ডিআইজি মিজান কারাগারে

191

জিবি নিউজ 24 ডেস্ক//

অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সাময়িক বরখাস্ত হওয়া পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ও জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালত একই সঙ্গে মিজানের জামিনের আবেদনও নামঞ্জুর করেন। গতকাল সকাল ১১টার দিকে শাহবাগ থানা থেকে ডিআইজি মিজানকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। তাঁর পক্ষে আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গত সোমবার মিজানের আগাম জামিনের আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ ডিআইজি মিজানকে পুলিশের কাছে তুলে দেন। একই সঙ্গে পুলিশের রমনা জোনের উপকমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয় ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মিজানকে হাজির করার। এই নির্দেশের পর পুলিশ তাঁকে আদালত কক্ষ থেকে গ্রেপ্তার করে শাহবাগ থানায় নিয়ে যায়। ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই তাঁকে জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে হাজির করা হয়।

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দুদকের মামলায় গত রবিবার হাইকোর্টে আগাম জামিন চেয়ে আবেদন করেন ডিআইজি মিজান।

গত ২৪ জুন তিন কোটি সাত লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন এবং তিন কোটি ২৮ লাখ টাকা অবৈধভাবে অর্জনের অভিযোগে মিজানের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। মামলায় মিজানুর রহমান, তাঁর স্ত্রী সোহেলিয়া আনার রত্না, ছোট ভাই মাহবুবুর রহমান ও ভাগ্নে মাহমুদুল হাসানকে আসামি করা হয়।

ওই মামলার বর্ণিত সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধানকালে দুদক কর্মকর্তাকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দেওয়ার কথা নিজে গণমাধ্যমে প্রকাশ করে নতুন করে আলোচনায় আসেন পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

মিজান ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিয়ে গোপন করতে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দ্বিতীয় স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করানোর অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। এ ছাড়া এক সংবাদ পাঠিকাকে প্রাণনাশের হুমকি ও উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে মিজানের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়। নারী নির্যাতনের অভিযোগে গত বছরের জানুয়ারির শুরুর দিকে তাঁকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। দুদক কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার কথা প্রকাশ করা এবং তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর গত ২৫ জুন তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

সোমবার জামিনের আবেদন খারিজ করে আদালত বলেন, ‘আমরা তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করছি। তিনি যা করেছেন! ঘুষ দেওয়া নিয়ে টেলিভিশনে তাঁর সাক্ষাৎকার দেখেছি। সেখানে তিনি বেপরোয়া বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি দেশ ও পুলিশের ভাবমূর্তি ধ্বংস করেছেন।’

ভাগ্নেকে আত্মসমর্পণ করতে হবে : জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দায়ের করা ওই মামলায় মিজানের সঙ্গে তাঁর ভাগ্নে পুলিশের এসআই মো. মাহমুদুল হাসানও আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন। মিজানকে পুলিশের হাতে তুলে দিলেও ভাগ্নেকে ৭২ ঘণ্টা সময় দিয়ে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের নির্ধারিত সময়সীমা আগামীকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে তাঁকে হাজির হতে হবে।

ফোনে কথা বললেন এজলাসেই : গতকাল সকাল ১১টার দিকে তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত কক্ষে ঢুকেই তিনি ডান পাশের সারির একটি বেঞ্চে বসে পড়েন। এ সময় তাঁর সঙ্গে দুজন আইনজীবী ছিলেন। পেছনে ছিলেন ১০-১২ জন পুলিশ সদস্য।

এরপর মিজানুর রহমান তাঁর পকেট থেকে একটি মোবাইল ফোন বের করেন। তিনি একজন আইনজীবীকে কথা বলার জন্য ফোনটি দেন। আদালতে উপস্থিত সবাই ফোনে কথা বলার বিরোধিতা করলে তিনি ফোনটি আবার পকেটে রেখে দেন। এরপর কয়েকবারই ফোনটি বের করে তিনি কথা বলেন।

আদালতে মামলা চলাকালে ফোন ব্যবহার করা নিষেধ হলেও পুলিশের ঊর্ধ্বতন এই কর্মকর্তা বারবারই এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেন। জানা গেছে, তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা একজন পুলিশ কনস্টেবলের ফোন এটি।

এ ছাড়া পুলিশের কর্মকর্তা, এসআই, এএসআই ও কনস্টেবলরা সারাক্ষণই মিজানের সঙ্গে কথা বলেন