পহেলা বৈশাখের সংষ্কৃতি কি পান্তা ইলিশ

258
gb

তাজুল ইসলাম বিশেষ প্রতিনিধি ||

সংষ্কৃতির এই বিকৃতির মধ্যে এক সাধারণ বিকৃতি হলো গরীবের কষ্ট এবং সেই মানুষের অভ্যাস নিয়ে খেলা করা। আমরা যারা গ্রামে বসবাস করি আমরা জানি পান্তা গ্রাম বাংলার গরীব মানুষের এক সাধারণ খাবার ।বেশ কতগুলো কারণে রাতে রান্না করা ভাতে পানি দিয়ে সকালে খাওয়া হয় ।সেটা কোন আনন্দের খাবার নয় ।এখানকার উচ্চবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত যেন বাঙালী নয়, এ যেন শেকড় উপড়ে গিয়ে পতিত হওয়া। অর্থনৈতিক দুর্বৃত্তায়নে গঠিত ধার করা সংষ্কৃতির চুইয়ে পড়া অংশের ধারকরা এই পান্তা ইলিশের সংষ্কৃতিটা এমনভাবে পালন করছেন যেন পান্তা বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে অথবা এটা একটা মস্তবড় ঐতিহ্য ছিল! ঐতিহ্যের চর্চা করতে গেলে তার মধ্যে সত্যতা এবং সততা থাকতে হয় তবে এর মধ্যে তার কিছুই নেই। গ্রামের সাধারণ মানুষের জনজীবনে পান্তা ভাত ছিল ঠেকায় পড়ে খাওয়া খাদ্যের নাম।এই খাবার দিয়ে কখনোই অতিথী আপ্যায়ন চলেনি।এই খাবারে তরকারির প্রয়োজন হয় না এবং পরিমাণে বেশি হয় তাই গরীব মানুষের খাবার হিসেবে পান্তা বরাবরই ছিল এবং এখনও আছে। সাংষ্কৃতিকভাবে বিচ্ছিন্ন এই বাংলিশ সংষ্কৃতির মাঝে হঠাৎ বাঙালিয়ানা জাগ্রত হয়েই বিকৃত তাড়না সৃষ্টি করে। স্মৃতিভ্রষ্ট এবং মতলববাজ না হলে ওই সংষ্কৃতিকে বাঙালীর ঐতিহ্য হিসেবে কখনোই উদযাপন করা যায় না।সংস্কৃতির এই বিকৃতিকে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ইলিশের বাজার থাকে অস্থির যার জন্য সেখানে গ্রামের গরীব সাধারণের প্রবেশের কোন ক্ষমতা থাকে না ।বিকৃত এই চর্চার ফলে গরীব মানুষরা ইলিশের স্বাদ ভুলতে বসেছে ।বর্ষবরনে পান্তার সাথে ইলিশ ভাজা খাওয়ার আয়োজন করার অর্থ হলো অভাব অনটনে আটকে থাকা গরীব মানুষের কষ্টের খাবার এবং সেই সংখ্যাগরিষ্ট গরীব মানুষের সাথে তামাশা করা।

gb

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More