কর কমিশনারের ছেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা

73
gb

জিবি নিউজ ডেস্ক।।

সহপাঠী এক ছাত্রীকে (২০) বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করেছে বলে খুলনা কর কমিশনার প্রশান্ত কুমার রায়ের ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় শিঞ্জন রায় (২৫) নামে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর বয়রা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। শিঞ্জন এবং ওই ছাত্রী খুলনা নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির এলএলবির শিক্ষার্থী।শিঞ্জনের সঙ্গে এক বছর ধরে সম্পর্ক চলছিল ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর। তিনি বর্তমানে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলেও দাবি করেছেন। গত বুধবার অন্য এক মেয়েকে বিয়ে করে শিঞ্জন। জানতে পেরে শিঞ্জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা করেন ওই ছাত্রী।

ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রী পুলিশকে জানান, নগরীর সোনাডাঙ্গায় নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির এলএলবিতে তিনি ও শিঞ্জন একসঙ্গে পড়াশোনা করেন। এক বছর আগে শিঞ্জন তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। এরপর বিয়ে করার প্রলোভন দেখিয়ে তার ভাড়া বাসাসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করে। তার বাড়ি বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে। খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা থানা সংলগ্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে তিনি পড়াশোনা করতেন।

ওই ছাত্রী আরও জানান, শিঞ্জনকে অন্য মেয়ের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার খবর পেয়ে তিনি গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে নগরীর মুজগুন্নী আবাসিক এলাকার ১৬ নম্বর রোডে যান। এ সময় শিঞ্জনের দেখা পেয়ে অন্য মেয়েকে বিয়ে করার ব্যাপারটি জানতে চান। এরপর শিঞ্জন ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে জোর করে ইজিবাইকে তুলে দিতে চেষ্টা করে। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে দুজনকেই সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শিঞ্জন রায় এবং অভিযোগকারী ওই মেয়ে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করতেন। দুই বছর আগে শিঞ্জনের সঙ্গে ওই মেয়ের পরিচয় হয়। এক বছর আগে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। বিষয়টি জানতে পারেন শিঞ্জনের পরিবারের সদস্যরা। এ কারণে তড়িঘড়ি করে ছেলের বিয়ের আয়োজন করেন তারা। গত বুধবার শিঞ্জনের সঙ্গে পারিবারিকভাবে অন্য এক মেয়েকে বিয়ে দেওয়া হয়।

গতকাল শুক্রবার সকালে ওই ছাত্রীকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) এহসান শাহ বলেন, ভুক্তভোগী মেয়েটি বাদী হয়ে ধর্ষণের অভিযোগে সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা করেছেন। গতকাল বেলা ৩টার দিকে শিঞ্জনকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

সোনাডাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. তৌহিদুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার গভীর রাত পর্যন্ত উভয়পক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এ কারণে ওই ছাত্রীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য খুমেক হাসপাতালের ওসিসিতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার মেয়েটি গতকাল দুপুরে শিঞ্জন রায়কে আসামি করে সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা করেছেন। আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য খুলনার মহানগর হাকিম আদালতে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। তবে শুনানির দিন ধার্য হয়নি।

 

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন Accept আরও পড়ুন