যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সমাজতন্ত্র নিয়ে উদ্বিগ্ন ভোটাররা, নতুন জরিপে ডিএসএ নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব

প্রতিবেদক: এমডি নাসির, নিউ জার্সি (যুক্তরাষ্ট্র) নিউইয়র্ক, 
যুক্তরাষ্ট্রের ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডেমোক্রেটিক পার্টির বামপন্থী রাজনৈতিক অবস্থান এবং সমাজতান্ত্রিক আদর্শ নিয়ে ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে দোদুল্যমান ভোটারদের (Swing Voters) মনোভাব নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
নিউইয়র্ক পোস্টের ২৬ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমেরিকানস ফর প্রসপারিটি (AFP) পরিচালিত নতুন এক জরিপে ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা (DSA) এবং ডেমোক্রেটিক পার্টির বামপন্থী রাজনৈতিক প্রবণতা নিয়ে ভোটারদের নেতিবাচক মনোভাব বৃদ্ধির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
জরিপে কী উঠে এসেছে?
জরিপের ফলাফল অনুযায়ী—
৫৬ শতাংশ উত্তরদাতা ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা (DSA) সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। সেপ্টেম্বরে এই হার ছিল ৫০ শতাংশ।
প্রায় ৬০ শতাংশ উত্তরদাতার ধারণা, ডেমোক্রেটিক পার্টি বর্তমানে অতি বামপন্থীদের দ্বারা প্রভাবিত। আগের জরিপে এই হার ছিল ৫০ শতাংশ।
৮২ শতাংশ উত্তরদাতা সরকারি নিয়ন্ত্রণের তুলনায় ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও মুক্তবাজার অর্থনীতিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
তবে জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় ডেমোক্র্যাটদের প্রতি আস্থা বেশি। ৪৫ শতাংশ উত্তরদাতা এ ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের ওপর আস্থা রেখেছেন, যেখানে রিপাবলিকানদের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন ৩৬ শতাংশ।
জরিপে ১ থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত আটটি অঙ্গরাজ্যের ৮১ হাজার ৬৭৩ জন ভোটারের মতামত নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য কি সুযোগ তৈরি হচ্ছে?
ডেমোক্রেটিক পার্টির বামপন্থী অংশের প্রতি অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে রিপাবলিকানরা দোদুল্যমান ও মধ্যপন্থী ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করতে পারে। বিশেষ করে সমাজতন্ত্র, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, সরকারি নিয়ন্ত্রণ এবং মুক্তবাজার অর্থনীতি নিয়ে বিতর্ক নির্বাচনী প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
তবে শুধু সমাজতন্ত্রবিরোধী বক্তব্য দিয়ে রিপাবলিকানদের নির্বাচনী সুবিধা নিশ্চিত হবে না। জীবনযাত্রার ব্যয়, বাড়িভাড়া, খাদ্যপণ্যের দাম ও স্বাস্থ্যসেবার খরচ ভোটারদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জরিপে জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের চেয়ে এগিয়ে থাকায় রিপাবলিকানদের জন্যও চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
৩ নভেম্বরের নির্বাচন কেন গুরুত্বপূর্ণ?
আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই প্রধান দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। দোদুল্যমান ভোটারদের সিদ্ধান্ত বিভিন্ন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে ফলাফল নির্ধারণ করতে পারে।
সব মিলিয়ে, নতুন জরিপটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ডেমোক্রেটিক পার্টির বামপন্থী রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কিছু ভোটারের উদ্বেগ বাড়ছে। তবে নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত কোন দল সুবিধা পাবে, তা নির্ভর করবে ভোটারদের অর্থনৈতিক উদ্বেগ, প্রার্থীদের নীতি এবং নির্বাচনী প্রচারণার ওপর।

gbn

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন