বেঞ্চে বসা থেকে বিদায়ের ঘোষণা, রোনালদোর ৪০ দিনের নাটকীয় অধ্যায়

একটি ম্যাচে পুরো সময় বেঞ্চে বসে থাকা, কোচের সঙ্গে মনোমালিন্য, জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়া। এরপর কোচের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ, ফুটবল ফেডারেশনের শাস্তি আর সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর ঘোষণা।

 

 

মাত্র ৪০ দিনের ব্যবধানে এমনই নাটকীয় এক অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে গেলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। পর্তুগালের জার্সিতে ২৩ বছরের পথচলার ইতি টানলেন ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার। 

কিভাবে ঘটল সবকিছু? একনজরে দেখে নিন ঘটনাক্রম—

২৭ সেপ্টেম্বর উয়েফা নেশন্স লিগে নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলে জয় পায় পর্তুগাল। পুরো ম্যাচ বেঞ্চে বসে থাকেন রোনালদো।

তার দাবি, কোচ জেসুস তাকে দ্বিতীয়ার্ধে ৩০ মিনিট খেলানোর কথা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই কথা রাখেননি।

 

২৯ সেপ্টেম্বর কোচ জর্জ জেসুস, রোনালদো ও পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েন্সার মধ্যে বৈঠক হয়। দ্বন্দ্ব মেটানোর চেষ্টা করা হলেও সমাধান আসেনি।

 

৩০ সেপ্টেম্বর ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে জেসুস জানান, একাদশে থাকছেন না রোনালদো। এরপরই জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান পর্তুগিজ অধিনায়ক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন, ‘কেন জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে এসেছি, সেই সত্য যথাসময়ে পর্তুগালের মানুষকে জানাব।’

৫ অক্টোবর জেসুস বলেন, ‘সে (রোনালদো) যদি চায়, তাহলে জাতীয় দলে ফিরতে পারে। আমরা পরবর্তী দল ঘোষণার আগে আলোচনা করতে পারি।

সিদ্ধান্তটা তাকেই নিতে হবে।’

 

৬ অক্টোবর দীর্ঘ বিবৃতিতে জেসুসের বিরুদ্ধে দুবার কথা না রাখার অভিযোগ আনেন রোনালদো। তার ভাষায়, ‘কোচ আমার কাছে দেওয়া কথা ভঙ্গ করেছেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘এটি ছিল দ্বিতীয়বার, যখন তিনি তার কথা রাখেননি।’ একই সঙ্গে নিজের আচরণের জন্য সতীর্থ ও সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চান। 

৯ অক্টোবর রোনালদোর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দেয় পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন।

১৯ অক্টোবর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা ও ২৫৫ ইউরো (৩৫ হাজার টাকা) জরিমানা করা হয় তাকে। তবে শাস্তির মেয়াদ আগেই শুরু হওয়ায় পর্তুগালের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে খেলার সুযোগ থাকে তার।

৫ নভেম্বর পর্তুগাল জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা ৪১ বছর বয়সী রোনালদোর। পর্তুগালের জার্সিতে আর দেখা যাবে না তাকে।

শেষ হলো এক বর্ণাঢ্য অধ্যায়

২০০৩ সালে পর্তুগাল জাতীয় দলে অভিষেক হয় রোনালদোর। দেশের জার্সিতে ২৩৪ ম্যাচে ১৪৬ গোল করেছেন তিনি; দুটিই ছেলেদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে বিশ্বরেকর্ড। জিতেছেন একটি ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ ও দুটি উয়েফা সালের নেশন্স লিগের শিরোপা। 

Ronaldo

আন্তর্জাতিক ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ফুটবলার ও সর্বোচ্চ গোলদাতা রোনালদো। ছবি : রয়টার্স

বিদায়ের ঘোষণায় রোনালদো বলেছেন, ‘এটি সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না। কারণ, কিছু সিদ্ধান্ত শুধু মাথা দিয়ে নেওয়া যায় না, হৃদয় দিয়েও নিতে হয়। পর্তুগাল সব সময় আমার জীবনের অংশ হয়ে থাকবে।’

জিবি নিউজ24ডেস্ক//

gbn

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন