ভেজাল খাবার খেয়ে খাইয়ে আমাদের চিন্তা চেতনায় আচার আচরণে ক্ষয় ধরেছে

স্বার্থসংশ্লিস্টতার দেওয়ালে আটকা পড়ে থাকা আমরা অনেকেই যেখানে কথা বলতে পারিনা

163
gb
নজরুল ইসলাম|| জিব নিউজ২৪.কম ।।
গেল সপ্তাহে ঢাকার একটি অনলাইন পোর্টালের অনুজ নিউজ এডিটর আমাকে বললেন অনেক দিন হয় আপনি কিছু লেখেননি। জিজ্ঞেস করলেন আপনাদের রামাদান কেমন গেল ? বললাম আলহামদুলিল্লাহ, নিভেজাল স্বাস্থ্যসম্মত রকমারি মুখরোচক খাবার দাবার খেয়ে প্রায় ১৮ ঘন্টা খাবার বিরতি নিয়ে প্রবাসী বৃটিশ মুসলমান বাংলাদেশীরা উৎসবমুখর পরিবেশে রামাদান মাসকে উপভোগ করছেন। প্রাসঙ্গিক আলোচনায় আমাদের ডেইলি রুটিন কাজ ও কমিটমেন্ট লিস্ট শুনে অনুজ নিউজ এডিটর হাপ্ ছেড়ে বললেন, আপনারা প্রবাসে অনেক ব্যস্ত থাকেন। পরামর্শ দিলেন দেশের ভেজাল পণ্য ও অনিয়ম নিয়ে একটা কিছু লিখার চেষ্টা করলে ভাল হয়।
বাংলাদেশে ভেজাল বিরোধী অভিযান, ভেজালের পক্ষে ভেজলিদের মুখামুখি অবস্থান, আইন হাতে তুলে নেওয়া, নিজেদের ভেজালমুক্ত প্রমানে দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি তাদের বিদ্বেষ হতাশাব্যঞ্জক।
অদ্য সিলেটের মৌলভীবাজারে একটি শপ মলকে ৭০০ টাকার প্যান্ট ২৪০০ টাকা ফিক্সট প্রাইসে বিক্রি ,কয়েকটি শপকে দেশি পণ্যে বিদেশি স্টিকার বসিয়ে অস্বাভাবিক দামে বিক্রি, নিত্য পণ্যে ইচ্ছে মতো দাম বসিয়ে বিক্রি সহ নানা অভিযোগে বিভিন্ন মার্কেটে ভেজাল বিরোধী অভিযান চালান মৌলভীবাজার জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের ভ্রামম্যাণ আদালত।
কেন, ব্যাবসায়ীরদের এমন আচরন কারণ জানতে চাওয়ায় ভ্রামম্যাণ আদালত ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে স্বার্থসংশ্লিষ্টতায় বাধাগ্রস্ত ব্যাবসায়ীরা আইনকে হাতে তুলে নেন। আমার কাছে মনে হয়েছে ব্যাবসায়ীদের এহেন আচরণ অনভিপ্রেত। আমার কাছে প্রায়ই মনে হয় আমরা বড়ই উশৃঙ্খল জাতি এবং একটু পাগল প্রজাতিও, আইনকে হাতে তুলে নেই নিমিষেই। প্রায়ই মনে হয় ভেজাল খাবার খেয়ে এবং খাইয়ে আমাদের চিন্তা চেতনায় আচার আচরণে ক্ষয় ধরেছে। একটি বিষয় নিয়ে ২টি মিনিটি আমরা কথা বলতে পারিনা, মাথা গরম হয়ে যায়। একে অন্যকে ঠেলা ধাক্ষা মারতে আমরা নিন্মতম লজ্জাবোধ করছিনা।
মৌলভীবাজারের অনভিপ্রেত ঘটনায় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে আমার ফেইসবুক ফেন্ড ব্যবসায়ি রাজনীতিবিদ সিআইপি এম এম এ রহিম বলেছেন If this news is true then those dishonest business men should get punished for what they deceiving to the general public. Secondly, I strongly condemn those d ishonest business men who were involved in assaulting Law and enforcement officers. this is disgraceful for Moulvibazar District– স্বার্থসংশ্লিস্টতার দেওয়ালে আটকা পড়ে থাকা আমরা অনেকেই যেখানে কথা বলতে পারিনা সেই বিচারে ব্যাবসায়ী এম এ রহিম (সিআইপি) সাহেবের আত্ম লজ্জাবোধ প্রশংসনীয় ।
ভারতকে স্বাধীন করতে গান্ধীজি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। গান্ধীজি বডি বিল্ডার ছিলেন না , ছিলেন না সুঠাম দেহের অধিকারী, ছিলেন ভেজিটেরিয়ান। বলেছেন, মাংস আমাদের রক্তকে গরম করে ফেলে তাই আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারিনা। সঠিক সিদ্বান্ত নেয়ার জন্য একটি স্বাস্থ্য সম্মত খাবার তালিকা দরকার সেখানে মাংসও থাকতে থাকতে পারে। বাংলাদেশে গো মাংসের ভোজন রসিকরা মনে করেন মাংস-ই হল খাদ্য তালিকার প্রধান তাই তাদের রক্ত নিমিশেই গরম হয়ে যায়।
পাঠক, আজ একটু কথা বলতে চাই বাংলাদেশের ভেজাল পণ্য দ্রব্য সামগ্রী নিয়ে। দেশের সকল ভেজালিদের পক্ষে আমার এই আলোচনা যাবে না এর পরেও কথা বলতে হয় দায়বদ্ধতা থেকে। “দাঁত আছে কামড়াতে পারিনা এমন আচরন অনভিপ্রেত। প্রায়ই দিধাদন্দে পড়ি কেন আমরা স্বজ্ঞানে অন্যায় অনিয়ম ভেজালের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছি ? কেন আমাদের দ্বারা পরিকল্পিত ও সম্পাদিত অন্যায় অনিয়ম ভেজাল নিয়ে কর্তৃপক্ষ প্রশ্ন তুললেই আমরা নিজ স্বার্থসংশ্লিষ্টতায় অন্ধ হয়ে যাই ? যেমনটি মৌলভীবাজারে চোখে পড়ল।
পাঠক, এত ভেজালের মধ্যে particular কি নিয়ে লিখব খুঁজেই পাচ্ছি না। তাই সামগ্রিক ভেজাল ও সরকার কর্তৃক মোবাইল ভেজাল বিরোধী অভিযান নিয়ে একটু আলোচনা করতে চাই। আমার এই আলোচনায় সারাংশ অনেকেরই পছন্দ হবে না। তবে সৃস্ট আলোচনা যদি ভোক্তা ব্যাবসায়ীদের মধ্যে সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে একটু সহায়ক হয় তাহলে স্বার্থক হবে আমার অগোছালো আলোচনা। ভাবছি, একটা ব্যাঙ্গ হাসির গল্প দিয়েই শুরু করি যাতে করে শুরুতেই আমরা একটু হাঁসি ঠাট্টা করতে পারি, হাসির গল্পটি হলো-
নিজ ব্যাবসা প্রতিষ্টানেই জন্য সস্তায় পণ্য ক্রয়ের জন্য মখলিছ নামের এক ব্যাবসায়ী স্ত্রী সন্তান ব্যাবসা প্রতিষ্টান রেখে বাংলাদেশ থেকে চায়না (চীন) গিয়েছেন। দুই সপ্তাহ পার হয় তিনির কোন খবর নেই। স্ত্রী ফোন দিলেন তিনি রিসিভ করেননি। মখলিছ সাহেবের এক বন্দু ফোন দিতেই তিনি কথা বলেন। কেন, স্ত্রীর ফোন রিসিভ করেননি জানতে চাইলে মখলিছ বলেন, বন্দু আমি এক চাইনিজ সুন্দরীর প্রেমে পড়েছি। ব্যবসা বাণিজ্য স্ত্রী আমার আমার কাছে কিছুই না আমি তাকে বিয়ে করতে চাই। মকলিছের বন্দু মখলিছকে বুঝায়ে বললেন -এসব কি বলছো ! স্ত্রী ব্যবসা প্রতিষ্টান পিছনে রেখে ইহা কিভাবে সম্ভব! তুমি সব সময়ই ভেজাল পছন্দ করো এবং আমি মনে করি তুমি একটি জটিল সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। আমি তোমাকে বলছি চাইনিজ প্রিন্সেস বিয়ে না করাই হবে তোমার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত। মখলিছ সিদ্ধান্তে অটল থেকে চায়নাতে সেই চাইনিজ প্রিন্সেসকেই বিয়ে করলেন। ৬ মাস পরে মখলিছ তাঁহার বন্দুকে ফোন দিয়েই হাউ মাউ করে কেঁদে বললেন বন্ধু আমার চাইনিজ স্ত্রী গতকাল রাত্রে মারা দিয়েছেন ! মখলিছের বাংলাদেশী বন্ধু কোন মর্মবেদনা না জানিয়েই বললেন মখলিছ আমি আগেই তোমাকে বলেছি, “মেইড ইন চায়না বেশী দিন যায় না।
প্লাস্টিকের ডিম্ , রাবারের চাল এমন কোন পণ্য নেই যা চাইনিজ ব্যাবসা প্রতিষ্টান ভেজালের সংমিশ্রনে করতে পারেনা। বাংলাদেশে চাইনিজদের বিরার্ট বাজার। বাংলাদেশী ব্যাবসায়ী ও বাজার ইনফ্লুয়েন্স বাই চাইনিজ ফেইক প্রোডাক্ট।
পাঠক, আলোচ্য আলোচনায় ফিরছি। আপনাদের সাথে আলোচনার স্বার্থে ভেজাল পণ্য ও ভেজালীদের বিরোদ্ধে লিখতে গিয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনটি আমাকে একটু ব্রিফ স্টাডি করতে হয়েছে। আইনটি পড়ে বেশ কিছু জানতে পেরেছি যা পূর্বে জানা ছিল না। চেস্ট থাকবে সংক্ষিপ্ত ভাবে আপনাদের সাথে একটু আলোচনা করেই Social Awareness আর্টিকেলটি শেয করব। একটি উদাহার দিলেই বিযয়টি পরিস্কার হবে যেমন ধরেন-
আব্দুল একটি রেস্তোরাঁ থেকে খাবার ক্রয় করলেন  , সঙ্গে কোমল পানীয়। যে পানীয়টি আব্দুল ক্রয় করলেন তার দাম রাখা হয়েছে ৫৫ টাকা। অথচ রেস্তোরাঁর বাইরে এই কোমল পানীয়টির দাম ২৫ টাকা। আব্দুল কিছুক্ষণ দোকানির সঙ্গে যুক্তিতর্ক করলেন কিন্তু কোনো ফল হলো না  ৫৫  টাকা দিয়েই তাকে পানীয়টি কিনতে হল।
করিম একটি সুপারস্টোর থেকে পাঁচ কেজি ডাল   ক্রয় করলেন। কেনার পর দেখা গেল ডালের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। কিন্তু সুপারস্টোরের লোকেরা সেই জিনিস ফিরিয়ে নিল না বরং করিমের সঙ্গে খারাপ আচরণ করল। এই রকম ঘটনা আমাদের জীবনে প্রতিনিহিত ঘটেই চলছে। প্রতিদিনই আমরা যারা ক্রেতা বা ভোক্তা হয়রানির শিকার হচ্ছি।
অনেকেই বলেন বিদেশে এমন ঘটনা ঘটলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয় , বাংলাদেশে এসবের জন্য কোনো প্রতিকার নেই, কথাটি ঠিক না। বাংলাদেশে ক্রেতাদের জন্য ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ নামে একটি আইন আছে। আমরা অনেকেই এ ব্যাপারে সঠিক তথ্য জানি না। ভোক্তা অধিকার আইনটি ২০০৯ সালে আমাদের দেশে চালু হয়েছে। এই আইনটির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে-
১. ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও উন্নয়ন
২. ভোক্তা অধিকারবিরোধী কার্য প্রতিরোধ
৩.ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনজনিত অভিযোগ নিষ্পত্তি
৪. নিরাপদ পণ্য বা সেবা পাওয়ার ব্যবস্থা
৫. কোনো পণ্য বা সেবা ব্যবহারে ক্ষতিগ্রস্ত ভোক্তাকে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা
৬. পণ্য বা সেবা ক্রয়ে প্রতারণা রোধ
৭. ভোক্তা অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে গণসচেতনতা সৃষ্টি।
উক্ত আইনে ভোক্তা যে সব ব্যাপারে প্রতিকার চাইতে পারেন-
১. নির্ধারিত মূল্য অপেক্ষা অধিক মূল্যে কোনো পণ্য, ওষুধ বা সেবা বিক্রয় বা বিক্রয়ের প্রস্তাব করলে
২. জেনেশুনে ভেজাল মিশ্রিত পণ্য বা ওষুধ বিক্রি বা বিক্রির প্রস্তাব করা হলে
৩. স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিকারক দ্রব্য মিশ্রিত কোনো খাদ্য পণ্য বিক্রি বা বিক্রির প্রস্তাব করলে
৪. মিথ্যা বিজ্ঞাপন দ্বারা ক্রেতা সাধারণকে প্রতারিত করা হলে
৫. ওজনে কারচুপি, বাটখারা বা ওজন পরিমাপক যন্ত্রে কারচুপি, পরিমাপে কারচুপি, দৈর্ঘ্য পরিমাপক ফিতা বা অন্য কিছুতে কারচুপি করা হলে
