বরিসের ফের ব্রেক্সিট প্যাঁচ!বান্ধবী নিয়ে কেলেঙ্কারি ঢাকতে চেষ্টা

137

জিবি নিউজ ডেস্ক:

বান্ধবী নিয়ে কেলেঙ্কারিতে প্রবল চাপের মুখে প্রধানমন্ত্রিত্বের লড়াইয়ের অন্যতম প্রার্থী ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন।

সেদিন রাতে বান্ধবী ক্যারি সাইমন্ডসের সঙ্গে ঠিক কি ঘটেছিল, কেনই বা বাড়িতে পুলিশ ডাকা হয়েছিল- তার একটা বিশ্বাসযোগ্য ব্যাখ্যা চাচ্ছে তার দল ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি ও দলের দাতাগোষ্ঠীগুলো।

কিন্তু কেলেঙ্কারির ঘটনা থেকে নজর ঘোরাতে ব্রেক্সিট নিয়ে ফের প্যাঁচ কষলেন বরিস। ডেইলি টেলিগ্রাফে সোমবার লেখা নিয়মিত কলামে ব্যক্তিগত সমস্যার ব্যাখ্যা দেয়ার পরিবর্তে ব্রেক্সিট নিয়ে চলমান রাজনৈতিক সমস্যার প্রতিই ব্রিটিশদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

ওই কেলেঙ্কারির পর সোমবারই ফের বান্ধবীকে নিয়ে ডেটিংয়ে বের হন বরিস। কিন্তু বরিসের এ রাজনৈতিক প্যাঁচ কাজে আসছে না। তার বিরুদ্ধে ব্রেক্সিট নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টির অভিযোগ করেছেন কনজারভেটিভ পার্টির আরেক নেতা ও প্রধানমন্ত্রিত্বের লড়াইয়ে সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বী জেরেমি হান্ট। বরিসের বিরুদ্ধে তার বাড়ির সামনে বিক্ষোভও দেখিয়েছে বিরোধীরা।

বৃহস্পতিবার রাতে বান্ধবী ক্যারি সিমন্ডসের সঙ্গে তুমুল ঝগড়া হয় জনসনের। সেই ঝগড়ার অডিও ধারণ করে গণমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন এক প্রতিবেশী। এ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। কিন্তু মুখ খুলছেন না জনসন। এরপর প্রধানমন্ত্রিত্বের চূড়ান্ত দুই প্রার্থী শনিবার দলীয় নেতাকর্মীদের সামনে হাজির হন। তারা প্রধানমন্ত্রী পদে যোগ্যতা প্রমাণে ব্রেক্সিটসহ দেশের নানা বিষয়ে নিজ নিজ অবস্থান তুলে ধরেন। কিন্তু সব ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে বরিসের বান্ধবীকাণ্ড। বিতর্কে বান্ধবীর সঙ্গে ঝগড়ার বিষয়টি বারবার এড়িয়ে যান জনসন, যা আরও সমালোচনার রসদ জুগিয়েছে।

কিন্তু নিজের লেখায় বরিস বলেন, ‘যা-ই ঘটুক ৩১ অক্টোবরেই আমাদের অবশ্যই ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়তে হবে। তাতে ব্রেক্সিট গণভোটের সমুন্নীত হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আইনানুযায়ী ব্রেক্সিটের নির্ধারিত দিন থেকে আমরা আর মাত্র ৪ মাস দূরে আছি। আমরা অবশ্যই ব্রেক্সিট সম্পূর্ণ করব। এবার আমরা আর এটা বোতলে আটকাচ্ছি না।’ তিনি বলছেন, প্রধানমন্ত্রী হয়ে মাথা উঁচু করে ১০নং ডাউনিং স্ট্রিটে ঢুকতে হলে ব্রেক্সিট বিষয়ে তাকে অবশ্যই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে।

আর সে জন্য প্রকাশ্য বিতর্কে অংশ নিতে হবে। সোমবার এক বিবৃতিতে পারিবারিক কেলেঙ্কারিতে জনগণের সব প্রশ্নের উত্তর দিতে বরিসের প্রতি আহ্বান জানান জেরেমি। বলেন, ‘কাপুরুষের মতো ভয় পাবেন না।

পুরুষ মানুষের মতো আচরণ করুন। প্রশ্নের জবাব দিন।’ সোমবার ক্যারি ও বরিসের বাড়ির সামনে বিক্ষোভও দেখায় বরিসবিরোধীরা। তারা বলেন, এ জুটিকে তারা আর ওই এলাকায় দেখতে চান না। এ সময় বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না বরিস ও তার বান্ধবী।