সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সায়েম ||
মৌলভীবাজারে ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর নিয়মিত বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও ব্যবসায়ীরা। সামান্য বৃষ্টি হলেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে একদিকে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেমে এসেছে চরম হতাশা।
সন্ধ্যা নামলেই বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার বিঘ্ন ঘটেছে। পরীক্ষার প্রস্তুতি, নিয়মিত পড়ালেখা ও বাড়ির কাজ সম্পন্ন করতে গিয়ে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাদের। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার কারণে অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে পড়ার টেবিল ছেড়ে বসে থাকছে। এতে তাদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। এবং পড়ালেখায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে, বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহে মৌলভীবাজারের ব্যবসায়ী মহলেও হতাশা বিরাজ করছে। সন্ধ্যার পর দোকানপাট ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুত না থাকায় বেচাকেনা ও স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। কম্পিউটার, ফটোকপি, অনলাইন সেবা, ওয়ার্কশপসহ বিদ্যুৎনির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলোকে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। বিকল্প বিদ্যুৎব্যবস্হা চালু রাখতে অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের, যা তাঁদের আর্থিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিয়য় হলো, সামান্য বৃষ্টি হলেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ। বৃষ্টির সঙ্গে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার এ প্রবণতা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই যদি বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে বর্ষা মৌসুমে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, এমন প্রশ্নও তুলেছেন অনেকে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে বাসাবাড়ির দৈনন্দিন কার্যক্রম, শিশু ও বয়স্কদের স্বাভাবিক জীবন যাপন এবং বিভিন্ন জরুরি কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। প্রচন্ড গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষের দুর্ভোগ কয়েক গুণ বেড়ে যাচ্ছে।
এ অবস্থায় মৌলভীবাজারের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্হার উন্নয়ন, ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। বিশেষ করে সন্ধ্যার সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সামান্য বৃষ্টিতে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সমস্যা স্হায়ীভাবে সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তাঁরা।
সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, মৌলভীবাজারের বিদ্যুৎ সমস্যার দ্রুত সমাধান করে শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে পড়ালেখার পরিবেশ ফিরিয়ে দেওেয়া এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বাভাবিক গতি নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন