অহংকারের শেষ ঠিকানা মাটির ঘর

প্রতিবেদক: এমডি নাসির, নিউ জার্সি (যুক্তরাষ্ট্র)//
মানুষের জীবন বড়ই ক্ষণস্থায়ী। অথচ এই ক্ষণিকের জীবনে আমরা কত অহংকার করি, কত ক্ষমতার দাপট দেখাই, কত অর্থ-সম্পদের মালিক হয়ে অন্য মানুষকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করি! ভুলে যাই, আজ যে রাজপ্রাসাদে বসে নিজেকে অপরাজেয় মনে করছি, কাল হয়তো সেই আমাকেই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে যেতে হবে।
অহংকারের রঙিন মুখোশ একদিন ধুলায় মিশে যাবে। ক্ষমতার মুকুট, অর্থের পাহাড়, বিলাসবহুল বাড়ি কিংবা মানুষের প্রশংসা—কোনোটিই মৃত্যুর দরজা পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে যাবে না। রাজা হোক কিংবা ভিখারি, ধনী হোক কিংবা গরিব—মৃত্যুর কাছে সবাই সমান। কারও পরিচয়, পদবি কিংবা সম্পদের জৌলুস সেখানে কোনো বিশেষ সুবিধা দিতে পারে না।
মানুষ খালি হাতে পৃথিবীতে আসে, আবার খালি হাতেই পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়। মাঝখানের এই অল্প সময়টুকুই আমাদের জীবন। এই সময়ে কেউ ভালোবাসা বিলিয়ে যায়, কেউ মানুষের উপকার করে স্মরণীয় হয়ে থাকে, আবার কেউ অহংকার আর ক্ষমতার দম্ভে মানুষের হৃদয়ে ঘৃণার জন্ম দেয়।
জীবনের প্রকৃত সার্থকতা কত টাকা জমালাম, কত বড় পদ পেলাম কিংবা কত মানুষকে নিজের সামনে মাথা নত করালাম—তার মধ্যে নয়। প্রকৃত সার্থকতা হলো, আমার কারণে কত মানুষের মুখে হাসি ফুটেছে, কত অসহায় মানুষ সাহায্য পেয়েছে, আর আমার চলে যাওয়ার পর কতজন ভালোবেসে আমাকে স্মরণ করবে।
মনে রাখতে হবে, পৃথিবী কারও চিরস্থায়ী ঠিকানা নয়। আজ যে মানুষটি অন্যকে ছোট করে দেখছে, কাল সে নিজেও সময়ের কাছে অসহায় হয়ে পড়তে পারে। সময় কখনো একই জায়গায় থাকে না, আর মানুষের ভাগ্যও চিরকাল এক রকম থাকে না।
তাই অহংকার নয়, বিনয়কে সঙ্গী করুন। ঘৃণা নয়, ভালোবাসা ছড়িয়ে দিন। ক্ষমতার অপব্যবহার নয়, মানুষের সেবা করুন। কারণ মানুষের প্রকৃত পরিচয় তার সম্পদে নয়, তার চরিত্রে; তার পদমর্যাদায় নয়, তার মানবিকতায়।
শেষ পর্যন্ত সবাইকে মাটির ঘরেই ফিরতে হবে। সঙ্গে যাবে না রাজমুকুট, থাকবে না সম্পদের হিসাব—থেকে যাবে শুধু মানুষের জন্য করা ভালো কাজ আর ভালোবাসার স্মৃতি।
আসুন, অহংকারের রঙিন মুখোশ খুলে মানুষকে মানুষ হিসেবে সম্মান করতে শিখি। কারণ জীবনের শেষ হিসাবের দিন ধন-সম্পদের চেয়ে মানবিকতার মূল্যই অনেক বড়।
মনে রাখবেন—জন্মের সময় হাত শূন্য ছিল, বিদায়ের সময়ও হাত শূন্যই থাকবে। মাঝখানের সময়টুকুতে মানুষ হয়ে বাঁচতে পারাটাই জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।

gbn

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন