পলাশবাড়ীতে আমন চারার তীব্র সংকট: দিশেহারা কৃষক

102

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল, গাইবান্ধা প্রতিনিধি ।।জিবি নিউজ।।

সাম্প্রতিক বন্যার পানিতে ডুবে আমনের বীজতলা পচে নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে আমন ধানের চারার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে পলাশবাড়ীসহ রংপুর বিভাগে। চারার অভাবে আমন ধান চাষ করতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষকরা।

জানা গেছে, চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরুতেই টানা ভারী বৃষ্টি এবং উজানের পাহাড়ি ঢলে উত্তরা লের সব নদ-নদীর পানি ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধি পায়। দুই দফা বন্যায় পলাশবাড়ীসহ উত্ত লের শত শত হেক্টর জমির বীজতলা টানা প্রায় ১০ থেকে ১৫ দিন ডুবে থাকে। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গাইবান্ধার জেলার আমনের বীজতলা। পানির নিচে থাকায় পচে নষ্ট হয় কৃষকের আমন বীজতলা। বন্যার পানি নেমে গেলে আমন ধান চাষে মাঠে নেমে পড়ে কৃষকরা। কিন্তু চারা গাছ নষ্ট হওয়ায় চারার সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে চাষিরা তুলনামূলক উঁচু অ লে ছুটছেন আমনের চারা সংগ্রহে।

এদিকে গাইবান্ধা জেলার প্রায় অধিকাংশ এলাকায় জলাবদ্ধতা ও বন্যায় বীজতলা নষ্ট হওয়ায় আমনের চারার দামও বেড়েছে কয়েক গুণ। আমন চারা অনেক কৃষকের নাগালের বাইরে রয়েছে। অপরদিকে ধানের বাজার দাম কম থাকায় বেশি বিনিয়োগ করতেও হিমশিম খাচ্ছেন কৃষক।

পলাশবাড়ী উপজেলার হরিনাবাড়ি গ্রামের সবুজ ও বাবুল নামের দুই কৃষক বলেন, ‘এবারের বন্যায় আমন চাষের বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। আমন ধান লাগানোর মতো একটি চারা গাছও নেই। এখন চারা কিনে জমিতে আমনের চাষ করতে হবে। তবে চারার দাম বেশি হওয়াতে খুবই দুশ্চিন্তায় রয়েছি।’

উপজেলার কেত্তারপাড়া গ্রামের কৃষক হালিম জানান, ৮ দোন (২৭ শতাংশ) শতাংশ জমিতে আমন লাগাতে বীজতলা তৈরি করেন তিনি। চারা গাছ বেশ বড় ও হৃষ্টপুষ্ট হয়েছিল। কিন্তু বন্যার পানিতে টানা ১০ দিন ডুবে থাকায় সমূলে নষ্ট হয়েছে। ধানের দাম কম থাকায় চড়া দামে চারা গাছ কিনে রোপণ করে মুনাফা নিয়েও শঙ্কিত তিনি।

উপজেলার বড় শিমুলতলা গ্রামের জিয়া ও কাজিরবাড়ি গ্রামের ইউনুছ মিয়া বলেন, ‘বীজতলার আমন চারা গাছ বন্যায় ডুবে নষ্ট হয়েছে। উঁচু অ ল থেকে ধানের চারা গাছ কিনে লাগাবেন। এতে দোন প্রতি খরচ হবে ১২শত টাকা। এত খরচ করে ধান চাষে মুনাফা হবে না।’

অন্যদিকে উপজেলার বৃষ্ণপুর গ্রামের মমিনুল ইসলাম জানান, পরিবারের খাদ্যের যোগান দিতে মাত্র ৫৪ শতাংশ জমিতে আমন ধানের চাষ করবেন তিনি। যার অর্ধেক জমির চারা এখনো কিনতে পারেননি। চারা গাছ পেলে রোপণ করবেন। না পেলে জমি ফাঁকা ফেলে রাখবেন।

উপজেলার নয়আনা গ্রামের চাষি আবুল হোসেন জানান,  বন্যায় পানিবন্দিদের ত্রাণ দেয়া হয়। কিন্তু কৃষকের আমনের বীজতলা নষ্ট হলেও কেউ সহায়তা করে না। এ জন্য সরকারিভাবে চারা গাছ সরবরাহের দাবি জানান তিনি।

কুড়িগ্রামের কুমিদপুর গ্রামের কাশেম মিয়া বলেন, ‘সরকার বন্যার্তদের ত্রাণ দেয়। ত্রাণ হিসেবে কৃষকদের আমনের চারা গাছ দেয়া হোক। নতুবা চারা গাছের অভাবে এ অ লের অধিকাংশ জমি ফাঁকা থাকবে।’

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, রংপুর অ লের কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলায় ৫ লক্ষ ৬ হাজার হেক্টর জমিতে চলতি মৌসুমে আমন ধান চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩২ হাজার ১১৬ দশমিক ৯ হেক্টর জমির বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, রংপুর অ লে সৃষ্ট বন্যায় বীজতলা নষ্ট হওয়া কৃষকদের তথ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে চাহিদা দেওয়া হয়েছে। তবে কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত কৃষকদের নানাভাবে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।