মনু নদীর পানি বিপদসীমার ৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে যে কোন মুহূর্তে মনু প্রতিরক্ষা বাদ হুমকির মুখে পড়বে

71
gb

নজরুল ইসলাম মুহিব,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি \

অতিবৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে জেলার মনু, কুশিয়ারা ও ধলাই নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বেড়েই চলছে এ তিন নদীর পানি। রোববার (১৪জুলাই) দুপুরে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী রণেন্দ্র শঙ্কর চক্রবর্তী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান মনু নদীর পানি বিপদসীমার ৪০ সেন্টিমিটার ও ধলাই নদীর পানি বিপদসীমার ১৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এরই মধ্যে ধলাইয়ের একটি ভাঙা বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করে কমলগঞ্জ পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড প্লাবিত হয়েছে। এখন অবধি পানি বাড়ছেই। স্থানীয়দের মতে বন্যার পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। গেল ক’দিনের অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে মনু ও ধলাই নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় রোববার (১৪ জুলাই) বিকেল পর্যন্ত মৌলভীবাজার জেলায় ১৩৩হেক্টর আউশ ধান ও ৭ হেক্টর আমনের চারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। জেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর তথ্যমতে পানিতে ডুবে মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় ৮হেক্টর ও কমলগঞ্জ উপজেলায় ১২৫ হেক্টর আউশ ধান ও সদর উপজেলার মনুমুখ ইউনিয়নের ৭ হেক্টর আমনের চারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক কাজী লৎফুল বারী ইত্তেফাককে জানান এ বছর মৌলভীবাজার জেলায় ৫৩ হাজার ১০ হেক্টর আউশ ধান আবাদ হয়েছে। এ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ১৪০ হেক্টর ধান ও চারা। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: এমদাদুল হক ইত্তেফাককে জানান জেলার কমলগঞ্জ ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙ্গে ২৩ টি পুকুর, ৩হেক্টর মাছের আবাদের প্রায় ৫.৯ মেট্রিকটন মাছ বানের পানিতে ভেঁসে যায়। যার বাজার মূল্য প্রায় ৮ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা। মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী রণেন্দ্র শঙ্কর চক্রবর্তী জানান, টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে কুশিয়ারা, মনু ও ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। আশা করা হচ্ছে পানি নেমে যাবে। নদীভাঙন ও বন্যা এড়াতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। গত শনিবার ২৪ ঘণ্টায় কুলাউড়া উপজেলায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১৪ দশমিক ৭০ মিলিমিটার। মনু নদীর পানি বিপদসীমার ( মনুরেলওয়ে ব্রিজের কাছে) ৭৫ সেঃমিঃ উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে যে কোন মুহূর্তে মনু প্রতিরক্ষা বাদ হুমকির মুখে পড়বে। নদী তীরের মানুষ আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। নদী তীরের হাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল বাসিত বাচ্চু জানান,হাজীপুর ইউনিয়নের প্রতিরক্ষা বাঁধের উপর সার্বক্ষনিক নজরদারী রাখা হয়েছে। এই পর্যন্ত ৫টি স্থান ঝুঁিকপূর্ণ রয়েছে। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। মনু রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন কটারকোনা-মনু সড়কের হাসিমপুর গ্রামের একটি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় গত ১সপ্তাহ যাবৎ সেখানে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরক্ষা বাঁধ মেরামতের কাজ চলছে। এই স্থানের বাঁধের পাশে ২টি পুকুর থাকায় পানি চুয়ে চুয়ে নদীতে পড়ছে ফলে বাধঁটির একটি অংশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। বাঁধের অন্যান্য অংশ এই পর্যন্ত অক্ষত রয়েছে। কুলাউড়ার গাজীপুর চা বাগানের সিনিয়র ব্যবস্থাপক কাজল মাহমুদ জানান, গত বছর এমনদিন পর্যন্ত সর্বমোট বৃষ্টিপাত হয়েছিল ১২৯ মিঃমিঃ, গত রোববার এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এই বছর বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১৪৪ দশমিক ৭৮ মিঃমিঃ। থেমে থেমে ভারী বর্ষণ হওয়ায় বাগানের চা-শ্রমিকরা পরিমাণ মতো কাঁচা পাতা আহরণ করতে পারছে না। ফলে চা-গাছগুলো মাত্রাতিরিক্ত লম্বা হয়ে যাচ্ছে এবং পাতার গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে। কুলাউড়া-বড়লেখা আঞ্চলিক সড়কের কিছু কিছু স্থান বৃষ্টির পানি ছুঁই ছুই করছে। কয়েকদিনের একটানা প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুরে কুশিয়ারা নদীর পানি ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়ে বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। মৌলভীবাজার সদর থানার ব্রাহ্মণগ্রাম, হামরকোনা, দাউদপুর ও ওসমানীনগর থানার লামাতাজপুর এলাকার ডাইকগুলো মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। গত শনিবার রাতে ব্রাহ্মণগ্রাম ডাইকের উপর দিয়ে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করলে এলাকাবাসীর প্রাণপণ চেষ্টায় রক্ষা পেলেও হামরকোনা, মৌলভীবাজার,সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিদর্শনে আসেন এবং বাঁধ মেরামত কাজ শুরু করেন। এলাকাবাসী জানান, বর্তমানে যেভাবে ভারীবর্ষণ হচ্ছে তা অব্যাহত থাকলে পুরো শেরপুর এলাকা বন্যার জলে ভেসে যাবে। মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের জাহাঙ্গির বক্স জানান, সকাল ৬টায় পানি ছিলো বিপদসীমার ৮.২৮ সে.মি এবং সন্ধ্যা ৬টায় ৮.৪০ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যেকোন সময় পানি ডাইক ভেঙে লোকালয়ে প্রবেশ করতে পারে বলে এলাকাবাসী আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

gb
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More