সেই সিনেটরের বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে অস্ট্রেলিয়ান রাষ্ট্রদূতকে তলব

51

অভিবাসী মুসলমানদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যকারী অস্ট্রেলিয়ার সিনেটর ফ্রেজার অ্যানিংয়ের বক্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। বিষয়টির প্রতিবাদ জানাতে দেশটিতে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে ডন জানায়, ইন্দোনেশিয়ার নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ান রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে ডেকে অস্ট্রেলিয়ার সিনেটর ফ্রেজার অ্যানিংয়ের বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো এল পি মারসুদি টুইটবার্তায় বলেন, অস্ট্রেলিয়ান রাষ্ট্রদূত আমাদের জানিয়েছেন ফ্রেজার অ্যানিংয়ের বক্তব্য একান্তই তার ব্যক্তিগত। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী, সিনেটের কোনো সদস্য এবং সাধারণ জনগণ সবাই তার বক্তব্যের বিরোধিতা করেছেন।

শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে জুমার নামাজের সময় অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত ডানপন্থী শেতাঙ্গ সন্ত্রাসী ব্রেন্টন ট্যারেন্টের গুলিতে ৫০ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন অন্তত ৪৮ জন। নৃশংস এ হামলার কারণ হিসেবে দেশটির ইমিগ্রেন্টকে দায়ী করেছেন অস্ট্রেলিয়ার সিনেটর ফ্রেসার অ্যানিং।

নামাজরত অবস্থায় মুসল্লিদের ওপর শেতাঙ্গ বন্দুকধারীর চালানো স্মরণকালের ইতিহাসে বর্বরোচিত এ হামলাকে সন্ত্রাসী ঘটনার পরিবর্তে এটিকে ‘সহিংস সতর্কতা’ বলে বিশ্বজুড়ে সমালোচিত হয়েছেন তিনি। এ রক্তপাতের কারণ হিসেবে অ্যানিং বলেন, নিউজিল্যান্ডের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা মুসলিম ধর্মান্ধদের অনুমোদন দিয়েছে।

আজ নিউজিল্যান্ডের সড়ক রক্তে রঞ্জিত হওয়ার মূল কারণ তাদের অভিবাসন নীতি। যে নীতি মুসলিম ধর্মান্ধদের আশ্রয় প্রার্থনা করতে প্রথম পছন্দের দেশ হিসেবে নিউজিল্যান্ডকে বেছে নেওয়ার অনুমতি দেয়।

অ্যানিংয়ের এমন মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন টুইটারে বলেন, তার এ ধরনের বক্তব্য ন্যক্কারজনক। এ ধরনের মতামতের অস্ট্রেলিয়াতে কোনো স্থান নেই। এটা অস্ট্রেলীয় সংসদ। নিজের মন্তব্যের জন্য তার লজ্জিত হওয়া উচিত। আমার সরকার কোনোভাবেই এর সঙ্গে একমত নয়।

শুক্রবারের বিবৃতির জন্য অ্যানিংয়ের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়া সরকার পার্লামেন্টে তিরস্কার প্রস্তাব তুলবে বলেও জানান তিনি।

মন্তব্য
Loading...