সাংবাদিকদের সাথে মোহাম্মদ মনির হোসেনের মতবিনিময়   সিলেট ২ আসনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা  

1,194
gb

 

লন্ডন, ৯ অক্টোবর ||

দক্ষিণ-সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ একাংশ নিয়ে গঠিত সিলেট-২ আসনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিশিষ্ট আওয়ামী রাজনীতিবিদ মোহাম্মদ মনির হোসেন। গত ১২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার  ব্রিক লেইনের স্বাদ গ্রিল রেস্টুরেন্টে স্থানীয় বাংলা গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে এক মতবিনিময়কালে তিনি এ ঘোষণা দেন। তাঁর জন্মস্থান ও নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন রূপকল্প বাস্তবায়নে সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রাখতে চান। যুক্তরাজ্যে বসবাসরত সিলেট-২ আসেনের বাসিন্দারা ওই মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন।  

মনির হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে উন্নয়নের যে রোল মডেল দাঁড় করিয়েছেন, সিলেট-২ আসনের মানুষ দুর্বল নেতৃত্বের কারণে তাঁর সুফল প্রত্যাশিতভাবে পাচ্ছেন না। সিলেট-২ আসনের মানুষের কাঙ্খিত উন্নয় অগ্রযাত্র নিশ্চিত করতে তিনি আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রার্থী হতে লড়বেন। এ কাজে তিনি নির্বাচনী এলাকার সংশ্লিষ্ট সকলের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন। প্রসঙ্গত, মোহাম্মদ মনির আহমদ যুক্তরাজ্যে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক  মোহাম্মদ সমুজ মিয়ার ছেলে।  

মতবিনিময় সভার শুরুতে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সাবেক স্পীকার কাউন্সিলার খালিস উদ্দিন বলেন, মোহাম্মদ  মনির আহমদ আজীবন সমাজকর্মে যুক্ত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত থেকে বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলা বিনির্মানে ছিলেন সক্রিয়। তাঁর মত সত ও কর্মঠ ব্যক্তি জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়ন আরও তরান্বিত হবে বলে তিনি মনে করেন।

মনির আহমদ বলেন, তিনি সব সময় মানুষের কল্যাণে কাজ করার আন্তরিক চেষ্টা করেছেন। ছোটবেলা থেকে লেখাপড়ার পাশাপাশি সমাজসেবা ও রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থেকেছেন। ছিলেন মদন মোহন কলেজ এবং সিলেট ল কলেজের নির্বাচিত ভিপি। যুক্তরাজ্যে আসার পরও  বিভিন্ন সমাজ কর্মের পাশাপাশি সক্রিয় ছিলেন রাজনীতিতে। ছিলেন বাংলাদেশ টিসার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি, গ্রেটার সিলেট কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সভাপতি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছেন।  বর্তমানে তিনি ডেভেলাপমেন্ট কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠাতা কেন্দ্রীয় সভাপতি, বঙ্গবন্ধু লেখক সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি, সর্ব ইউরোপিয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের সহ সভাপতি ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য সহ বিভিন্ন সংগঠনের দায়িত্ব পালন করছেন।   

তিনি বলেন,  স্বাধীনতা বিরোধী চক্র বাংলাদেশকে যখন জঙ্গিবাদ আর উগ্রবাদের বিচরণ ভূমিতে পরিণত করছিল, দেশের মানুষের স্বপ্ন-আশা যখন নিশ্বেষ হতে বসেছিল, ঠিক তখনই বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কণ্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা সকল বাধা অতিক্রম করে বাংলার মানুষের মুক্তির দিশারী হিসেবে হাজির হন। তিনি আওয়ামী লীগকে আবার সংগঠিত করে বাংলাদেশের মানুষের জীবন মান উন্নয়নে মুক্তি যুদ্ধের চেতনা ফিরিয়ে আনার রাজনীতিতে নেতৃত্ব দেন। যার ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা এবং প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে জাতির জনকের দৌহিত্র এবং প্রধানমন্ত্রীর একমাত্র ছেলে কম্পিউটার বিজ্ঞানী সজীব ওয়াজেদ জয়ের নেতৃত্বের প্রসংশা করেন।    একটি বাড়ী একটি খামার, নারীর ক্ষমতায়ন, শিশু মৃত্যুর হার কমানো, নারী শিক্ষা, বাল্য বিবাহ বন্ধ করা, দারিদ্র বিমোচন, স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়ন সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন প্রকল্পের বৈপ্লবিক সফলতার কথা উল্লেখ করে মনির আহমদ বলেন, শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশ আজ সারা বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। চলমান রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রসংশা করে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের মানবিক আশ্রয় প্রদান করে জননেত্রী শেখ হাসিনা মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এমন উদারতার জন্য বৈশ্বিক গণমাধ্যমগুলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মাদার অব হিউম্যানিটি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যৌগ্য নেতৃত্বের ফলে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে একটি উন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার রূপকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যাতে বাংলাদেশ একটি উন্নত দেশের মর্যাদা অর্জন করতে পারে- সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনায় তিনি সকলের কাছে দোয়া চান।  

মনির হসেন বলেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা ও দেশরত্ন শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজে সহযোগী হওয়ার লক্ষ্যে তিনি বহুদিন যাবত দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে দেশে ও প্রবাসে কাজ করে যাচ্ছেন। ভবিষ্যতে যাতে আরও ব্যাপকভাবে কাজ করার সুযোগ পান- সে লক্ষ্যে আগামী নির্বাচনে দক্ষিণ-সুরমা ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ একাংশের প্রতিনিধি হওয়ার জন্য নির্বাচন করতে চান তিনি। বলেন, অত্র এলাকার প্রতিনিধি হিসেবে দেশ ও জাতির কল্যাণে জননেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অংশিদার হতে আমি সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।  

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন লন্ডন বাংলা গ্রেসক্লাবের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ নাহাস পাশা, কাউন্সিলার হেলাল আববাস, আব্দুস সাত্তার, ফরহাদ চৌধুরী, বাতিরুল হক সর্দার, মানবাধিকার কর্মী আনসার আহমদ উল্লাহ, জনমতের ডাইরেক্টর ও এসিসটেন্ট এডিটর মুসলেহ উদ্দিন আহমদ, সাংবাদিক কামাল মেহেদি, শাহ বেলাল আহমদ, শাহ ইউসুফ, হেফাজুল করিম রাকিব, আহাদ চৌধুরী বাবু, মোহাম্মদ কাওসার ও রেজাউল করিম মৃধাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।