Bangla Newspaper

পলাশবাড়ীতে আমন ক্ষেতে ব্লাষ্টর রোগের প্রাদুর্ভাব

0 22

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল, গাইবান্ধা ঃ একদিকে বন্যায় কৃষকদের ফসলহানী। অপরদিকে চাল ও মরিচসহ দ্রব্যমূল্য উর্ধগতি। সেই সাথে যোগ হয়েছে কৃষকদের আর্থিক সংকট। এরপরই সম্প্রতি দেখা দিয়েছে বন্যার অবশিষ্ঠ আমন ক্ষেতে নানা রোগের প্রাদুর্ভাব। কৃষকরা ঘুরে দাড়ানোর চেষ্টা করলেও তা কোনক্রমেই ধকল সামলাতে পারছেন না। নানান দুর্ভোগে পড়ছেন কৃষকরা। যেন শুরু হয়েছে মরার উপর খাঁড়ার ঘা। সবমিলে নিদ্রাহীন রাত কাটাচ্ছে কৃষক মহল।
চলতি আমন মওসুমে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার প্রত্যান্ত অঞ্চলের মাঠপর্যায়ে এবার আমন ধান ক্ষেতে নেকব্লাস্ট, শীষ ব্লাস্ট ও বিএলবি (পাতা পোড়া) রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ফলে কৃষকদের কাঙ্ক্ষিত ফলন না হওয়ায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন তারা।
কৃষকরা জানান, রোপিত আমন ধানের গাছের পাতা সাদা হয়ে পঁচন ধরছে। তাদের অভিযোগ, কৃষি বিভাগের পরামর্শে সংক্রমিত জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ করেও কোনো কাজ হচ্ছে না। এক জায়গায় এ রোগ দেখা দিলে মুহূর্তেই তা ছড়িয়ে পড়ছে পুরো জমিতে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন এ উপজেলার দুই লাখেরও বেশি কৃষক।
রোববার সরজমিনে পলাশবাড়ী উপজেলার বুজরুক টেংরা ,শিমুলতলা গ্রামের আমন চাষি আব্দুল আলী ও লিচন মন্ডল বলেন, আমার ৫০ শতক জমিতে হঠাৎই দেখি ধানের গাছের পাতা ও শীষ সাদা হয়ে যাচ্ছে। পরে কৃষি বিভাগের লোক এসে ওষুধ লিখে দিলে সে মোতাবেক স্প্রে করি। কিন্তু পরের দিন এসে দেখি পুরো জমির ধানের শীষ সাদা হয়ে গেছে। একই কথা জানিয়েছেন, বিভিন্ন গ্রামের আরো বেশ কয়েকজন কৃষক। তাদের অভিযোগ, কৃষি বিভাগের কোনো পরামর্শেই কাজ হচ্ছে না। ক্ষেতের পর ক্ষেত সাদা হয়ে গেছে। এতে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন কৃষক মহল।
কৃষক জলিল উদ্দিন বলেন, আমার কোনো আবাদি জমি না থাকায় আমি ৬০ শতক জমি বর্গা নিয়ে আমন ধান চাষ করেছি। ৪০ মণ ধান ঘরে তোলার আশাবাদে বিভিন্ন এনজিও সংস্থা থেকে লোন নিয়ে ধান চাষাবাদ করি। এমতাবস্থায় ওই ক্ষেতে সাদা পাতা ও শীষ বের হয়েছে। বর্তমানে জমি থেকে ১০ মণ ধান অর্জন করাও সম্ভবনা নেই। বিশেষ করে বি-আর-১১ জাতের ধানে এ রোগে আক্রান্ত বলে তিনি জানান।

Comments
Loading...