পুলিশের ছত্রছায়ায় প্রাসাদে ঘুমাচ্ছেন নাফ সিমান্তের অধরা ইয়াবা গডফাদাররা

59
gb

মো:নাসির, বিশেষ প্রতিনিধি জিবি নিউজ ২৪ 

কক্সবাজারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চলমান অভিযানে কথিত বন্দুকযুদ্ধে অগণিত ইয়াবা ব্যবসায়ী নিহত হলেও এখনো ধরা ছোয়ার বাইরে রয়েছে অগণিত ইয়াবা ব্যবসায়ী। স্থানীয় পুলিশ এদের হন্য হয়ে খোঁজার ঘোষাণা দিলেও সময় সুযোগ মত ঠিকই এসব ইয়াবা ব্যবসায়ীরা শুধু পুলিশের সামনে ঘোরেন না, ক্ষেত্র বিশেষ নানান কাজে খবরদারীও করেন। মাদক বিরোধী সমাবেশে এরা বড় বড় কন্ঠে নানান অতিথির চেয়ার অলংকৃত করেন। রূপ কথার বয়ান দেন।                        

 

টেকনাফের বিতর্কীত ওসি প্রদীপ কুমার দাস এসব বক্তব্যে করতালি দিয়ে শোনেন আর বলেন, জেল-ফাঁসি যাই হোক, টেকনাফকে মাদক মুক্ত করে ছাড়বো। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে ভিন্ন। ওসির সামনেই ইয়াবা ব্যবসায়ীরা ঘুরছেন, কেউ কেউ থানায় দালালী করছেন। আবার কেউ কেউ ব্যবসায়ীক প্রতিপক্ষদের মাল ধরিয়ে দিয়ে, ভাগবাটোয়ারা শেষে পারস্পরিক চুক্তি সাপেক্ষে বন্দুক যুদ্ধ, মামলা, ছেড়ে দেয়া ইত্যাদি সমাধানে ব্যস্ত সময় কাঁটাচ্ছেন।                                                                 

 

এ অবস্থায় পুলিশের ভাষ্য মতে পলাতক শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী টেকনাফের সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মৌলভী রফিক, তার ভাই মৌলভী আজিজ, পশ্চিত সাতঘরিয়াপাড়ার বাবুল ও নাইক্ষংখালী এলাকার মৌলভী জহিরের ছেলে মফিজসহ স্থানীয় অগণিত ইয়াবা ব্যবসায়ী এবং তাদের রাজনৈতিক গডফাদাররা বীরদর্পে এলাকায় আছেন এবং মাদক বিরোধী বিভিন্ন কর্মকান্ডে পুলিশ প্রশাসনকে বিভন্ন ভাবে সহায়তা করছেন। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য এদের কেউ কেউ থানায় কর্মরত ওসির দপ্তর ও বাসায় নিয়মিত আসা যাওয়া করেন।                                                    জানা গেছে, প্রশাসনের সাম্প্রতিক তালিকায় কক্সবাজারের যে টপলিষ্টেড প্রভাবশালী ইয়াবা কারবারির (গডফাদার) নাম ওঠে এসেছে তাদের মধ্যে আছেন, শাহপরী গ্রুপের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান ইয়াহিয়া,                                                                

 

যারা মারা গেছেন তাদের বেশির ভাগই মাদকের খুচরা ব্যবসায়ী, সেবনকারী এবং দরিদ্র ও নিুবিত্ত পরিবারের লোকজন। মাদক সাম্রাজ্যে এরা কেবল ‘বাহকের’ ভূমিকা পালন করতেন। কিন্তু যারা মাদক আমদানি থেকে শুরু করে দেশের বিশাল মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে তাদের কেউই ধরা পড়েনি।                    

 

সূত্রমতে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সর্বশেষ তালিকায় যেসব শীর্ষ ইয়াবা গডফাদারের নাম উঠেছে তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের ছত্রছায়ায় বীরদর্পে অবস্থান করছে নিজ নিজ এলাকায়। তালিকায় আরও যাদের নাম রয়েছে তারা হল- টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলম ও উখিয়া-টেকনাফের সাবেক সাংসদ অধ্যাপক মোহাম্মদ আলীর দুই ছেলে রাশেদ মোহাম্মদ আলী ও মাহবুব মোরশেদ, টেকনাফ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা রফিক উদ্দিন, তার ভাই টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মৌলভী আজিজ উদ্দিন।                                              

 

টেকনাফ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল মোহাম্মদ ফয়সাল হাসান খান বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে আমাদের ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত আছে। তালিকাভুক্ত অনেক ইয়াবা গডফাদার এলাকাছাড়া হওয়ায় তাদের আইনের আওতায় আনা যাচ্ছে না। এ কারণে সিমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে এখনো মাদকের চালান ঢুকছে। বিজিবি প্রতিরোধের জোর অব্যাহত রেখেছে এবং আগামীতে তা অব্যাহত থাকবে।                  র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটলিয়ন (র‌্যাব-১৫)’র অধিনায়ক উইং কমান্ডার আজিম আহমেদ বলেন, মাদকের আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। প্রতিদিন এর সু’ফল পাচ্ছেন জনগণ। ইতোমধ্যে অনেক রাঘব বোয়ালদেরকে আমরা ধরাশায়ী করেছি। বাকিদের কেউ রেহায় পাবে না। যেখানেই থাকুক, এদের আইনের আওতায় এনে ভয়ঙ্কর এই মাদক নির্মূলে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
gb
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More