৬. কোনো নকল পণ্য বা ওষুধ প্রস্তুত বা উৎপাদন করা হলে
৭. মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য বা ওষুধ বিক্রি বা বিক্রির প্রস্তাব করলে
৮. নিষিদ্ধঘোষিত কোনো কাজ করা যাতে সেবাগ্রহীতার জীবন বা নিরাপত্তা বিপন্ন হতে পারে।
৯. অবৈধ প্রক্রিয়ায় পণ্য উৎপাদন বা প্রক্রিয়াকরণ করা।
১০. অবহেলা, দায়িত্বহীনতা দ্বারা সেবাগ্রহীতার অর্থ বা স্বাস্থ্যহানি ঘটানো।
১১. কোনো পণ্য মোড়কাবদ্ধভাবে বিক্রয় করার এবং মোড়কের গায়ে পণ্যের উপাদান, সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রিমূল্য, মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ, ইত্যাদি লিপিবদ্ধ করার বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করা।
পাঠক, কোর্ট বা থানায় মামলা করলে অর্থ খরচ হয়। কিন্তু ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে মামলা করে অর্থ পাওয়া যায় এটা আমরা কজন-ই বা জানি? ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনটি সে রকমই একটি আইন যেখানে কোনো অসাধু ব্যবসায়ী ভোক্তাকে ঠকালে শুধু শাস্তিই পাবেন না, বরং ভোক্তাও অভিযোগ করে আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। রাজধানী থেকে শুরু করে দেশের আনাচে-কানাচে প্রতিনিয়ত লাখ লাখ ভোক্তা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তাদের ঠকানো হচ্ছে বিভিন্ন উপায়ে। আইন থাকলেও সচেতনতার অভাবে ভোক্তা কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না।
উক্ত আইন অনুযায়ী কোনো উৎপাদনকারী সরবরাহকারী বিক্রেতা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে কোনো পণ্য বা ওষুধ বিক্রি, ওজনে কারচুপি, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি, পণ্যের মোড়কে খুচরা মূল্য ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ উল্লেখ না করলে, আইনের বাধ্যবাধকতাt অমান্য করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পণ্যের মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করলে যে কোনো ক্রেতা ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯’ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন।
এ আইনের আওতায় একজন ভোক্তা সারা বছরই সহায়তা পাওয়ার অধিকার রাখেন, শুধু রামাযান মাসে নয়। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে অভিযোগকারী ভোক্তাকে তার ২৫ শতাংশ ক্ষতিপূরণ বাবদ দেওয়া হয়। অভিযোগ করে ক্ষতিপূরণ পাওয়া জনৈক ভোক্তার অভিজ্ঞতা পড়েছি তিনি বলেন- আমি হাতিরপুলে শর্মা হাউস থেকে একটা পেপসি ক্রয় করি। যার দাম (এমআরপি) ১৫ টাকা। ওই প্রতিষ্ঠান আমার কাছ থেকে ২৫ টাকা দাম রেখেছিল। আমি তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর অভিযোগ করি। অধিদপ্তর তাদের ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে, যার ২৫ শতাংশ (পাঁচ হাজার টাকা) আমি পেয়েছি।
শওকত আলী পলাশ নামে এক অভিযোগকারী বলেন, পণ্যের মূল্য বেশি রাখার বিষয়ে আমি একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছি। দুই সপ্তাহের মধ্যে আমাকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে। আমি উপস্থিত হওয়ার পরে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পরে সেখান থেকে আমাকে ২৫ ভাগ টাকা ক্ষতিপূরণও দেয়া হয়।
পাঠক, আমাদের দেশে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে আমাদের মানুষের মধ্যে নীতি নৈতিকতা ও সততার সংকট। আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ উদ্ভেগ প্রকাশ করেছেন এত অসৎ জাতি নিয়ে বেশি দূর এগোনো সম্ভব নয়। তিনি বলেন আজ নৈতিকতা কোন পর্যায়ে চলে গেছে বালিশ কিনতেও দুর্নীতির কথা আসে, একটি সরকারি দফতরের ক্রয় নিয়ে দুর্নীতির কথা আসে, ইলেকট্রনিকস জিনিস যার দাম ৭০০ থেকে দেড় হাজার টাকা অতঃপর তা উত্তোলনের জন্য খরচ ২ হাজার! কোন পর্যায়ে গেলে মানুষ এমন কাজ করতে পারে। এত অসৎ জাতি নিয়ে বেশি দূর এগোনো সম্ভব নয়। রাজনীতিবিদদের এমন উদ্বেগ আমাদের হতাশায় ফেলে দেয়।
প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার বদলৌতে আজ কাল দেশের অধিকাংশ মানুষই স্বাস্থ্যকর খাবার, নিরাপদ খাদ্য সম্পর্কে অনেক বেশী সজাগ ও সচেতন হচ্ছে। তবে খাদ্যে ভেজাল ও অসাধু ব্যবসায়ীরা যেভাবে সংগঠিত ও শক্তিশালী সিন্ডিকেট সেভাবে ভোক্তারা সংগঠিত নয় যার কারনে এ সমস্ত ব্যবসায়ীরা মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে। খাদ্যে ভেজালের কারনে অকালে ক্যান্সার, কিডনী বিকল, স্থুল স্বাস্থ্য, হ্দৃরোগ, মুত্রনালি ও পাকস্থলীর পীড়াসহ নানা রকমের মানব ঘাতক রোগে পুরো জাতি যেন রোগাক্রান্ত। আর জাঙ্ক ফুডের নামে নানা রকম অস্বাস্থ্যকর ফাস্ট ফুড বাজারে মেলা যার কারনে জিম্মি হয়ে পড়েছে আমাদের স্কুল পড়ুয়া তরুন তরুণীরা। আমি নিজে কিছু দিন পূর্বে বাংলাদেশে ছিলাম। একটি ফাস্ট ফুড শপে আমার মেয়ের জন্য চিকেন বার্গার নিলাম, আমার মেয়ে মুখে দিয়েই আর খেতে চায়নি। বার্গার শপের ভদ্রলোককে সে জিজ্ঞেস করছে ” ডু ইউ হেভ এ লন্ডনি বার্গার?
আমরা খাদ্যে ভেজাল দিচ্ছি, মাছে ফরমালিন দিচ্ছি, একে অপরকে ঠকাচ্ছি, সামগ্রিক ভাবে কিন্তু আমরা সবাই ঠকছি এসব হচ্ছে আমাদের নীতিহীনতা , অসততা, অনৈতিক মানসিকতা। পাঠক সমাজে সকল স্তরে মানুষের মধ্যে যে অনৈতিকতা তা আজ দৃশ্যমান। এত অসৎ মনোবৃত্তি নিয়ে একটা দেশ খুব বেশি দূর এগোতে পারে না। সচেতন নাগরিক হিসাবে এর স্থায়ী সমাধানে আমাদের সকলকে কাজ করতে হবে সমন্বিত ভাবে।
পাঠক, ইতিমধ্যে আমি আপনাদের বিরক্তির কারন হয়ে দাড়িয়েছি। আপনাদের কয়েকটি প্রশ্ন করতে চাই,
প্রশ্ন: ৭০০ টাকার প্যান্ট ২৪০০ টাকা বিক্রয়, কারণ জানতে চাওয়ায় ম্যাজিস্ট্রেটকে পেটালেন ব্যাবসায়ীরা! আমরা ভোক্তারা কি সাময়িক সময়ের জন্য উক্ত প্রতিস্টানে শপিং বয়কট করতে পেরেছি ?
প্রশ্ন: আড়ংয়ের ১৪০ টাকার চাদর বিক্রি হচ্ছে ১২০০ টাকা আমরা কি আড়ংগে শপিং বয়কট করতে পেরেছি?
প্রশ্ন: প্রাণের দুধে জীবন্ত মাছ, তরল দুধে নদীর পানি মিশিয়ে বিক্রি হচ্ছে যা প্রমান সহ সামাজিক মাধ্যমে ভিডি ভাইরাল হয়েছে ,আমরা কি প্রাণের তরল দুধ বয়কট করেছি ?
