যে ১০ সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার সিনেমা না দেখলেই নয়

অ্যাকশন বা হরর ছাড়াও যেকোনো চলচ্চিত্র দর্শককে থ্রিল দিতে পারে, তার বড় প্রমাণ সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার বা মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার। এই ধারার সিনেমার আসল পাওয়ার হলো মানুষের মনের জটিল জট খোলা।

এটি দর্শককে এমন এক পরিস্থিতিতে দাঁড় করায় যেখানে প্রশ্ন ওঠে—আসলে কাকে বিশ্বাস করা যায়? বিপদ কি বাইরের, নাকি সবটাই নায়কের মাথার ভেতরের খেলা? মানুষের মন নিয়ে খেলা করা এবং নিপুণ গল্প বলার কারণে এই চলচ্চিত্রগুলো দর্শকদের স্মৃতিতে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ রেখে যায়। 

 

দুর্দান্ত গল্প বলা, দুর্দান্ত অভিনয় আর মাথা ঘুরিয়ে দেওয়া টুইস্টের কারণে সিনেমাপ্রেমীদের দেখা উচিত এমনই ১০টি সেরা মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলারের তালিকা নিচে তুলে ধরা হলো। 

গন গার্ল : বিয়ে, মিডিয়া ও চরম বিষাক্ত সম্পর্কের ফাঁদ
অ্যামি নামের এক নারী তার পঞ্চম বিবাহবার্ষিকীতে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায়। আর তার স্বামী নিকের ওপর পড়ে সন্দেহের চোখ।

মিডিয়া দ্রুতই এ ঘটনাকে রিয়্যালিটি শো-তে রূপ দেয় এবং নিকের সামান্যতম ভুল আচরণ বা এক চিলতে হাসিকে বিকৃত করে তাকে খুনি বানিয়ে ফেলে। কিন্তু গল্পের মাঝপথে এসে উদঘাটিত হয় আসল সত্য—এটি নিখোঁজ হওয়ার গল্প নয়, বরং চরম ঠাণ্ডা মাথার এক প্রতিশোধের ফাঁদ। ভালোবাসা নয়, বরং একে অপরকে গভীরভাবে ঘৃণা করা এবং সমাজের সামনে নিজেদের ভাবমূর্তি ধরে রাখার জন্য দুটি মানুষ কিভাবে এক বিষাক্ত সম্পর্কের জালে আটকে থাকে, তা-ই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই সিনেমায়।

 

গেট আউট : দৈনন্দিন সামাজিকতার ভেতরে লুকিয়ে থাকা ফাঁদ
বান্ধবী রোজের অভিজাত পরিবারে বেড়াতে গিয়ে কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ ক্রিস মুখোমুখি হয় এক অস্বস্তিকর পরিবেশের।

চায়ের কাপে চামচের টুংটাং শব্দ, মানুষের রহস্যময় হাসি কিংবা অদ্ভুত আচরণ—বাস্তব জীবনের এই সাধারণ মুহূর্তগুলোকেই গল্পে ভয়ংকর অস্ত্র বানিয়ে ফেলা হয়েছে। সম্মোহন আর মানসিক ফাঁদ থেকে বেঁচে বের হওয়ার এই লড়াই আধুনিক থ্রিলারের এক অন্যতম সেরা ছবি।

 

দ্য গিফট : যখন ভদ্রতাই হয়ে ওঠে মানসিক কারাগার
সাধারণ একটি সামাজিক অস্বস্তি দিয়ে গল্পের শুরু। নতুন জীবন শুরু করা সাইমন ও রবিন দম্পতির জীবনে হঠাৎ আগমন ঘটে সাইমনের হাইস্কুল বন্ধু গর্ডোর। অতিরিক্ত বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের আড়ালে লুকিয়ে থাকা অতীত যখন সামনে আসে, তখন সাইমনের বিষাক্ত রূপ বেরিয়ে পড়ে।

গর্ডোর অদ্ভুত প্রতিশোধ সাইমনকে কোনো সমাধান দেয় না, বরং এক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে তাকে সবচেয়ে বড় মানসিক শাস্তি দেয়।

 

এনিমি : চেহারার হুবহু মিল ও পরিচয়ের সংকট
অ্যাডাম নামের এক ভীতু ও অন্তর্মুখী শিক্ষক হঠাৎ সিনেমায় নিজের হুবহু এক প্রতিরূপকে দেখতে পান, যার নাম অ্যান্টনি। বাহ্যিকভাবে এক হলেও ব্যক্তিত্বে তারা সম্পূর্ণ বিপরীত। দুজনের জীবনের এই মুখোমুখি সংঘর্ষে বাস্তবতা ও রূপকের সীমানা মুছে যায়। পরিচয় ও নিজের ভেতরের গোপন রূপকে মেনে নেওয়ার এই গল্প যেন এক অদ্ভূত দুঃস্বপ্নের মতো।

দ্য ইনভিজিবল ম্যান : বিষাক্ত সম্পর্ক ও অদৃশ্য আতঙ্কের গল্প
পুরোনো অদৃশ্য-মানুষের ধারণাকে আধুনিক নির্যাতনের গল্পে রূপ দিয়েছেন পরিচালক লি হোয়ানেল। অত্যাচারী সঙ্গীর ঘর থেকে পালিয়ে আসার পরও সিসিলিয়ার জীবন থেকে ভয় কাটে না। খালি ঘর, নীরবতা আর দরজার কোণগুলো প্রতিটি মুহূর্তে মনে করিয়ে দেয়—অদৃশ্য কেউ তার প্রতিটি পদক্ষেপে নজর রাখছে। কোনো সায়েন্স ফিকশন নয়, এটি আসলে বিষাক্ত সম্পর্কে আটকে থাকা মানুষের এক বাস্তব মনস্তাত্ত্বিক ভয়।

নকটার্নাল অ্যানিম্যালস : পাণ্ডুলিপির আড়ালে লুকানো তীব্র প্রতিশোধ
প্রাক্তন স্বামী এডওয়ার্ডের কাছ থেকে একটি পাণ্ডুলিপি পায় সুসান। বইটির পাতা খুলতেই সে প্রবেশ করে টেক্সাসের হাইওয়েতে ঘটে যাওয়া এক নির্মম ও নারকীয় গল্পের ভেতর। সুসানের বিলাসবহুল কিন্তু একঘেয়ে জীবনের পাশে উপন্যাসটির প্রতিটি পৃষ্ঠা হয়ে ওঠে অনুযোগ, স্বীকারোক্তি আর শাস্তির দলিল। কোনো ধরনের সশরীরে উপস্থিতি ছাড়াই কেবল অনুপস্থিতির মাধ্যমে জয়ী হওয়ার এক চরম শীতল প্রতিশোধের গল্প এটি।

শাটার আইল্যান্ড : সত্য ও অপরাধবোধের চরম দ্বন্দ্বে বেঁচে থাকা
মানসিক রোগীদের আশ্রমে নিখোঁজ এক রোগীর সন্ধানে যান তদন্তকারী টেডি ড্যানিয়েলস। তবে পুরো তদন্তের আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক করুণ বাস্তব। মূলত নিজের অতীত ও অপরাধবোধ থেকে বাঁচতেই টেডি এই তদন্তের জাল বুনেছিলেন। গল্পের শেষে সত্যকে গ্রহণ করার পরও অপরাধবোধ নিয়ে না বেঁচে নিজেকে হারিয়ে ফেলার সিদ্ধান্তটি দর্শককে স্তব্ধ করে দেয়।

দ্য হ্যান্ডমেইডেন : ছলনা আর অভিনয়ের মাধ্যমে স্বাধীনতা
ধনী লেডি হিদেকোকে প্রতারণা করে সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে তার পরিচারিকা হয়ে আসে সুক-হি। কিন্তু গল্প এগোতেই জানা যায়—আপনি যা দেখছেন, তার পুরোটাই মিথ্যা। প্রতিটি চরিত্রই মনে করে তারা অন্যকে ব্যবহার করছে, অথচ শেষ পর্যন্ত নারীরাই নিজেদের অভিনয়কে মুক্তিতে রূপান্তরিত করে। পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে নিজেদের জীবনের রচয়িতা হয়ে ওঠার এক নিখুঁত মনস্তাত্ত্বিক খেলা এটি।

প্রিজনার্স : সন্তানের খোঁজে একজন বাবার দানবে রূপান্তর
মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর একজন বাবা (কেলার) কতটা চরম সীমায় যেতে পারেন, তাই নিয়ে এই ছবি। ভালোবাসা, ভয় ও ধর্মের দোহাই দিয়ে কেলার এক সন্দেহভাজন যুবককে ধরে নিজেই অত্যাচার শুরু করে। কিন্তু সন্তানের জীবনের জন্য ব্যাকুল এই বাবা শেষ পর্যন্ত নিজেই এক দানবে পরিণত হয়। অন্যদিকে একজন তদন্ত কর্মকর্তার সত্যের পেছনে ছোটা—সব মিলিয়ে এটি অভিভাবকত্বের এক চরম হতাশার গল্প।

ব্ল্যাক সোয়ান : নিখুঁত হওয়ার অদম্য বাসনা ও নিজেকে ধ্বংস করা
শৈল্পিক নিখুঁত ভাব কীভাবে শারীরিক ও মানসিক আতঙ্কে রূপ নেয়, তা ফুটে উঠেছে বালরিনা নিনার চরিত্রে। ‘সোয়ান কুইন’ হওয়ার অদম্য চাপ, মায়ের শাসন আর প্রতিদ্বন্দ্বীর ভীতি নিনার ভেতরের বাস্তবের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেয়। নিখুঁত হওয়ার সংজ্ঞায় নিজেকে সঁপে দিতে গিয়ে ধীরে ধীরে উন্মাদনার অতলে তলিয়ে যাওয়ার এক অপূর্ব চিত্রায়ন এই সিনেমা।

জিবি নিউজ24ডেস্ক//

gbn

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন