ইরান যুদ্ধে নাকাল মার্কিন অর্থনীতিও, হিমশিম খাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরানকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া সংঘাত বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। এর প্রভাবে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেও। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত মাত্র সাত সপ্তাহে দেশটিতে গ্যাসোলিন বা অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি গ্যালনে ১ ডলার থেকে বেড়ে ৪ ডলার ছাড়িয়েছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে প্রায় তিন গুণ।

 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলার পর গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেল সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম দ্রুতই বেড়েছে। যদিও এই যুদ্ধকে ইরানের পারমাণবিক হুমকি মোকাবেলা এবং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেছে হোয়াইট হাউস। তবে দেশটিতে এর প্রভাব সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।

 

চলমান এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বাড়তি জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি, ভোক্তা আস্থার রেকর্ড নিম্নমুখী অবস্থান এবং যুদ্ধবিরোধী জনমত। ফলে এখন মার্কিন নাগরিকদের ক্রয়ক্ষমতা বা ‘অ্যাফোর্ডেবিলিটিই’ সবচেয়ে বড় উদ্বেগ বলে উল্লেখ করেছে বার্তা সংস্থা সিএনএন

কারণ চলতি বছরের নভেম্বরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। এর মধ্যে একদিকে নির্বাচনী প্রচার, অন্যদিকে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের এলোমেলো বক্তৃতায় নিজের দল রিপালিকানসহ উদ্বেগ দেখা দিয়েছে বিশ্ব অঙ্গনে।

 

এ বিষয়ে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইদ খতিবজাদেহও মন্তব্য করেছেন। সাম্প্রতিক তিনি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘একটু বেশিই কথা বলেন’।

তবে চলমান কয়েকটি যুদ্ধবিরতির পর আবারও কমতে শুরু করেছে তেলের দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ‘ব্রেন্ট ক্রুডের’ দাম ৯ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯০ দশমিক ৩৮ ডলারে নেমে আসে। এটি গত ১০ মার্চের পর থেকে সর্বনিম্ন।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আরেক সূচক ডাউ জোনস ৮৬৯ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর সূচকটির যে পতন হয়েছিল, তা পুরোটাই পুষিয়ে নিয়েছে।

 

এসবের মধ্যেই দীর্ঘ ৫০ দিনের যুদ্ধে কিভাবে হরমুজ প্রণালির কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়া বৈশ্বিক অর্থনীতিকে গ্রাস করেছিল—তার একটি কালানুক্রমিক বিবরণ প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা সিএনএন। যা নিম্নে কালের কণ্ঠের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো—

২৭ ফেব্রুয়ারি : মার্কিন ‘আধিপত্য’ নিয়ে ট্রাম্পের বড়াই

কোনো ধরনের প্রকাশ্য ইঙ্গিত ছাড়াই ইরানের ওপর হামলার নির্দেশ দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। পরে টেক্সাসে এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, জ্বালানির খরচ কমানোর জন্য এটি তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

২৮ ফেব্রুয়ারি : ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু

হামলা শুরুর প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত হন। পরে ইরানি জনগণের জন্য তাদের দেশ পুনরুদ্ধারের সর্বশ্রেষ্ঠ ‘সুযোগ’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে আত্মসমর্পণ করতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-কেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

এর পরপরই হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে প্রথম সতর্কবার্তা দিয়ে আইআরজিসি গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিটি বন্ধ করে দেয়।

১ মার্চ : বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট শুরু

চারটি জাহাজে হামলা ও দুজনের মৃত্যুর পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল নাটকীয়ভাবে কমে যায়। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। তবে ট্রাম্প সামরিক হুমকি দিলেও জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা সম্পর্কে কিছুই বলেননি।

২ মার্চ : আনুষ্ঠানিকভাবে হরমুজ বন্ধ, তেলের দামে উল্লম্ফন

আইআরজিসি হরমুজ প্রণালি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। এদিন কাতার তরল প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রথমবারের মতো ‘অর্থনৈতিক সংকটের’ বিষয়টি স্বীকার করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

৩ মার্চ : হরমুজ নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের হুমকি

কিছুদিনের জন্য তেলের দাম কিছুটা ‘বেশি’ থাকতে পারে বলে জানান ট্রাম্প। প্রণালিটি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য প্রয়োজনে মার্কিন নৌবাহিনীর সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

৪ মার্চ : জ্বালানি সরবরাহের আশ্বাস

ট্রাম্প প্রশাসন কয়েক মাস ধরে এই পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিল বলে জানান মার্কিন অর্থসচিব স্কট বেসেন্ট। একই সঙ্গে দেশটির জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট দাবি করেন, শীঘ্রই জ্বালানি সরবরাহ শুরু হবে।

৫ মার্চ : যুক্তরাষ্ট্র জরুরি ছাড়পত্র জারি

সমুদ্রে থাকা রুশ তেল কেনার জন্য ভারতকে ৩০ দিনের ছাড় দেয় মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট। এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, তেল প্রায় ‘স্থিতিশীল’।

৬ মার্চ : ইরানের ‘শর্তহীন’ আত্মসমর্পণের হুঁশিয়ারি

ট্রাম্প বলেন, ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ ছাড়া ইরানের সাথে কোনো চুক্তি হবে না! এ ছাড়া মার্কিন প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কেভিন হ্যাসেট কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান।

৭ মার্চ : হরমুজ চালুর দাবি

ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তিনি গ্যাসের দাম নিয়ে ‘চিন্তিত নন’। তিনি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালিতে আর কোনো ‘বাধা নেই’। যুদ্ধ শুরুর পর এদিন প্রথমবারের মতো মার্কিন গ্যাসের দাম ৪০ সেন্ট বেড়ে গ্যালনপ্রতি ৩.৪১ ডলারে পৌঁছেছে।

৮ মার্চ : উচ্চ তেলের দামকে ‘খুব অল্প মূল্য’ বলে আখ্যা দেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে যারা ভিন্নমত পোষণ করেন তাদের ‘বোকা’ বললেন তিনি।

৯ মার্চ : বাজারে প্রভাব

ট্রাম্পের আশাবাদী মন্তব্যে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১২০ ডলার থেকে নেমে ৯৮ ডলারে আসে। এরপর তিনি প্রথমবার সরাসরি হুমকি দেন, ইরান তেল প্রবাহ বন্ধ করলে ‘২০ গুণ’ কঠিন আঘাত হানবেন।

১০ মার্চ : প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা

মার্কিন জ্বালানি সচিব রাইট দাবি করেছিলেন, ইউএস নৌবাহিনীর সহায়তায় একটি ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে। যদিও এর কিচুক্ষণ পরে টুইটটি মুছে ফেলা হয়। তবে এর পরেই হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করে যে, এখন পর্যন্ত কোনো জাহাজ হরমুজ পারাপার করেনি।

১১ মার্চ : স্বল্পমেয়াদি কষ্ট

ট্রাম্প মিথ্যা দাবি করেন, ‘তেলের দাম ইতিমধ্যে কমে আসছে।’ তার কথার সঙ্গে তাল মিলিয়ে মার্কিন জ্বালানি সচিব স্বীকার করেন, জনগণকে ‘স্বল্পমেয়াদী কষ্ট’ সহ্য করতে হবে।

১২ মার্চ : নীতি পরিবর্তন

যুদ্ধের কারণে সাগরে অপেক্ষমান জাহাজগুলোর উদ্দেশে ‘সাহস দেখাতে’ বললেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে রুশ তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও শিথিল করে মার্কিন ট্রেজারি।

১৩ মার্চ : খারগ দ্বীপ নিয়ে হুঁশিয়ারি

এদিন প্রথমবারেরে মতো ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চল খারাগ দ্বীপে ব্যাপক বোমা হামলার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন ‘সৌজন্যবশত’ তেল অবকাঠামো ধ্বংস করেননি।

১৪ মার্চ : মিত্রদের দুষলেন ট্রাম্প

মিত্র দেশগুলোকে দোষারোপ করে চীন ও জাপানের ওপর নিজেদের জাহাজ পাঠানোর জন্য চাপ দেন ট্রাম্প।

১৫ মার্চ : ন্যাটোর সহায়তা চাইলেন ট্রাম্প

এদিন যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম ২৪ শতাংশ বেড়ে গ্যালনপ্রতি ৩.৭০ ডলারে পৌঁছেছে। ফলে এ অবস্থায় হরমুজ প্রণালী সুরক্ষিত করতে অন্যান্য দেশের সাহায্যের দাবি জানিয়েছেন ট্রাম্প। বিশেষ করে ন্যাটোর কথা উল্লেখ করে হরমুজ প্রণালির বিষয়ে মিত্রদের সাহায্যের কথা জানান তিনি।

১৬ মার্চ : তেল ঘাটতির হিসাব

মার্কিন অর্থসচিব বেসেন্ট স্বীকার করেন, বৈশ্বিক তেলের ঘাটতি দৈনিক ১০-১৪ মিলিয়ন ব্যারেল।

১৭ মার্চ : জোট ভাঙার ইঙ্গিত

মার্কিন সামরিক অভিযানে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর ন্যাটোকে ‘একেবারেই কিছু না’ বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প।

একই সঙ্গে মার্কিন বন্দরগুলোতে বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজকে জ্বালানি পরিবহনের অনুমতি দিতে ৬০ দিনের জন্য ছাড়পত্র জারি করা হয়েছে।

১৮ মার্চ : হরমুজ পরিত্যাগের ইঙ্গিত

ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো ইরানকে ‘শেষ করে দেবে’ এবং প্রণালিটির দায়িত্ব ব্যবহারকারী দেশগুলোর ওপর ছেড়ে দেবে।

একই সঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সতর্ক করে বলেন, ‘আমাদের সামনে কয়েক সপ্তাহের জন্য একটি কঠিন পথ রয়েছে, তবে এটি অস্থায়ী।’

১৯ মার্চ : বিজয়ের দাবি ট্রাম্পে

ট্রাম্প ভেবেছিলেন অর্থনৈতিক আঘাত বাস্তবে যা ঘটেছে তার চেয়ে আসলে আরও অনেক ‘বেশি খারাপ’ হবে। তাই তিনি ঘোষণা করেন, ‘আমরা বিশালভাবে জিতছি!’

২০ মার্চ : পিছু হটলেন ট্রাম্প

ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট সমুদ্রে থাকা ইরানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়—যা ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর সময় নেওয়া ‘সর্বোচ্চ’ কৌশলের ঠিক বিপরীত। এতে ইরানের জন্য আর্থিক সুবিধা তৈরি হয়।

২১ মার্চ : ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম

হরমুজ প্রণালি খোলার জন্য ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন ট্রাম্প । অন্যথায় দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংসের হুমকি দেন।

২২-২৩ মার্চ : আলটিমেটাম থেকে সরে দাঁড়ালেন ট্রাম্প

আকস্মিকভাবে হামলা পাঁচ দিনের জন্য পিছিয়ে দেন ট্রাম্প। এই ঘোষণার পর বিশ্ব বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ১১ শতাংশ কমে ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে।

২৪-২৫ মার্চ : যুদ্ধবিরতি, ক্ষতিপূরণ ও নীতিমালা

হরমুজ প্রণালি পারাপারের নতুন নিয়ম প্রণয়ন শুরু করে ইরান। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে ক্ষতিপূরণ ও প্রণালির ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণের স্বীকৃতি দাবি করে।

২৬ মার্চ : ট্রাম্প হামলার সময়সীমা আবার পিছিয়ে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত করেন। প্রযুক্তিনির্ভর শেয়ারবাজার নাসডাক ২.৪ শতাংশ পড়ে যায়।

২৭ মার্চ : হরমুজের নাম পরিবর্তন

হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তন করে ‘স্ট্রেইট অব ট্রাম্প’ রাখার বিষয়ে রসিকতা করেন ট্রাম্প। সেক্রেটারি রুবিও ইরানের নিয়ন্ত্রণকে একটি কাল্পনিক বিষয় হিসেবে তুলে ধরেন, যার ‘অস্তিত্ব থাকতেও দেয়া যায় না।’

এর পরপরই ডাউ সূচক কামে তেলের দাম আবারও বেড়ে গেছে।

২৮ মার্চ : ইরান যুদ্ধে হুতি যোদ্ধাদের যোগদান

ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে যুদ্ধে প্রবেশ করে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। একই দিন বাছাইকৃত নিয়ন্ত্রণের একটি অংশ হিসেবে ইরান ২০টি পাকিস্তানি পতাকাবাহী জাহাজকে যাতায়াতের অনুমতি দেয়।

২৯ মার্চ : খারগ দ্বীপ দখলের হুঁশিয়ারি

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে ট্রাম্প জানান, তিনি ইরানের তেল নিতে চান এবং ভেনেজুয়েলা কৌশলের মতো খারাগ দ্বীপ ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য’ দখল করতে চান।

৩০ মার্চ : ডিসালিন্যাশন প্ল্যান্টে হামলার হুমকি

ট্রাম্প হুমকি দেন, হরমুজ প্রণালি শিগগির খুলে না দিলে ইরানের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানি বিশুদ্ধকরণ (ডিসালিন্যাশন) প্ল্যান্ট ধ্বংস করে দেবেন।

৩১ মার্চ : ট্যাংকারে ড্রোন হামলা

কুয়েতি ট্যাংকারে ইরানি ড্রোন হামলার পর মার্কিন গ্যাসের দাম ২০২২ সালের পর প্রথমবার গ্যালনপ্রতি ৪ ডলার ছাড়িয়ে যায়।

১ এপ্রিল : হরমুজ পরিত্যাগ করলেন ট্রাম্প

ট্রাম্প টিভি ভাষণে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো তেলই আমদানি করে নাই। ফলে এই প্রণালিটিরে নেতৃত্ব মিত্রদের নিতে হবে বলেও জানান তিনি।

২ এপ্রিল : জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি

গ্যাসের দাম ৪.০৮ ডলারে পৌঁছেছে যা যুদ্ধ শুরুর পর প্রায় ৩৭ শতাংশ বৃদ্ধি। এই সঙ্গে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ৮ শতাংশ বেড়ে ১০৯ ডলার হয়।

এদিন ফ্রান্সের ম্যাক্রোঁ ট্রাম্পের আহ্বান ‘অবাস্তব’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন।

৩ এপ্রিল : এফ-১৫ ভূপাতিত

ইতিহাসে ২০ বছরের মধ্যে এই প্রথম শত্রুর গুলিতে যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়। এতে একজন ক্রু নিখোঁজ হন।

৪ এপ্রিল : ঝুঁকিপূর্ণ উদ্ধার অভিযান

নিখোঁজ ক্রু উদ্ধারের জন্য মার্কিন বাহিনী একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ উদ্ধার অভিযান চালিয়েছে। যদিও শেষ পর্যন্ত তাদের এই অভিযান সফল হয়। ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, সংঘাত বাড়লে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ‘নরকের’ মুখোমুখি হতে হবে।

৫ এপ্রিল : হরমুজ খুলতে ফের আল্টিমেটাম

নিখোঁজ ক্রু উদ্ধারের পর ইরানকে আবারও আল্টিমেটাম দেন ট্রাম্প। তবে ইরানি কর্মকর্তারা ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘চরম হতাশা ও ক্ষোভ’ আখ্যা দেন।

৭ এপ্রিল : যুদ্ধবিরতি ও তেলের দাম ধ্বস

ইরানের সাথে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন ট্রাম্প। এই ঘোষণার পরপরই বিশ্ব বাজারে তেলের দামে বড় ধরনের ধসে পড়ে এবং মুহূর্তেই বাজারে শেয়ারের দাম বেড়ে যায়।

৮-৯ এপ্রিল : ইসলামাবাদে আলোচনার প্রস্তুতি

ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরানের সাথে আলোচনার জন্য একটি দল পাঠানোর ঘোষণা দেন ট্রাম্প।

১০ এপ্রিল : তেলের ধাক্কা মার্কিন মূল্যস্ফীতিতে

ইরান যুদ্ধের জেরে জ্বালানি দাম বাড়ায় চলতি বছরের মার্চ মাসের মূল্যস্ফীতি ফেব্রুয়ারির তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেড়েছে।

১১ এপ্রিল : ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুদ্ধবিরতির আলোচনা শেষে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের জানান, ইসলামাবাদে ইরানের সাথে কোনো চুক্তি হয়নি। এ ঘোষণার পর শেয়ারবাজারে শেয়ারের দাম ফের বেড়ে যায়।

১২-১৮ এপ্রিল : সর্বশেষ অবস্থা

হরমুজ প্রণালিতে পুনরায় বিধিনিষেধ আরোপ করার পর ইরানি গানবোট একটি ট্যাংকারে গুলি চালায়। যদিও এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধবিরতির বাকি সময়টুকুর জন্য হরমুজ প্রণালি সব বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত।

এদিকে ট্রাম্প বলেন, পূর্ণাঙ্গ চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত হরমুজে নৌ অবরোধ বহাল থাকবে। এতে তেলের দাম ১৩ শতাংশ কমে ব্রেন্ট ক্রুড ৯০ ডলারের নিচে নেমে আসে। ডাউ ১ হাজার পয়েন্টের বেশি বেড়ে যায়। এতে ইরান যুদ্ধ শুরুর পরের কিছুটা লোকসান পুষিয়ে নেয় ব্যবসায়ীরা।

জিবি নিউজ24ডেস্ক//

gbn

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন