মাধবপুরে নতুন গ্রিড উপকেন্দ্র নির্মাণে সাড়া নেই ২ বছরেও

শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ শুধুই কাগুজে ঘোষণা

95
gb

হবিগঞ্জের শাহজিবাজারের পুরনো গ্রিড সাব-স্টেশন থেকে বিদ্যুৎ নিয়ে ১৫ কিলোমিটার দূরের শিল্পকারখানায় সরবরাহ করতে অনেকটা হিমশিম খাচ্ছে হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।

দিনে দু-তিনবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটলেও তা কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। একে তো দীর্ঘলাইন, উপরন্তু নেই পর্যাপ্ত জনবল। দায়িত্বশীলদের উদাসীনতা তো আছেই। শিল্পকারখানার কর্মকর্তাদের মতে, এত দীর্ঘ লাইনে কখনও কোনো ত্রুটি দেখা দিলে তা সারাতেও নানা টালবাহানা করেন স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির লোকজন।

নিরবচ্ছিন্ন কোয়ালিটি বিদ্যুতের নিশ্চয়তা পেয়ে হবিগঞ্জের মাধবপুরে শিল্পকারখানা গড়ে তুলেছেন অনেকেই। কিন্তু এখন ৩৩ কেভি লাইনেও যেনতেন কারণে বিদ্যুৎ চলে যায়। এতে করে ক্ষতির শেষ নেই। শুধু কেমিক্যাল বিনষ্ট নয়, অত্যাধুনিক মেশিনারিজ বিকল হয়ে পড়ছে। বাধ্য হয়ে নতুন করে যন্ত্রপাতি স্থাপন করতে হচ্ছে।

এমনিতে এখন নানারকম ঝুঁকি নিয়ে শিল্পে বিনিয়োগ করতে হয়, তার ওপর বিদ্যুৎ নিয়ে এমন হেনস্তা মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় ভুক্তভোগী মহল সংকটের দ্রুত সমাধান চায়।

নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে ২০১৭ সালে হবিগঞ্জের মাধবপুরের জগদীশপুরে একটি গ্রিড সাব-স্টেশন নির্মাণের জন্য প্রকল্প তৈরি করে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড। কিন্তু সেই প্রস্তাবনাতেই আটকে আছে প্রকল্পটি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, বর্তমান সরকারের অন্যান্য অর্জনের মধ্যে বড় অর্জন বিদ্যুৎ উৎপাদন। কিন্তু নিরবচ্ছিন্ন না হওয়ায় তা ভেস্তে যাচ্ছে। শুধু নতুন গ্রিড সাব-স্টেশন নয়, যে কোনো মূল্যে হবিগঞ্জের শিল্পকারখানাগুলোতে কোয়ালিটি পাওয়ার নিশ্চিত করার আহ্বান তাদের।

শুধু আবাসিক গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে ১৯৬৭ সালে স্থাপিত হয় হবিগঞ্জের শাহজিবাজারের গ্রিড সাব-স্টেশনটি। চাহিদা বাড়তে থাকায় ২০০২ সালে হয় সংস্কার কাজ। সেটাও ছিল বাণিজ্যিক আর সেচের চাহিদার জন্য। কিন্তু ২০১৫ সাল থেকে হবিগঞ্জে শিল্পকারখানা স্থাপিত হওয়ায় দ্রুত চাহিদা বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে যায়। শুধু হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের বর্তমান গ্রাহক ৪ লাখ।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের গ্রাহক সংখ্যা আরও ২ লাখ। শুধু পল্লী বিদ্যুতের আবাসিক, বাণিজ্যিক ও সেচের গ্রাহকরা ব্যবহার করেন ২ কোটি ৯৮ লাখ ৪ হাজার ১৪ ইউনিট আর শিল্পকারখানা ব্যবহার করে ২ কোটি ১৮ লাখ ৬০ হাজার ইউনিট।

আর এমন চাহিদার জন্যই ২০১৭ সালে শিল্পকারখানার জন্য স্টেশনটির ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়। কিন্তু এই সাব-স্টেশন থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হলেও তা দূরত্বের কারণে কোয়ালিটি পাওয়ার নিশ্চিত করতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি- এমন অভিযোগ শিল্পকারখানাগুলোর।

মাধবপুরের বিএইচএল সিরামিকের মহাব্যবস্থাপক মো. সাইফুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে গ্রিড সাব-স্টেশন। এত দূরত্বের লাইনে ত্রুটি হয় নিয়মিত। কিন্তু ত্রুটি সারানোর জন্য বারবার ফোন দিলেও পল্লী বিদ্যুতের লোকজনের সময় লাগে ঘণ্টাখানেক। কিন্তু সাব-স্টেশনটি যদি দু-এক কিলোমিটারের মধ্যে হতো, তাহলে হয়তো বিদ্যুৎ বিভ্রাট থেকে রক্ষা পাওয়া যেত।

একই দাবি ফারইস্ট স্পিনিং ইন্ডাস্ট্রিজের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (ইউটিলিটি) রফিকুল ইসলামের। তিনি জানান, শিল্পাঞ্চল মাধবপুরের জগদীশপুরে একটি সাব-স্টেশন স্থাপনের দাবি ছিল শিল্প মালিকদের। কিন্তু সেটা বাস্তবায়নের কোনো নড়াচড়া নেই। তিনি বলেন, এখানে সাব-স্টেশন হলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে বিপুল ক্ষতি থেকে মুক্তি পাবে শিল্পকারখানাগুলো।

হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা যায়, শিল্পে প্রতিনিয়ত চাহিদা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ লোড চাহিদা বিবেচনা করে ২০১৭ সালের ২৬ অক্টোবর ২৭.১২.২৬৩৭.১৭৩.৩১.০৪৫.১৭.৪৭৭ স্মারকে নতুন ১৪টি গ্রিড সাব-স্টেশন নির্মাণের প্রস্তাবনা পাঠায় বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড। সঙ্গে ডিপিপিও তৈরি করে প্রতিষ্ঠানটি।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের (পিজিসিবি) কাছে পাঠানো এই প্রস্তাবিত প্রকল্পের তালিকায় ৪ নম্বরেই ছিল হবিগঞ্জের মাধবপুরের জগদীশপুর গ্রিড সাব-স্টেশন প্রকল্প। কিন্তু এর পর আর এগোয়নি।

হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক মো. মোতাহার হোসেন জানান, সেই প্রকল্প এখন কীভাবে আছে তা তার জানা নেই। তবে তিনি সেই প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সবার সহযোগিতা চান।

এদিকে হবিগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মো. মোতাচ্ছিরুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, দেশের উন্নয়নের অনেকটাই নির্ভর করে শিল্পের উন্নয়নের ওপর। বর্তমান সরকারের দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টায় শিল্পের অবদান রয়েছে।

বিদ্যুতের ঘাটতি নেই, শুধু একটি সাব-স্টেশনের জন্য কেন শিল্পকারখানাগুলো ক্ষতির সম্মুখীন হবে- এমন প্রশ্ন তার। আগামী দু’মাসের মধ্যে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি করেন তিনি।

gb
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More