দিয়ে মিস বেনস্টেড কোন ভুল করেন নি। কুকুরের হেচ্কা টানে তার আঙ্গুল মচকে গেছে।
বিচারক বলেন তাৎক্ষণিক ভাবে দড়িটি শিথিল না করে তিনি কোন ভুল করেন নি। .
আমরা এই গল্প থেকে কি শিখলাম বন্ধু থাকলেই তার হাতে কোন কিছু দেয়া যাবে , যদি তা এক সেকেন্ডের জন্য ও হয়,বন্ধুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে আগে।

(এটা আজকের টাইমস পত্রিকার )