Bangla Newspaper

পতœীতলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রকল্পের টাকা হরিলুটের অভিযোগ

0 20

গোলাপ খন্দকার সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর পতœীতলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহের জন্য বরাদ্দকৃত স্লিপ প্রকল্পের টাকা হরিলুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিক্ষার গুনগত মানোন্নয়ন ও বিদ্যালয়ে মানসম্মত শিক্ষা উপযোগি পরিবেশ গঠনের লক্ষ্যে সহায়তা হিসাবে সরকার স্লিপ প্রকল্পের অধীনে উপজেলার প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪০হাজার টাকা করে বরাদ্দ প্রদান করলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
সরকার নির্দেশিত নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অধিকাংশ বিদ্যালয়েই প্রধান শিক্ষকরা লোক দেখানো নামমাত্র কাজ দেখিয়ে পুরো টাকা আতœসাতের অভিযোগ উঠেছে।
এমনকি প্রধান শিক্ষকরা এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষকদের সাথেও পরামর্শ করার প্রয়োজন বোধ করেননি। নীতিমালা অনুযায়ী স্লিপ প্রকল্পের টাকা বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের মাধ্যমে ব্যয়ের কথা থাকলেও অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের তা জানা নেই।
আর এসব অনিয়মকে যায়েজ করার জন্য প্রধান শিক্ষকরা শিক্ষা কর্মকর্তাকে কিছ ুঅর্থের লেনদেন পর্যন্ত কমিশন প্রদান করতে হয়েছে বলে ভুক্তভোগি কয়েকজন প্রধান শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান।

জানা গেছে, ২০১৪ সালের ১লা জানুয়ারী দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারীকরণের পর পরই স্কুল লেভেল ইমপ্রুফমেন্ট প্লান (স্লিপ) নামে একটি প্রকল্প চালু হয়। ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের জন্য পতœীতলা উপজেলার ১৩৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও বিদ্যালয়ের শিক্ষা উপযোগি পরিবেশ গঠনের লক্ষ্যে ৪০হাজার টাকা করে বরাদ্দ প্রদান করা হয়।
এছাড়া প্রাক-প্রাথমিকের শ্রেণীকক্ষ সজ্জিতকরণের জন্য প্রতিটি বিদ্যালয়কে আরো ৫হাজার টাকা করে বরাদ্দ প্রদান করা হয়। নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণপূর্বক নির্ধারিত কাজের জন্য এ সকল অর্থ বরাদ্দ করা হলেও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রধান শিক্ষকরা এ সকল নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছেন না। সরেজমিনে উপজেলার পাটুল, ঘোলাদিঘী, নাগরগোলা, কৈবত্যখন্ড, ওয়ারীখন্ডা, পদ্মপুকুর, আড়াইল, কুন্দন, নেপালপুর, মেহেরুন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আরো বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে অধিকাংশ বিদ্যালয়েই স্লিপ প্রকল্পের কোন কাজ হয়নি। কয়েকটি বিদ্যালয় নামমাত্র কাজ দেখিয়ে প্রকল্পের সমুদয় টাকা আতœসাৎ করা হয়েছে।

এদিকে শিক্ষা অফিসে কমিশন না দিয়ে নীতিমালা অনুযায়ী কাজ করায় হাসানবেগপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেকেন্দার আলীকে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কর্ত্তৃক শোকজ করার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের মাঝে চাঁপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, প্রধান শিক্ষকদের কাছ থেকে কমিশন গ্রহণের অভিযোগ ভিত্তিহীন। তিনি কোন শিক্ষকের নিকট থেকে কমিশন গ্রহণ করেননি। শিক্ষা অফিসের কোন কর্মকর্তা ও কর্মচারী যদি এ ধরণের কাজ করে থাকেন তবে অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

Comments
Loading...