আবারও বর্ণবাদী মন্তব্য ট্রাম্পের

217

মো:নাসির, বিশেষ প্রতিনিধি জিবি নিউজ ২৪ ||

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আবারও ‘বর্ণবাদী’ করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট শনিবার টুইটারে প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্রেট সদস্য এলিজা কামিংস এবং মেরিল্যান্ডের যে আসন থেকে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন, তার বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দেগেছেন। ট্রাম্প কামিংসের নির্বাচনী এলাকা কৃষ্ণাঙ্গ অধু্যষিত বাল্টিমোরকে ‘ইঁদুর-উপদ্রম্নত নোংরা’ এলাকা হিসেবে অভিহিত করেছেন। প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ওভারসাইট কমিটির চেয়ারম্যান কামিংস যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তের শরণার্থীদের নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের পদক্ষেপগুলোর সমালোচনা করায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাকে ‘মাস্তান’ হিসেবেও অ্যাখ্যা দেন।
প্রতিনিধি পরিষদের এ ওভারসাইট অ্যান্ড রিফর্ম কমিটি মূলত করদাতাদের অর্থের অপচয়, জালিয়াতি ও অপব্যবহার হচ্ছে কি-না, তার তদারকি করে। কমিটির বর্তমান চেয়ারম্যান কামিংস সম্প্রতি শরণার্থীদের আটককেন্দ্রগুলোর পরিচালনাসহ ট্রাম্প প্রশাসনের বেশকিছু নীতি নিয়ে তদন্তের সূচনা করেছিলেন। গত সপ্তাহে কংগ্রেসের এক শুনানিতে তিনি আটক কেন্দ্রগুলোর পরিস্থিতি নিয়ে ভারপ্রাপ্ত মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কেভিন ম্যাকঅ্যালেনানের কঠোর সমালোচনা করেন। অ্যালেনানের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের সময় কামিংস সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় ‘উন্নতি সাধনের’ দাবিও তুলেছিলেন। বলেছিলেন, অভিবাসী ইসু্য নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘সহানুভূতির ঘাটতি’ আছে।

সঙ্গত কারণেই কামিংসের নামটি শুনতে রাজি নন ট্রাম্প। শনিবার পরপর কয়েকটি টুইট করে কামিংসকে বাজে ভাষায় আক্রমণ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ওইসব টুইটে বেরিয়ে এসেছে কৃষ্ণাঙ্গদের সম্পর্কে ট্রাম্পের বিদ্বেষ-মূলক মনোভাব। তিনি বলেছেন, এলিজা কামিংস মেক্সিকো সীমান্তের রক্ষীদের প্রতি চেঁচাচ্ছেন। কিন্তু তার নিজের বাল্টিমোর আরও বিপজ্জনক জায়গা। এটি ‘ইঁদুর ও পোকামাকড়ে ভর্তি’ একটা জঘন্য জায়গা।

এদিকে, হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির পাশাপাশি অন্য ডেমোক্রেটরাও ট্রাম্পের মন্তব্যের নিন্দা জানিয়ে কামিংসের প্রতি তাদের দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেট দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী এলিজাবেথ ওয়ারেনও ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘বর্ণবাদী’ অ্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প যে বর্ণবাদী, তা আবারও বোঝা গেল। এবার তিনি আগের চেয়েও তীব্র বর্ণবাদী মন্তব্য করেছেন। কংগ্রেস সদস্য এবং যে এলাকার তিনি প্রতিনিধিত্ব করেন, উভয়ের জন্যই এটা চরম অপমানজনক। আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটদের মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে থাকা জো বাইডেন বলেছেন, প্রেসিডেন্টের টুইটই দেখাচ্ছে, কেন তিনি ‘ওভাল অফিসের জন্য অনুপযুক্ত’।

কংগ্রেসওম্যান রাশিদা তালিব বলেছেন, ‘কামিংস যুক্তরাষ্ট্রের এমন মূল্যবোধের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছেন, যা বোঝার সামর্থ্যই নেই ট্রাম্পের। তিনি (কামিংস) জনগণের জন্য যুদ্ধ করা এক নেতা, যা আপনি (ট্রাম্প) কখনোই হতে পারবেন না।’ ট্রাম্পের মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য ওকাসিও-কর্টেজ ও কমলা হ্যারিসও। যে চার ডেমোক্রেট নারী প্রতিনিধিকে ‘দ্য স্কোয়াড’ নামে ডাকা হয়, তালিব ও ওকাসিও-কর্টেজ তাদের অন্যতম।

ট্রাম্প কয়েক সপ্তাহ আগে তালিব, কোর্তেজ, আইয়ানা প্রেসলি ও ইলহান ওমরকে ‘যে অপরাধপ্রবণ দেশগুলো থেকে এসেছো, সেখানে চলে যাও’ মন্তব্য করে রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের কড়া সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। তাই কামিংসকে নিয়ে করা প্রেসিডেন্টের ‘বর্ণবাদী’ মন্তব্য ‘স্কোয়াডের’ বিরুদ্ধে করা মন্তব্যের ধারাবাহিকতা বলছেন ডেমোক্রেট সমর্থকরা।

মেরিল্যান্ডের এমপি কামিংস অবশ্য ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তুলনামূলক উদারভাবেই। তিনি বলেছেন, নির্বাহী বিভাগের তদারকি করা আমার সাংবিধানিক দায়িত্ব। আর সংসদীয় এলাকার হয়ে লড়াই করা আমার নৈতিক দায়িত্ব।’

মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘বর্ণবাদী’ মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও সমালোচনা করেছেন বাল্টিমোরের মেয়র বার্নার্ড জ্যাক ইয়ং। টুইটারে ট্রাম্পকে বাল্টিমোর শহর, যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের ‘মানুষের জন্য হতাশা’ অ্যাখ্যা দিয়ে ইয়ং বলেন, ‘বাল্টিমোরের মতো তারুণ্য স্পন্দিত একটি মার্কিন শহরে এবং এলিজা কামিংসের মতো একজন দেশপ্রেমিক ও নায়কের নামে আমাদের দেশেরই একজন রাজনৈতিক নেতা কাদা ছুড়বে, তা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।’

কামিংস এবং বাল্টিমোর নিয়ে প্রেসিডেন্টের মন্তব্যে ডেমোক্রেটরা সরব হলেও রিপাবলিকান শিবিরকে একেবারেই চুপ থাকতে দেখা গেছে।