রেলে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করছে শিশুরা

বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস পালিত

ইঞ্জিন খোলা ও লাগানোর মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজটি করছে শিশু-কিশোররা

32

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে মাদকাসক্ত শিশুদের দিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করাচ্ছেন দায়িত্বরত কর্মচারীরা। আন্তঃনগর, মেইল কিংবা লোকাল ট্রেনের ইঞ্জিন খোলা ও লাগানোর মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজটি বছরের পর বছর করছে ছিন্নমূল শিশু-কিশোররা।

কাজটি কার, কে করছে তা দেখারও কেউ নেই। যৎসামান্য টাকার বিনিময়ে শিশুদের দিয়ে কাজগুলো করিয়ে বসে বসে বেতন নিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। এমন প্রেক্ষাপটে প্রতি বছরের মতো এবারও বুধবার বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস পালিত হয়েছে। এবারে দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘শিশুশ্রম নয়, শিশুর জীবন হোক স্বপ্নময়।’ দিবসটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন।

সাধারণ মানুষকে রেলপথমুখী করতে আওয়ামী লীগ সরকার চেষ্টা করছে। বুলেট, বৈদ্যুতিক ও হাই-স্পিড ট্রেন চালানোরও উদ্যোগ নিয়েছে। অথচ সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ ট্রেনের দৈনন্দিন কাজে দায়িত্ব পালনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনো দায়িত্ববোধ নেই। দেশের প্রধান রেলওয়ে স্টেশন কমলাপুরে রেলের ইঞ্জিন খোলা ও লাগানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ শিশুদের দিয়ে করানো হচ্ছে। শুধু কমলাপুর নয়, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেটসহ বিভিন্ন স্টেশনেও ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত এ রকম ‘ভয়ানক’ কাজ করছে শিশুরা। ঝুঁকিপূর্ণ এ কাজে উনিশ থেকে বিশ হলেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। এ কাজে দায়িত্বরত পয়েন্টম্যানরা নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছেন।

স্টেশনে অবস্থানরত ট্রেনে পানি দেয়া, গার্ড ও চালকের মালামাল উঠানো-নামানো থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজই শিশুদের দ্বারা করানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা এতই প্রভাবশালী যে, বছরের পর বছর ধরে এমন অনিয়ম করে এলেও তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যে সব কর্মকর্তা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবেন তারাও এ অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। এক্ষেত্রে অবৈধ লেনদেন হচ্ছে।

এ বিষয়ে ঢাকা রেলওয়ে বিভাগীয় মহা-ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ গাওস আল মুনীর মঙ্গলবার যুগান্তরকে জানান, একেকটি ট্রেনের ইঞ্জিন খোলা ও লাগানোর মতো ঝুঁকি এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করার জন্য নির্ধারিত পয়েন্টম্যান রয়েছে। এ কাজ শুধু তাদেরই করার কথা। সঠিক নিয়মে, সঠিক পদ্ধতিতে ইঞ্জিন খোলা ও লাগানোর কাজটি তারাই শুধু ভালো জানেন। প্রশিক্ষিত পয়েন্টম্যানদের এ কাজ শিশুদের দ্বারা করা কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না। যারা শিশুদের দ্বারা এ কাজ করাচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, এসব শিশুর তো স্টেশনে প্রবেশ করতে পারার কথা নয়। তাদের যারা কাজে লাগাচ্ছেন সেই সিন্ডিকেটের সবাইকে শাস্তির আওতায় আনা হবে। এমন ভয়ানক কাজ আর করতে দেয়া হবে না।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার আমিনুল হক জুয়েল যুগান্তরকে জানান, কমলাপুর স্টেশন হয়ে প্রতিদিন ১৪২টি ট্রেন চলাচল করছে। এসব ট্রেনের ইঞ্জিন খোলা ও লাগানোর কাজে নির্ধারিত লোকবল রয়েছে। একজনের কাজ অন্যজন করার কোনো সুযোগ নেই। ঢাকা রেলওয়ে প্রকৌশলী বিভাগ সূত্রে জানা যায়, কমলাপুর স্টেশনে মাত্র আটজন পয়েন্টম্যান কাজ করেন। ডিউটি অনুযায়ী আটজনের মধ্যে তিনজন পয়েন্টম্যান ৮ ঘণ্টা করে কাজ করেন।

বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস পালিত : বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৮০টি দেশে দিবসটি যথাযথভাবে পালিত হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ‘শিশুশ্রম নয়, শিশুর জীবন হোক স্বপ্নময়’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে শুঁটকি শিল্পে শিশুশ্রম পরিস্থিতি উন্নয়নের ডাক নিয়ে ক্লাইম্ব প্রকল্পের আওতায় ইনসিডিন বাংলাদেশ ঢাকায় বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস পালিত হয়।

বুধবার সকাল ১০টায় ঢাকার কাওরান বাজারের কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরসংলগ্ন রাস্তায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব লেবার, উইনরক ইন্টারন্যাশনাল এবং ইনসিডিন বাংলাদেশ যৌথভাবে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। সভায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সাকিউন নাহার বেগম প্রধান অতিথি ছিলেন।

অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ন্যাশনাল চাইল্ড লেবার ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের কো-চেয়ার, মানবাধিকার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সালমা আলী। সভায় সভাপতিত্ব করেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের মহাপরিদর্শক (যুগ্ম সচিব) মো. জয়নাল আবেদীন।

মন্তব্য
Loading...