প্রশ্ন:  বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মিষ্টির মধ্যে তেলাপোকার চাষ, মিষ্টির উপর তেলাপোকা সাঁতার কেটে  মিষ্টির শিরার মধ্যেই ডুবে নিহত ,আমরা কি ওই ব্রান্ডের মিষ্টিকে বয়কট করেছি ?
প্রশ্ন: একটি রেস্টরেন্টে শিয়ালের মাংসকে ছাগলের মাংস বলে ভোজন রসিকদের খায়াচ্ছে, আমরা ভোজন রসিকরা কি শিয়ালের মাংস খাওয়ার পরও এই রেস্টরেন্টে খাবার বয়কট করতে পেরেছি ?
প্রশ্ন:  বিএসটি আই নিত্য প্রয়োজনীয় ৫২টি পণ্য ক্রয়ে ভোক্তাদের বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন, আমরা কি সেই সব পন্য বয়কট করতে পেরেছি ?
ধ্রব সত্য আমরা ভোক্তারা এখনো বয়কট করিনি, করতে পারব কি না আল্লাহ -ই ভাল জানেন। আমার বোধে আসে না আমরা কেন জেনে শুনে বিয খেতে চাই? আমরা ভোক্তারা এখনো সচেতন হতে পারি নাই। আমরা সচেতন হলেই ব্যবসায়ীরা আমাদের সাথে প্রতারনা করতে পারত না। আমরা তাদের ভেজাল পন্য ক্রয়ে বিরত থাকলে তারা নিজেরাই সঠিক গুনগত মান সম্পন্য পন্য সরবরাহ করতো।  ৭০০ টাকার প্যান্ট ২৪০০ টাকায় যে প্রতিস্টান বিক্রি করেছে অন্তত ২ মাস তাদের কাছ থেকে পণ্য ক্রয়ে নিজে সহ আত্বীয় স্বজন্দের সংযত রাখেন, দেখবেন তাদের ব্যবসায়ে কিভাবে মাছি বসে। বঙ্গবন্ধু তার ৭ মার্চের ভাষণে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে ভাতে মারা ও পানিতে মারার কথা বলেছিলেন। আমরা একটু পলিসি করলেই ভেজালিদের ভাতে পানিতে মারতে পারতাম। আমাদের মধ্যে সেই ইউনিটি কি আছে?
সামাজিক মাধ্যমে চৌধুরী শাহ নামের আমার ফেইসবুক ফ্রেন্ড উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন- ৯০% মুসলিমের প্রিয় বাংলাদেশে খাবারে ১০০% ভেজাল ,এরা নামাজ পড়ে, রোজা রাখে, হজ্জ করে, সুদ খায়, ঘুষ খায়, খাবারে বিষও মিশায়। এখানে তিনি আমাদের নীতি নৈতিকতায় যে অধঃপতন হয়েছে তার-ই ইঙ্গিত করেছেন।
পাঠক শেয করতে হবে, আমি বিস্বাস করি পন্য বর্জন কোন স্থায়ি সমাধান নহে, তবে প্রাথমিক ভাবে আমরা যদি ভেজাল পন্যের বিরোদ্ধে রুখে না দাড়াতে পারি তাহলে অরাজকতা বৃদ্ধি পাবে লাগামহীম ভাবে। আমি মনে করি এই সব জঞ্জাল সমাধানে পণ্য বা সেবার মূল্য নির্ধারণের নীতি প্রণয়ন প্রয়োগ ও মনিটরি সময়ের দাবী। নিরাপদ নিভেজাল খাদ্য প্রস্নে সমাজের সবাই মিলে ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। ভোক্তারা সচেতন হলে ভেজালিরা নিস্তেজ হয়ে যাবে ,অসাধু ব্যবসায়ীদের পাকড়াও করতে আইনের কিছু দুর্বলতার ও সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করাসহ আইনটিকে আরো যুগোপযোগী করতে পারলেই ভেজাল নিয়ন্ত্রণে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এ জন্য ভোক্তাকেই প্রথম পদক্ষেপ নিতে হবে।
লেখক: নজরুল ইসলাম,
ফ্রিল্যান্স জার্নালিস্ট, ওয়ার্কিং ফর ন্যাশনাল হেল্থ সার্ভিস লন্ডন , মেম্বার, দি ন্যাশনাল অটিষ্টিক সোসাইটি ইউনাটেড কিংডম
gb
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More