ক্রাইম রিপোর্টার আর পুলিশের কাজ একই সূত্রে গাঁথা ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া 

139
মো:নাসির, বিশেষ প্রতিনিধি জিবি নিউজ ২৪ —         
ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, বিমা ক্রাইম রিপোর্টারের আর্থিক-সামাজিক নিরাপত্তা বাড়াবে। তিনি বলেন, ক্রাইম রিপোর্টার আর পুলিশের কাজ একই সূত্রে গাঁথা। এ দুই পেশার মানুষের কাজের কোন পরিধি নেই। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দিনরাত কাজ করেন। এরা অসুস্থ হলে অর্থনৈতিকভাবে বেকায়দায় পড়ে যান। আর এ দুঃসময়ে যদি বিমা করা থাকে তা হলে চিকিৎসাসহ বিভিন্ন দুযোর্গ মোকাবিলায় বড় ধরনের একটি সাপোর্ট পাওয়া যায়। তাই এ পেশায় জড়িত সকলেই যেন বিমার আওতায় আসেন। সকল ক্রাইম রিপোর্টার ও পুলিশ ভাইদের প্রতি আমার এ অনুরোধ রইল। 

মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে সানলাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানির সঙ্গে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টারস এসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সঙ্গে গ্রুপ সাময়িক জীবন বিমা চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এ কথা বলেন। 

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট দুই পেশার লোকদের সামাজিক নিরাপত্তা দেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। কারণ হিসেবে কমিশনার বলেন, ঝুঁকি নিয়ে কাজ করার সময় প্রতিবছরই বিভিন্ন অপঘাতে একাধিক সদস্য মারা যাচ্ছে। বিশেষ করে সড়ক দুর্ঘটনায় ট্রাফিক বিভাগের সদস্য বেশি মারা যাচ্ছে। তা ছাড়া প্রবীন সাংবাদিকদের অসুস্থতার সময় তাদের বড় ধরনের সাপোর্ট হচ্ছে বিমা। শুধু তাই নয়, তাদের সন্তানদের লেখাপড়ার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের অনেকের সার্মথ থাকে না। এটাও শিক্ষা বিমার আওতায় আসলেও ওই শিক্ষার্থীর লেখাপড়ার ব্যাঘাত ঘটে বলেও কমিশনার জানান। 

বক্তব্যে জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, যেহেতু সাংবাদিকদের সংগঠন ঢাকা রিপোর্টারস ইউনিটি (ডিআরইউ) সকল সদস্য গ্রুপ বিমার আওতায় এসেছে ৫ বছর আগে। আজ ক্র্যাবের ২৭২ জন সদস্য গ্রুপ বিমার আওতায় এসেছে। এ বিমা আমাদের দুর্দিনের সহযোগিতার অবলম্বন। আমার প্রেসক্লাবের সকল সদস্যদের এ গ্রুপ বিমার আওতায় নিয়ে আসবো। 

সান লাইফ ইন্সরেন্স কোম্পানির সহ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহাদাত হোসেন সোহাগ বলেন, আমাদের বিমার কাজই হচ্ছে, দুর্দিনে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। অসুস্থদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। তিনি বলেন, ২৬টি রোগের জন্য বীমার সুযোগ থাকছে। অসুস্থদের চিকিৎসা ব্যয় ৭৫ হাজার টাকা, অস্বাভাবিক মৃত্যু হলে পরিবারকে ৪ লাখ টাকা এবং স্বাভাবিক মৃত্যু হলে ২ লাখ টাকা পাবেন।   

ক্র্যাব সভাপতি আবুল খায়ের বলেন, আমরা অন্যের জন্য করি, কিন্তু নিজেদের জন্য কিছুই করতে পারি না। অসুস্থ হলে চিকিৎসার টাকা নেই। এটা যেন আর বলতে না হয়, এ জন্যই ক্র্যাবের সকল সদস্যের জন্য গ্রুপ বিমা করেছি। আগুনে পড়ে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন আমাদের সিনিয়র সদস্য ফজলুল হক শাওনকে বিমার টাকা দিয়ে এ মহৎকাজ শুরু করবো। আপনার আমাকে সহযোগিতা করবেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- ক্র্যাবের কার্যনির্বাহী কমিটির কর্মকর্তা, সিনিয়র সদস্য, সাবেক নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা।