ইরান যুদ্ধের খরচ আরবদেশগুলোর ওপর চাপাতে চান ট্রাম্প

gbn

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের ব্যয় বহনে আরবদেশগুলোর কাছে আহ্বান জানাতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস এমন ইঙ্গিত দিয়েছে। যুদ্ধের ব্যয় দ্রুত বেড়ে চলায় এমন সম্ভাবনা সামনে এসেছে।

উপসাগরীয় যুদ্ধের (১৯৯০) সময় যেমন মার্কিন মিত্ররা সামরিক ব্যয়ের অংশ বহন করেছিল।

এবারও আরব রাষ্ট্রগুলোকে খরচ বহনের আহ্বান জানানো হতে পারে পারে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লিভিট সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট এ বিষয়ে তাদের আহ্বান জানাতে পারেন। এমন পরিকল্পনা তার মাথায় রয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে আরো শোনা যাবে।’

 

উপসাগরীয় যুদ্ধে (১৯৯০) কুয়েতে ইরাকের আগ্রাসন প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে একটি বৈশ্বিক জোট গঠিত হয়েছিল।

ওই সময় জার্মানি ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশ প্রায় ৫৪ বিলিয়ন ডলার (বর্তমান মূল্যে প্রায় ১৩৪ বিলিয়ন ডলার) সংগ্রহ করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয়ের অংশ বহন করেছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন। এবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিত্র দেশ ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর অংশগ্রহণ ছাড়াই একতরফাভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়েছে।

 

এদিকে ট্রাম্পঘনিষ্ঠ ডানপন্থী ভাষ্যকার শন হ্যানিটি সম্প্রতি বলেন, সম্ভাব্য যেকোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানকে যুদ্ধের পুরো খরচ পরিশোধ করতে বাধ্য করা উচিত।

তার মতে, ‘এই সামরিক অভিযানের সম্পূর্ণ ব্যয় ইরানকে তেলের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে পরিশোধ করতে হবে।’ অন্যদিকে ইরান উল্টো যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। তেহরানের দাবি, কূটনৈতিক আলোচনার মাঝেই তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং তারা যুক্তরাষ্ট্র বা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য কোনো হুমকি ছিল না।

 

মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। যদিও ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, তারা মূলত অঞ্চলে মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

তবে বিভিন্ন উপসাগরীয় দেশে হোটেল, বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামোর মতো বেসামরিক স্থাপনাও হামলার শিকার হয়েছে।

 

যুদ্ধের ব্যয়ও দ্রুত বেড়ে চলেছে। মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ছয় দিনে যুদ্ধের খরচ ছিল ১১.৩ বিলিয়ন ডলার, যা ১২তম দিনে বেড়ে দাঁড়ায় ১৬.৫ বিলিয়ন ডলারে। বর্তমানে ৩১তম দিনে এই ব্যয় আরো অনেক বেশি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে হোয়াইট হাউস কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত অন্তত ২০০ বিলিয়ন ডলার সামরিক বাজেট অনুমোদনের অনুরোধ জানিয়েছে, যা ইরানে চলমান সামরিক অভিযান পরিচালনা এবং পেন্টাগনের অস্ত্রভাণ্ডার পুনরায় পূরণে ব্যয় করা হবে।

অন্যদিকে, ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় মূল্য বেড়ে ৩.৯৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় এক ডলারেরও বেশি। তবে হোয়াইট হাউসের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধি সাময়িক। ক্যারোলিন লিভিট বলেন, ‘এগুলো স্বল্পমেয়াদি মূল্য ওঠানামা। ইরানের হুমকি মোকাবেলার দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’

জিবি নিউজ24ডেস্ক//

gbn

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন